উত্তরঃ

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মিঠা পানির চক্র ও বাস্তুসংস্থানে আমূল ও নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে:

  • হিমবাহ গলন ও জলতাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা: বিশ্বের ৯৯% মিঠা পানির উৎস হলো বরফ। উষ্ণায়নে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় শুরুতে বন্যা দেখা দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে নদীগুলো নাব্য হারিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
  • লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ (Salinity Intrusion): সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় উপকূলীয় মিঠা পানির উৎসগুলোতে নোনা পানি ঢুকে পড়ছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানীয় জলের তীব্র সংকট এবং কৃষিজমি ধ্বংস হওয়ার এটিই প্রধান কারণ।
  • পানির তাপমাত্রার বৃদ্ধি ও অক্সিজেন হ্রাস: পানির তাপমাত্রা বাড়লে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (DO) পরিমাণ কমে যায়। এতে জলজ প্রাণীর শ্বাসকষ্ট হয় এবং বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
  • জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব: উষ্ণ পানি বিভিন্ন ক্ষতিকর শৈবাল ও ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়, যা কলেরা, টাইফয়েড ও ত্বকের রোগের বিস্তার ঘটায়।
  • ভূগর্ভস্থ পানির সংকট: তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূ-পৃষ্ঠের পানির বাষ্পীভবন হার বেড়ে যায়, যা সেচ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নামিয়ে দেয়।
উত্তরঃ

ভূমিকা: পরিবেশের ভারসাম্য হলো প্রকৃতি ও জীবের মধ্যকার একটি সুসংগত স্থিতিশীল অবস্থা। জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান দূষণের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে বর্তমানে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর আইনি কাঠামোর প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা: পরিবেশ রক্ষার প্রধান উপায় হলো বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ করা। কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পকারখানা থেকে নির্গত কার্বন সরাসরি শুষে নিয়ে মাটির গভীর স্তরে বা সমুদ্রের নিচে স্থায়ীভাবে জমা করা হয়। এটি বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সরাসরি বাধা দেয়। পাশাপাশি ব্যাপক বনায়ন এই কার্বনকে প্রাকৃতিকভাবে শুষে নিয়ে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • সবুজ জ্বালানি ও ডিকার্বোনাইজেশন: জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা ও তেলের দহনই গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রধান উৎস। এর বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও পারমাণবিক বিদ্যুতের মতো সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পরিবহন ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিন বা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের প্রবর্তন বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে।
  • সার্কুলার ইকোনমি ও ৩আর (3R) নীতি: প্রচলিত 'ব্যবহার ও বর্জন' নীতির পরিবর্তে চক্রাকার অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমি অনুসরণ করা প্রয়োজন। এখানে ৩আর (Reduce, Reuse, Recycle) নীতি মেনে বর্জ্যকে পুনরায় কাঁচামালে রূপান্তর করা হয়। এটি প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় কমায় এবং মাটি ও পানির দূষণ রোধ করে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বা জৈব সার উৎপাদন এই প্রক্রিয়ার অন্যতম সফল উদাহরণ।
  • বাস্তুসংস্থান ও ব্লু-কার্বন সুরক্ষা: ম্যানগ্রোভ বন, জলাভূমি ও সামুদ্রিক শৈবাল সাধারণ বনের চেয়ে বহুগুণ বেশি কার্বন ধরে রাখতে সক্ষম, যাকে 'বু-কার্বন' বলা হয়। সুন্দরবনের মতো বনভূমি রক্ষা এবং নদী-জলাশয় ভরাট বন্ধ করা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মৌলিক শর্ত। এই প্রাকৃতিক আধারগুলো কেবল কার্বন শোষণ করে না, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমনেও ভূমিকা রাখে।
  • আইন প্রয়োগ ও বর্জ্য শোধন প্রযুক্তি: পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর 'Polluter Pays Principle' অনুযায়ী কঠোর জরিমানা আরোপ এবং পরিবেশ আদালতের সক্রিয়তা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিটি শিল্পকারখানায় ইটিপি (ETP) এবং সিইটিপি (CETP) এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার আগে তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শোধন করলে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
41

বাস্তুসংস্থান (Ecology)

বেঁচে থাকার তাগিদে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব সম্প্রদায় ও জড় পরিবেশের মাঝে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে। জীব সম্প্রদায়ের সাথে পরিবেশের (Environment) অন্তঃসম্পর্কই হলো বাস্তুসংস্থান। বাস্তুসংস্থানের দুইটি উপাদান রয়েছে। যথা- জীব সম্প্রদায় এং জড় পরিবেশ। জড় পরিবেশই জীর সম্প্রদায়কে ধারণ করে রাখে। কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট পরিবেশে সঞ্জীৰ এবং নির্জীব উপাদানের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াকে বাস্ত্র গুহ (Ecosystem) বলে।

জীব উপাদান

জীবমন্ডল (Biosphere) হলো পৃথিবীর সমস্ত ইকোসিস্টেমের যোগফল। এটাকে বলা যেতে পারে পৃথিবীর জীবনের এলাকা। পৃথিৱীতে প্রাণের সূচনা হয় আনুমানিক ১০০ কোটি বৎসর আগে। জীবমন্ডলের বিস্তৃতি ওপরে-নিচে ২০ কি.মি. ধরা হলেও মূলত অধিকাংশ জীবনের অস্তিত্ব দেখা যায় হিমালয় শীর্মের উচ্চা থেকে ৫০০ মিটার নিচের সামুদ্রিক গভীরতার মধ্যেই। সমুদ্রতল থেকে ৮৩৭২ মিটার নিচে পুয়ের্টোরিকা ট্রেঞ্চে মাছ পাওয়া গেছে। পাখিরা সাধারণত ১৮০০ মিটার উঁচুতে উড়ে। রাপেল জাতীয় শকুন সমুদ্র তল থেকে ১১৩০০ মিটার উচুতে উড়তে পারে। জীবমণ্ডল প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- উদ্ভিদকুল (flora) এবং প্রাণিকুল (fanua)। উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী ও বিয়োজক জীবের মাধ্যমে খাদ্যবস্ত স্থানান্তরিত হয় এবং পুনরায় সবুজ উদ্ভিদে ফিরে আসে। এরূপ চক্রাকার স্থানান্তর হওয়া এ খাদ্য খদকের সম্পর্ককে খাদ্য শৃঙ্খল বলে। বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শৃঙ্খলের সুসংবদ্ধ বিন্যাসকে একরে খাদ্য জাল বলে। খাদ্য শৃঙ্খল ও খাদ্য জলকে মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা- উৎপাদক, খাদক বা ভক্ষক এবং বিয়োজক।

Related Question

View All
উত্তরঃ

কার্বন নিঃস্রণ (Carbon Emission) বলতে মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এবং অন্যান্য কার্বন-ভিত্তিক গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse gas), যেমন মিথেন (Methane), নাইট্রাস অক্সাইড (Nitrous oxide) ইত্যাদির বায়ুমণ্ডলে নির্গমনকে বোঝায়। এই গ্যাসগুলি মূলত মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফল। জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil fuels) যেমন কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো, বন উজাড় (Deforestation), শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কৃষিকাজ কার্বন নিঃস্রণের প্রধান উৎস।

বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃস্রণের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:

        
  • বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) ও জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change): কার্বন ডাই অক্সাইড একটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস। এর ঘনত্ব বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে যায়, যা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন (Extreme weather events) যেমন তীব্র খরা, বন্যা ও ঝড় পরিলক্ষিত হয়।
  •     
  • সমুদ্রের অম্লীকরণ (Ocean Acidification): বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড সমুদ্রের পানিতে মিশে কার্বনিক অ্যাসিড (Carbonic acid) তৈরি করে, যা সমুদ্রের পানিকে আরও অম্লীয় করে তোলে। এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে প্রবাল প্রাচীর (Coral reefs) ও শেলফিশের (Shellfish) জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
  •     
  • জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি (Public Health Risks): কার্বন নিঃস্রণের সাথে নির্গত অন্যান্য কণা (Particulate matter) এবং দূষণকারী পদার্থ শ্বাসযন্ত্রের রোগ (Respiratory diseases), হৃদরোগ (Cardiovascular diseases) এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়।
  •     
  • জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি (Loss of Biodiversity): জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারায়, যা জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়।

কার্বন নিঃস্রণ নিয়ন্ত্রণের উপায়সমূহ:

        
  • নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি (Increased Use of Renewable Energy): সৌরশক্তি (Solar energy), বায়ুশক্তি (Wind energy), জলবিদ্যুৎ (Hydroelectric power) এবং ভূ-তাপীয় শক্তির (Geothermal energy) মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানো।
  •     
  • শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি (Increased Energy Efficiency): শিল্প, পরিবহন এবং গৃহস্থালিতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। যেমন, শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা।
  •     
  • বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ (Afforestation and Reforestation): নতুন করে গাছ লাগানো এবং বন উজাড় বন্ধ করা। গাছপালা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে।
  •     
  • কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ (Carbon Capture and Storage - CCS): শিল্প কারখানা এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বায়ুমণ্ডলে পৌঁছানোর আগেই ধরে ফেলে ভূগর্ভে নিরাপদে সংরক্ষণ করা।
  •     
  • টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা (Sustainable Transportation Systems): গণপরিবহনের (Public transport) ব্যবহার বৃদ্ধি, সাইক্লিং (Cycling) ও হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (Electric vehicles) ব্যবহার উৎসাহিত করা।
  •     
  • আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতি নির্ধারণ (International Cooperation and Policy Making): প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) এর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসরণ করা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে কার্বন নিঃস্রণ কমাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। সরকার কর্তৃক কার্বন ট্যাক্স (Carbon tax) বা কার্বন ট্রেডিং (Carbon trading) এর মতো নীতি প্রণয়ন।
  •     
  • কৃষি পদ্ধতির উন্নতি (Improvement in Agricultural Practices): টেকসই কৃষি পদ্ধতি যেমন, কম কার্বন নিঃসরণকারী সার ব্যবহার, মিথেন নিঃসরণ কমানো (যেমন ধানের জমিতে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নতি) ইত্যাদি অনুশীলন করা।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
364
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews