অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
বাংলাদেশের প্রবীণদের কল্যাণে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা হলো প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান।
প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান ঢাকার শেরে বাংলানগরে অবস্থিত। প্রবীণদের কল্যাণে এ প্রতিষ্ঠানটি যেসব ভূমিকা রাখে তা হলো- স্বাস্থ্য সেবা দান, পুনর্বাসন, চিত্তবিনোদন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন প্রভৃতি। তাছাড়া এ প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের জন্য পাঠাগারও স্থাপন করেছে।
ঘটনা-১ এ নারীর প্রতি বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
মানবাধিকার অনুযায়ী নারী অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা ও নারীদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার বাঞ্ছনীয়। তবুও আমাদের সমাজের প্রায় সর্বস্তরে এখনো নারীদের তাদের প্রাপ্য অধিকার দেওয়া হয় না। অর্থনেতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনেক অধিকার থেকে তারা আজও বঞ্চিত। মেয়েরা আজও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পায় না। বাল্যবিবাহ ও যৌতুক নির্যাতনের শিকার হয়। তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ারও সুযোগ পায় না। এগুলো নারীর প্রতি বৈষম্যের জন্য হয়।
ঘটনা-১ এ দেখা যায় রহিমা সমপরিমাণ পরিশ্রম করেও পুরুষদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পায়। তার মতো সমাজের অনেক নারী আজও এ ধরনের বৈষম্যের শিকার। বর্তমান সমাজে এখনো মেয়েরা বোঝা হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি তীব্র সমস্যা।
রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন আমাদের পরিবার ও সমাজে ঘটাতে না পারলে আমাদের সমৃদ্ধি আসবে না- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে, প্রথমে সকল ক্ষেত্রে নারীর সমান অধিকার ও সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারী যেমন সংসার পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করেন, তেমনি সন্তান লালন-পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটিও নারীকেই করতে হয়। গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষাসহ সবক্ষেত্রেই তারা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। গোটা নারী সমাজকে যদি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চলাফেরা ও মতপ্রকাশের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তবে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ আমরা দেখি, বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে চাকরির বেতন, পদমর্যাদা ও সুযোগ কোনো ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষকে আলাদা করে দেখা হয় না। তবে আমাদের সমাজের সর্বস্তরে এই দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায় না। অথচ দেশের সর্বাত্মক উন্নয়ন সাধনে এই বৈষম্যহীন আচরণ অত্যন্ত জরুরি।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, নারীর প্রতি রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভলির প্রতিফলন পরিবার ও সমাজে ঘটানো গেলে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
Related Question
View Allবেগম রোকেয়া নারী ও পুরুষকে একটি গাড়ির দুটি চাকার সাথে তুলনা করেছেন।
সংসার-জীবনে নারীর প্রধান ভূমিকা সংসার পরিচালনা করা।
সংসার-জীবনে নারী মা, বোন, কন্যা, ভাবি, চাচি, ফুফু, খালা, নানি, দাদির ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি সংসার পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করে থাকে। সন্তান জন্মদান ও তার লালন-পালনের দায়িত্ব নারীকেই পালন করতে হয়। সংসারের সবার প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখা, তাদের সকল চাহিদা পূরণ করা নারীর অন্যতম কাজ। এ সকল কাজের মাধ্যমে একজন নারী সংসার-জীবনে তার প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে।
হাফিজা কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমানাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সমানাধিকার বলতে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র অর্থাৎ জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অধিকারের কথা বোঝানো হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা, চাকরি বা কর্মসংস্থান, বেতন বা মজুরি সব ব্যাপারেই নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ লাভ করবে। কোনো অবস্থাতেই নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য করা যাবে না।
উদ্দীপকের হাফিজা সংসারের অভাব দূর করতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেন। সপ্তাহ শেষে মজুরি গ্রহণের সময় মালিক তাকে দৈনিক ৩০০ টাকা হারে মজুরি দেয়। অথচ একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিকদের ৪০০ টাকা হারে দৈনিক মজুরি দেওয়া হয়। হাফিজা এর প্রতিবাদ করলে মালিক তাকে কাজে আসতে নিষেধ করে। সংবিধান অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে মজুরির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অধিকার সমান হলেও হাফিজা তার সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বলা যায়, হাফিজা কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমানাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
হাফিজার মতো নারীদের অধিকার আদায়ে শিক্ষার বিস্তার ও নারী অধিকার সর্ম্পকে সচেতনতা সৃষ্টি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। এর ফলে তারা নানা রকম বৈষম্যের শিকার হয়। এছাড়া নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেও সমাজের পুরুষ সদস্যরা নারীদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তাই এ সকল নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে প্রয়োজন সচেতনতা সৃষ্টি।
নারীর প্রতি মানুষের ধারণা ইতিবাচক হলে তারা তাদের প্রাপ্য অধিকার পাবে। তাদের সাথে কোনোরকম বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না। নারীরা যদি শিক্ষিত হয়ে ওঠে তাহলে তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। তখন তাদের সাথে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এছাড়া শিক্ষিত নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। বরং অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে হাফিজার মতো নারীরা বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়। তাই তাদের মতো নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি।নারীর প্রতি মানুষের ধারণা ইতিবাচক হলে তারা তাদের প্রাপ্য অধিকার পাবে। তাদের সাথে কোনোরকম বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না। নারীরা যদি শিক্ষিত হয়ে ওঠে তাহলে তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। তখন তাদের সাথে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এছাড়া শিক্ষিত নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। বরং অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে হাফিজার মতো নারীরা বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়। তাই তাদের মতো নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি।
তাই বলা যায়, শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি হাফিজার মতো নারীদের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সাধারণত ষাটোর্ধ্ব বয়সের মানুষরাই প্রবীণ।
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কল্যাণ সমিতি প্রবীণদের ক্ষেত্রে নানা ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কল্যাণ সমিতি প্রবীণদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা অনুদানসহ বিনা সুদে ঋণ প্রদান করে থাকে। এছাড়া প্রবীণরা যাতে সমাজে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে সেজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!