উত্তরঃ
উসূলুল ফিকহ (فقہ) পরিভাষায় 'عام' (আম) এমন শব্দকে বোঝায় যা তার সমস্ত অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি বা বস্তুকে কোনো নির্দিষ্টতা বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পরিবেষ্টন করে। অর্থাৎ, যে শব্দ তার সমজাতীয় সকল সদস্যের ওপর প্রযোজ্য হয়, তাকে 'আম' বলে। এটি ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতা নির্দেশ করে।
আম (عام) মূলত তিন প্রকারের হতে পারে। যথা:
- আম বাকা আলা ইত্বলাকিহি (عام باق على إطلاقه)
- আম উরিদা বিহিল খুসুস (عام أريد به الخصوص)
- আম মুখাসসাস (عام مخصوص)
১. আম বাকা আলা ইত্বলাকিহি (عام باق على إطلاقه): এই প্রকারের 'আম' এমন শব্দকে বোঝায় যা তার আভিধানিক ব্যাপক অর্থেই অবশিষ্ট থাকে এবং কোনো প্রকারের সীমাবদ্ধতা দ্বারা নির্দিষ্ট হয় না। এটি তার অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্যের ওপর সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য হয়।
উদাহরণ: আল্লাহ তায়া'লার বাণী, "কূল্লু নাফসিন যাইকাতুল মাউত" (كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ) - অর্থাৎ "প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।" এখানে 'নাফস' (প্রাণী) শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর ব্যাপকতায় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
২. আম উরিদা বিহিল খুসুস (عام أريد به الخصوص): এই প্রকারের 'আম' এমন শব্দ যা আভিধানিকভাবে ব্যাপক হলেও এর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো কিছু উদ্দেশ্য হয়। অর্থাৎ, শব্দটি ব্যাপক হলেও ব্যবহারিক অর্থে এর দ্বারা বিশেষ বা সীমিত কোনো বিষয় বোঝানো হয়।
উদাহরণ: আল্লাহ তায়া'লার বাণী, "আল্লাযীনা কালু লিন্না-সি ইন্নান-না-সা ক্বাদ জামা'উ লাকুম ফাকশাউহুম" (الَّذِينَ قَالُوا لِلنَّاسِ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ) - "যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, তোমাদের বিরুদ্ধে লোকেরা (শত্রুবাহিনী) সমবেত হয়েছে, সুতরাং তাদের ভয় করো।" এখানে 'নাস' (লোক) শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক হলেও এর দ্বারা মক্কাবাসীদের একটি নির্দিষ্ট দলকে বোঝানো হয়েছে, সকল মানুষ উদ্দেশ্য নয়।
৩. আম মুখাসসাস (عام مخصوص): এই প্রকারের 'আম' এমন শব্দকে বোঝায় যার ব্যাপকতা কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (দলিল) বা অন্য কোনো বিশেষ নির্দেশ (খাস) দ্বারা সীমিত বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শব্দটি নিজেই ব্যাপক হলেও অন্য দলিলের কারণে এর প্রয়োগক্ষেত্র সংকীর্ণ হয়ে যায়।
উদাহরণ: আল্লাহ তায়া'লার বাণী, "লিল্লাহি আলা-ন-নাসি হিজ্জুল বাইতি মানিসতাত্বা'আ ইলাইহি সাবীলা" (وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا) - "মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বাইতুল্লাহর হজ্জ করা ফরয, যে সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য রাখে।" এখানে 'নাস' (মানুষ) শব্দটি ব্যাপক হলেও 'মানিসতাত্বা'আ ইলাইহি সাবীলা' (যে সামর্থ্য রাখে) দ্বারা এর ব্যাপকতাকে সীমিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, হজ্জ সকল মানুষের জন্য ফরয হলেও শুধু সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য তা ফরয।