সূচনা: চরিত্র মানবজীবনের সর্বোৎকৃষ্ট গুণ। এটি নৈতিক জীবনাচরণের মানদণ্ড। চরিত্র মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ ও শক্তি হিসেবে গণ্য। চরিত্রের গুণাবলি মানুষকে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করে। চরিত্রের ত্রুটিতে মানুষ সম্মান হারায় ও নিন্দিত হয়।
চরিত্র কী: চরিত্র হচ্ছে মানুষের সদাচরণ ও সদ্গুণের সমাহার। মানুষের চরিত্রকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়- সচ্চরিত্র ও দুশ্চরিত্র। নানা সদ্গুণের অধিকারী ব্যক্তিকে আমরা গণ্য করি সচ্চরিত্র হিসেবে। অন্যদিকে, নানা দোষের অধিকারী ব্যক্তিকে আমরা বলি দুশ্চরিত্র বা চরিত্রহীন। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মসংযম, ক্ষমা, ঔদার্য, দয়া ইত্যাদি গুণ সচ্চরিত্রের লক্ষণ। পক্ষান্তরে, অসততা, অহমিকা, কু-অভ্যাস, কুমন্ত্রণা ইত্যাদি দুশ্চরিত্রের লক্ষণ। সচ্চরিত্রের মাধ্যমে মানুষ হয়ে ওঠে রুচিশীল, মার্জিত ও শোভন। চরিত্রবান লোকের মধ্যে সব ধরনের সৎ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটে থাকে। তাই তাঁরা জাতির জন্য সম্পদ বলে সমাদৃত হন।
চরিত্রগঠনের গুরুত্ব: সৎ ও সুন্দর জীবনযাপনের লক্ষ্যে চরিত্রগঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৎ চরিত্রের মানুষ হন স্মরণীয় ও বরণীয়। তাঁরা পান মানুষের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সততা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। যে জাতি চারিত্রিক দিক দিয়ে অসৎ, সে জাতি কখনোই উন্নতি করতে পারে না। অন্যদিকে, যে জাতি চারিত্রিক দিক দিয়ে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ, সে জাতি অগ্রগতির পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।
শিক্ষার মাধ্যমে চরিত্রগঠন: চরিত্রগঠনের জন্য শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ গড়ে ওঠে। শিক্ষা মানুষকে দেশ ও সমাজের প্রতি কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে। তাই সুশিক্ষার মাধ্যমে সর্বোত্তম চরিত্র গঠন করা যায়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা শিক্ষার্থীদের সৎ কথা বলতে, অন্যায় না করতে এবং অন্যায় না মেনে নিতে উপদেশ দেন। পাঠ্যবইয়ে চরিত্রগঠন-সংক্রান্ত গল্প, কবিতা, উপন্যাস সংযোজনের মাধ্যমে, কিংবা প্রাচীন প্রবাদ-প্রবচন পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চরিত্রগঠনের শিক্ষা প্রদান করা হয়। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সততা, সৌজন্য, কৃতজ্ঞতাবোধ, আনুগত্য, পরোপকার ইত্যাদি গুণের বিকাশ ঘটে। হিংসা, দ্বেষ, কুটিলতার প্রবৃত্তি দমিত হয়। ন্যায়বিচার, মানবকল্যাণ, সত্যাশ্রয়িতা ইত্যাদি গুণ জীবনের চলার পথের পাথেয় হিসেবে গৃহীত হয়।
পরিবারের ভূমিকা: চরিত্র গঠনে পরিবার মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাতাপিতাসহ পরিবারের সকল সদস্য যদি সৎ ও চরিত্রবান হন, তাহলে পরিবারের শিশুদের চরিত্রও সেভাবে গড়ে উঠবে। অন্যদিকে, পরিবারের সদস্য অসৎ হলে শিশুর চরিত্রে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিবার যদি শিশুকে সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহিত করে, তাহলে তা শিশুর চরিত্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাতাপিতার উচিত সন্তান যাতে অসৎ-সংসর্গে পড়ে খারাপ কাজে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা। অভিভাবকরাই পারেন সন্তানকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে এবং ন্যায়-অন্যায়ের দিকনির্দেশনা দিয়ে তার চরিত্রকে বিকশিত করতে।
মহৎ চরিত্রের দৃষ্টান্তঃ পৃথিবীতে যাঁরা চিরস্মরণীয় তাঁরা ব্যক্তিজীবনে ছিলেন চরিত্রশক্তিতে বলীয়ান। কোনো প্রলোভনই তাঁদের ন্যায় ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এমনই চরিত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)। যিশুখ্রিষ্ট, গৌতম বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য, নানক প্রমুখ মনীষীও ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায়, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও মাদার তেরেসার মতো মানবব্রতী, দেশব্রতী মহাপ্রাণ সকলেই ছিলেন উন্নত ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী।
উপসংহার: চরিত্রবান লোক অর্থসম্পদে নিঃস্ব হতে পারেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি হন জননন্দিত। তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তার কাছে সব ধরনের অশুভ শক্তি হার মানে। বর্তমানে আমাদের চারপাশে অন্যায় ও দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমাদের সমাজ ও দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে নতুন প্রজন্মকে চারিত্রিক শক্তিকে বলীয়ান হয়ে উঠতে হবে। 'তাহলেই আমরা একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!