গ্রীন কনস্ট্রাকশন বা সবুজ নির্মাণ হলো এমন এক পরিকল্পনা ও নির্মাণ প্রক্রিয়া যা ভবনের সম্পূর্ণ জীবনচক্র জুড়ে (নকশা, নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার) পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে। এর মূল লক্ষ্য হলো লো পরিবেশ পরিবেশ রক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো।
LEED সার্টিফিকেশন ও এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসমূহ
LEED (Leadership in Energy and Environmental Design) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (USGBC) কর্তৃক প্রবর্তিত একটি বৈশ্বিক রেটিং সিস্টেম, যা পরিবেশবান্ধব ভবনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এর প্রধান মানণ্ডসমূহ নিচে উপস্থাপন করা হলো
১. টেকসই স্থান (Sustainable Sites - SS):
- মানদণ্ডটি ভবনের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আশেপাশের পরিবেশের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করে।
- প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান ও কৃষি জমি রক্ষা করে নির্মাণ কাজ করা।
- নির্মাণস্থলে মাটির ক্ষয় রোধ এবং পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা।
- গণপরিবহন ব্যবস্থার নিকটবর্তী স্থানে ভবন নির্মাণ করা যাতে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমে।
২. পানির সাশ্রয় (Water Efficiency - WE)
- ভবনের ভেতরে ও বাইরে পানির অপচয় রোধ এবং দক্ষ ব্যবহারের ওপর এটি জোর দেয়।
- বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও এর পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- অত্যাধুনিক প্লাম্বিং ফিক্সচার ব্যবহারের মাধ্যমে পানির ব্যবহার ৩০-৪০% কমিয়ে আনা।
- বাগানে বা ল্যান্ডস্কেপিংয়ে পানির ব্যবহার কমানোর জন্য আধুনিক সেচ ব্যবস্থা চালু করা।
৩. জ্বালানি ও বায়ুমণ্ডল (Energy and Atmosphere)
- এটি LEED-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড, যা ভবনের জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ) ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রিড বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানো।
- বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি, লাইট এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করা।
- ওজোন স্তর ক্ষয়কারী সিএফসি (CFC) গ্যাসের ব্যবহার পরিহার করা।
৪. উপাদান ও সম্পদ:
- নির্মাণ সামগ্রী নির্বাচন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর এই মানদণ্ডটি কাজ করে।
- পরিবেশবান্ধব ও পুনব্যবহৃত (জবপুপষবফ) নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা।
- নির্মাণকালীন বর্জ্য কমিয়ে আনা এবং তা রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করা।
- পরিবহন খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সামগ্রীকে প্রাধান্য দেওয়া
৫. অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মান:
- ভবনের অভ্যন্তরে বসবাসকারীদের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এর লক্ষ্য।
- প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
- ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা উদ্বায়ী জৈব যৌগ (VOC) বিহীন রঙ ও আঠা ব্যবহার করা।
- ঘরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের উন্নত ব্যবস্থা রাখা।
৬. উদ্ভাবন ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকার:
- ভবনের নকশা বা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব কোনো নতুন। প্রযুক্তির ব্যবহার।
- নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!