ঘটনা ১ : এক চোখ টেরা বৃদ্ধ মহিলা পাকা আমের ঝুড়ি নিয়ে বাগানের ধারে বসেছিল। রীমা, সীমা এবং ঝুমা চাকমারা ঐ পথে। যাওয়ার সময় উক্ত বৃদ্ধার সাথে দেখা হলো। বৃদ্ধার আমের ঝুড়ি দেখে তাদের আম খাওয়ার লোভ হলো। রীমা ও সীমা বৃদ্ধার চোখের সৌন্দর্য বিভিন্নভাবে বর্ণনা করল। কিন্তু বৃদ্ধা রাগান্বিত হয়ে দুজনকে কোনো আম দিল না। ঝুমা বৃদ্ধার টেরা চোখ সম্পর্কে কর্মফলের আসল কথা বুঝিয়ে বললে বৃদ্ধা খুশি হয় এবং ঝুমাকে আম প্রদান করে।

ঘটনা ২: জয়ন্ত চাকমা একটি সাপ পুষে বড় করল। সে সাপটিকে বাঁশের চোঙার ভিতরে রেখে দুই-একদিনের জন্য বাড়ির বাইরে যায়। বাড়ি ফিরে সাপটিকে খাওয়াতে গেলে সাপটির ছোবলে জয়ন্ত চাকমার মৃত্যু ঘটে।

'চাটুকারিতার ফল কখনো ভালো হয় না' - পদ্ম জাতকের উপদেশ বাণীটি ঘটনা-১ এর সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ – ব্যাখ্যা কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

সৎ লোকেরা কোথাও পরাজিত হয় না। যার প্রমাণ পদ্ম জাতক কাহিনির মাঝে পূর্ণতা পেয়েছে। একদা বোধিসত্ত্ব এক শ্রেষ্ঠীর পুত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রেষ্ঠীর ছিল মোট তিনজন পুত্র। একবার তার বারানসীরাজের কোনো এক উৎসবে পদ্ম ফুলের মালা পরে যাওয়ার মনস্থ করেছিল। তাই তারা এক সরোবরের কাছে গিয়ে পদ্মরক্ষকের নাকের কর্তিত অবস্থার উন্নতির কথা বলে পদ্মফুল চেয়েছিল। কিন্তু রক্ষক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠীর কথা শুনে ক্রুদ্ধ হয়ে তাদেরকে পদ্মফুল দিল না। অথচ বোধিসত্ত্ব রক্ষককে বলেছিলেন, 'আসল কথা, কার্তিক নাক কোনোদিন ভালো হয় না।' উক্ত শ্রেষ্ঠীপুত্রদ্বয় চাটুকারিতা করেছিল। যার কারণে বোধিসত্ত্বের প্রতি রক্ষক সন্তুষ্টি হয়ে পদ্মফুল দিয়েছিল। তেমনি ঘটনা ১-এ টেরা বুড়ি রীমা ও সীমা চাকমাকে আম দেয়নি; বরং ঝুমা সত্য কথা বলাতে তাকে বুড়ি আম দিয়েছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
53

জাতক সূত্রপিটকের অন্তর্গত খুদ্দকনিকায়ের একটি অনন্য গ্রন্থ। এই গ্রন্থে গৌতম বুদ্ধের অতীত জীবনের বিভিন্ন কাহিনি ও ঘটনা বর্ণিত আছে। জাতকের কাহিনিগুলো নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ। জাতকগুলোতে প্রসঙ্গক্রমে প্রাচীন ভারতের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, পুরাতত্ত্ব প্রভৃতি বিষয় আলোচিত হয়েছে। তাই জাতককে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উৎস বা আধার হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস রচনায় জাতকের গুরুত্ব অপরিসীম। এশিয়া মহাদেশের সাহিত্যের বিকাশ সাধনেও জাতকের অসীম প্রভাব রয়েছে। এ অধ্যায়ে আমরা জাতকের উৎপত্তি, গঠনশৈলী এবং কয়েকটি জাতক পাঠ করব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -

  • জাতকের উৎপত্তি এবং জাতকের গঠনশৈলী ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • জাতকের বিভিন্ন কাহিনি বর্ণনা করতে পারব।
  • জাতক পাঠ করে প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

জাতক পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনেক। জাতকে বর্ণিত হয় নৈতিক শিক্ষা। এটি ইতিহাসের ভান্ডারও বটে। এখানে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, ধর্ম, দর্শন, পুরাতত্ত্ব সম্পর্কে প্রচুর তথ্যা পাওয়া যায়। সৎও অসৎ কর্মের পরিণতি সম্পর্কে জানা যায়, কুসংস্কার দূর হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
97
উত্তরঃ

দেবধর্ম জাতকের সাথে উদ্দীপকের কাহিনির মিল রয়েছে। এখানে যক্ষের চরিত্রের মধ্যদিয়ে জলরাক্ষসের কর্মকান্ড ফুটে উঠেছে। দেবধর্ম জাতকে তিন রাজকুমার যখন বনে বসবাস করতে গিয়েছিল তখন বোধিসত্ত্ব বা মহিংসায় কুমার তাঁর ছোট ভাই সূর্যকুমারকে এক সরোবরে গিয়ে স্নান করে এবং তাঁদের জন্য জল নিয়ে আসতে বলেছিল। কিন্তু সূর্যকুমারকে ফিরতে দেরি দেখে বোধিসত্ত্ব চন্দ্রকুমারকে ছোট ভাইয়ের খোঁজে পাঠালেন কিন্তু দ্বিতীয় রাজকুমারকেও ফিরে আসতে দেরি দেখে বোধিসত্ত্ব অনুধাবন করলেন নিশ্চয় সরোবরে জলে জলরাক্ষস রয়েছে, যে তাদেরকে আটক করে রেখেছে। বোধিসত্ত্ব সশস্ত্র অবস্থায় সরোবরের পাড়ে গেলেন এবং চিন্তার মিল পেলেন। জলরাক্ষসকে দেবধর্মের উত্তর দিয়ে দুই ভাইকে ছাড়িয়ে এনেছিলেন। বোধিসত্ত্বের কথায় মুগ্ধ হয়ে জলরাক্ষস পাপকর্ম ছেড়ে দিয়েছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
83
উত্তরঃ

আমরা জানি, সত্যের জয় অনিবার্য। সৎভাবে জীবনযাপন করতে হলে প্রয়োজন নিজ নিজ ধর্মজ্ঞান। অন্যথায় এটি সম্ভব নয়। দেবধর্ম জাতকে বোধিসত্ত্ব তাঁর ধর্মজ্ঞনের প্রভাবে সরোবরের জলরাক্ষসের হাত থেকে আটকে পড়া দুই ভাইকে মুক্ত করে আনতে পেরেছিলেন।

বোধিসত্ত্ব এতই সৎ ছিলেন যে, সে তার আপন ভাইকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জলরাক্ষসকে বলেননি; বরং তিনি তার সৎভাইকে বাঁচানোর জন্য জলরাক্ষসকে অনুরোধ করেছিলেন। সূর্যকুমার এবং চন্দ্রকুমার রাক্ষসের করা প্রশ্নের উত্তর যথাযথভাবে না দিতে পারায় তাদেরকে আটক থাকতে হয়েছিল। কিন্তু বোধিসত্ত্বরূপী মহিসাংস কুমার তার ধর্মজ্ঞানের কারণেই এবং ধর্মপথে চলার ফলেই শেষ পর্যন্ত দুই ভাইকেই মুক্ত করতে পেরেছিলেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
82
উত্তরঃ

দেবধর্ম জাতকে বোধিসত্ত্বের নাম ছিল মহিংসাস কুমার।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
98
উত্তরঃ

রাজার মোট তিনজন রাজপুত্র ছিল। এর মধ্যে রাজকুমার মহিংসাস এবং রাজকুমার চন্দ্রকুমার ছিল আপন ভাই। তাঁদের মা মৃত্যুবরণ করলে রাজা পুনরায় বিবাহ করলে সেই ঘরে রাজকুমার সূর্যকুমারের জন্ম হয়। সূর্যকুমারের মায়ের বর্ণনানুযায়ী সূর্যকুমারকে রাজা করার কথা বললে রাজা তার বড় দুই ছেলে বাদ দিয়ে ছোট ছেলেকে রাজত্ব দিতে চাইলেন না। তাই বড় দুই ছেলেকে সৎমায়ের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বনে যাওয়ার পরামর্শ দেন। যখন বড় দুই ছেলে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে যাওয়ার সময় ছোট ভাই সূর্যকুমারও তাঁদের সাথে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বনে চলে গিয়েছিলেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
118
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews