বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আশা ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সামাজিক উন্নয়নের দুটি উদ্দেশ্য হলো-
১. বস্তুগত, অবস্তুগত ও মানবীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা।
২. দারিদ্য বিমোচন, শিক্ষার সুযোগ, নারী ও শিশুকল্যাণ নিশ্চিত করা।
শাহিন সাহেবের কার্যক্রমটি সামাজিক উন্নয়নে দারিদ্রদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিক উন্নয়নে সরকারি সংস্থাসমূহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। দারিদ্র্য বিমোচন তার অন্যতম। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের জন্য যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তাই হলো দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম। এদেশের বেশিরভাগ লোক দরিদ্র। এ বিশাল দরিদ্র লোকের ভাগ্যোন্নয়নে তাই সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। কারণ দরিদ্র লোকদের ভাগ্যোন্নয়ন না ঘটিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীলতা এবং পূর্ণতা দান করার জন্য দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম হাতে নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ এটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশের অধিকাংশ জনগণ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এক্ষেত্রে দেশের সরকারি সংস্থা দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য নানা ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে। যেমন পল্লি উন্নয়ন প্রকল্প ৫, পল্লি উন্নয়ন প্রকল্প ৯, পল্লি উন্নয়ন প্রকল্প ১২ এবং পল্লি দরিদ্র সমবায় প্রকল্প। এসব প্রকল্পের কাজ হলো ভূমিহীন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। এসব কর্মসূচিতে দরিদ্র মহিলাদেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়। কেননা সমাজের একটি বৃহৎ জনসংখ্যা মহিলা এবং এরা পুরুষের ন্যায় বাড়ির বাইরে কাজে। বের হতে চায় না। যার কারণে মহিলাদেরকে এসব প্রকল্পের আওতায় এনে তাদেরকে কর্মের প্রতি আকৃষ্ট করার মাধ্যমে সরকারি সংস্থা সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও সরকারি সংস্থার এসব প্রকল্পের আওতায় শাকসবজি চাষ, পয়ঃনিষ্কাশন, রাস্তাঘাট উন্নয়ন প্রভৃতি কার্যক্রম রয়েছে। এভাবে সামাজিক উন্নয়নে দারিদ্র্য বিমোচনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
দারিদ্র্য বাংলাদেশের একটি সামাজিক ব্যাধি। বাংলাদেশের উন্নতি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধিকে গতিশীলতা দান করার জন্য দারিদ্র্য বিমোচন অপরিহার্য। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়। এর মধ্যে যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অন্যতম।
বাংলাদেশের যুব সমাজের এক বিরাট অংশ শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার। অথচ একটি জাতির ভাগ্যোন্নয়নের জন্য সে জাতির যুবসমাজকে কর্মক্ষম রাখা অত্যন্ত জরুরি। যুব কর্মসংস্থান একটি জাতির উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক। কারণ জাতির বৃহত্তর এ যুবসমাজকে বেকার রাখার মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধির পথ সংকুচিত হয়। তাই যুব সমাজকে কর্মে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাংলাদেশে গঠন করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এরই একটি অংশ হচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যুব সমাজের কর্মের সংস্থান করার জন্য এবং দেশে-বিদেশে তাদেরকে কর্মের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া এদেশে সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকারি সংস্থা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসূচি গ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকারি সংস্থা দেশের জনগণকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এ সংস্থার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুধু সরকারি সংস্থা নিয়োজিতদেরকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না বরং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক সচেতনতা সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন কৌশল বা মাধ্যম ইত্যাদি বিষয়ে সমাজের লোকদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এভাবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সরকারি লোকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাধারণ বেকার জনগণকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মুসলিম সমাজব্যবস্থায় বিধবা বিবাহের স্বীকৃতি রয়েছে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
'৬৯' এর গণ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এর আগে তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা তুলে নেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয়। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের 'আলোর দিশারী' সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বেসরকারি সংস্থা বলতে কোনো অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বোঝায়, যা উন্নয়ন সহযোগিতা অথবা শিক্ষা ও নীতিগত কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকে। বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থাসমূহ বিভিন্ন আর্থ- সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন- দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ সংস্থাসমূহ জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান, বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়নসহ নানা ফলপ্রসু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে রেজিস্ট্রিকৃত প্রায় ২,৫০০ দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা প্রায় দুই কোটি উপকারভোগী তৈরি এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। যেমনটি উদ্দীপকেও দেখা যায়।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, নিরক্ষরতা, অনুর্বর জমি, মূলধনের অভাব ইত্যাদি কারণে নীলফামারী জেলার খানাবাড়ি গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যের শিকার। এমতাবস্থায় 'আলোর দিশারী' নামক স্থানীয় একটি সংস্থা গ্রামের মানুষের মাঝে শিক্ষার বিস্তার, মূলধন যোগান, ফসলের চারা বিতাড়ন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করে। ফলে কিছুদিন পর দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট যে, 'আলোর দিশারী' নামক সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থা অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
সমকালীন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে অনেক বেসরকারি সংস্থা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসব সংস্থা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মানসিক, দৈহিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালায়। পাশাপাশি এসব বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। ফলে গ্রামে রাস্তাঘাট, বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে সমকালীন বাংলাদেশের সমাজকাঠামো নানাভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ লাভ করছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন প্রতিটি ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাসমূহের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে বেসরকারি সংস্থাসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিজেকে বয়স্ক ভাবা একটি মানসিক রোগ।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রথম সোপান ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করেন। এদের বেশিরভাগই ধনী লোক, প্রভাবশালী পরিবার থেকে আগত। এরা মূলত গ্রামীণ জনগণের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী অবস্থান নেয়। গ্রামের নানা রকম উন্নয়নমূলক কাজ ক্ষমতাসীন সরকার এদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!