চিত্রটি এক, পরিমিত অক্ষরেখাবিশিষ্ট সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ।
উল্লিখিত সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপের পরিমিত অক্ষরেখা বরাবর ও তার উভয়পার্শ্বে স্বল্প পরিসর স্থানের আয়তন কিছুটা নির্ভুল হয় বলে এর সাহায্যে কোনো ক্ষুদ্রাকৃতি দেশের বা কোনো দেশের স্বল্প স্থানের মানচিত্র নির্ভুলভাবে অঙ্কন করা যায়।
যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড প্রভৃতি ক্ষুদ্রাকৃতি দেশগুলোর মানচিত্র অঙ্কন করীর জন্য এ অভিক্ষেপ বিশেষভাবে উপযোগী।
কেবল এক পরিমিত বা একটি নির্দিষ্ট অক্ষরেখার সাহায্যে যে অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয় তাকে সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ বলে।
সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপের প্রধান বৈশিষ্ট্য অক্ষরেখাগুলো সমকেন্দ্রিক বৃত্তচাপ এবং পরিমিত অক্ষরেখার স্কেল সঠিক থাকে। দ্রাঘিমারেখাগুলো সরলরেখা এবং একই কেন্দ্রবিন্দু হতে বিচ্ছুরিত হয়। ফলে অভিক্ষেপটি সম-আয়তনিক। এ প্রেক্ষিতে অভিক্ষেপটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপের পরিমিত অক্ষরেখার প্রতিটি দ্রাঘিমায় দূরত্বের স্কেল নির্ভুল এবং পরিমিত অক্ষরেখার উভয় পার্শ্বে স্বল্প পরিসর স্থানে মানচিত্রের আকৃতি সঠিক হয়। এ কারণে ইউরোপ মহাদেশের বেশকিছু অঞ্চল, মধ্য-অক্ষাংশ অঞ্চল, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমারেখা এ অভিক্ষেপে ভালোভাবে অঙ্কন করা যায়।
প্র. অ. ১: ১৬৭,০০০,০০০ এর সাহায্যে ব্যবধানে দুই পরিমিত অক্ষরেখার (ও অক্ষরেখা) একটি সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ নিচে অঙ্কন করে দেখানো হলো-
ক্ষুদ্রাকৃতি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ,
= পৃথিবীর প্রকৃত ব্যাসার্ধ
প্রদত্ত স্কেল
= ১.৫" (প্রায়)
চাপ দূরত্ব = ২ ব্যবধান অক্ষরেখাদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব
৩৬০
=
আবার
=
=
সমান্তরালদ্বয় হতে অন্যান্য অক্ষরেখার দূরত্ব হবে ০.৩৯"।
প্রথম চিত্র ১.৫” ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্ত বা বৃত্ত চাপ অঙ্কন কর। এ বৃত্তের
এখন বৃত্তের কেন্দ্র ক-কে কেন্দ্র করে খঘ ব্যাসার্ধ ( মান) নিয়ে একটি বৃত্তচাপ আঁক যা কঙ ও কচ-কে যথাক্রমে ত ও জ বিন্দুতে ছেদ করে। কগ এর উপর জঝ, তছ লম্ব বা কখ জঝ, তজ আঁক। তছ ও জঝ-এর লম্ব দুটির দৈর্ঘ্যই হবে যথাক্রমে অক্ষরেখা বরাবর দ্রাঘিমা রেখাগুলোর দূরত্ব।

দ্বিতীয় চিত্র ০.৭৮" এর সমান করে পফ একটি রেখা টানা হলো ও তার প ও ফ বিন্দুতে ১নং চিত্র হতে প্রাপ্ত ঝজ ও তছ এর সমান করে যথাক্রমে ফভ ও পম দুটি লম্ব অঙ্কন করা হলো (পূর্ব-পশ্চিমে)। এখন ভম সংযুক্ত করে ঊর্ধ্বদিকে বর্ধিত করলে তা পফ-এর বর্ধিত সরলরেখাকে ব বিন্দুতে ছেদ করে। এখন এই বফ ও বপ হলো যথাক্রমে পরিমিত অক্ষরেখা দুটি অঙ্কনের জন্য উত্তর হতে তাদের ব্যাসার্ধের দৈর্ঘ্য।
তৃতীয় চিত্র এখন অভিক্ষেপটি অঙ্কনের জন্য উত্তর-দক্ষিণে টঠ একটি সরলরেখা অঙ্কন করে ট-কে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় চিত্রের বফ ও বপ ব্যাসার্ধ নিয়ে দুটি বৃত্তচাপ অঙ্কন কর। এ চাপ দুটি যথাক্রমে অক্ষরেখা নির্দেশ করে। এরপর ০.৩৯" দূরত্ব (-এর মান) নিয়ে উক্ত বা অক্ষরেখা হতে উত্তর ও দক্ষিণে টঠ রেখাটিকে কতিপয় অংশে কেটে নিয়ে ঐ বিন্দুগুলোর উপর দিয়ে ট-কে কেন্দ্র করে চাপ অঙ্কন করলে প্রয়োজনীয় অক্ষরেখাগুলো অঙ্কিত হবে। পরবর্তীতে ১নং চিত্রের জঝ ও তছ লম্বের দৈর্ঘ্য নিয়ে যথাক্রমে অক্ষরেখাদ্বয়কে পূর্ব ও পশ্চিমে কতিপয় অংশে বিভক্ত করে তাদের ট বিন্দুর সাথে যুক্ত করলে প্রয়োজনীয় দ্রাঘিমারেখাগুলো অঙ্কিত হলো।
Related Question
View Allভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে সংক্ষেপে জিআইএস বলা হয়।
মানচিত্র অভিক্ষেপ বলতে কোনো সমতলের ওপর সৃষ্ট গ্রাটিকুলকে বোঝায়।
কোনো সমতল কাগজের উপর সমগ্র পৃথিবী বা এর কোনো অংশের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য নির্দিষ্ট স্কেলে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো জালের ন্যায় ছকে প্রকাশ করা হয়। একে অভিক্ষেপ বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অভিক্ষেপটি হচ্ছে সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ।
উক্ত অভিক্ষেপের ক্ষেত্রে ব্যবধানে ১: ১,৪৭,০০,০০০ স্কেলে এবং পরিমিত অক্ষরেখা (এক পরিমিত) নিয়ে অভিক্ষেপটির গাণিতিক হিসাব নিচে নির্ণয় করা হলো-
হিসাব নিরূপণ :
পৃথিবীর ব্যাসার্ধ, r = পৃথিবীর প্রকৃত ব্যাসার্ধ
প্রদত্ত স্কেল
= ১.৭ ইঞ্চি।
IN.B: পৃথিবীর প্রকৃত ব্যাসার্ধ ৪০০০ মাইল বা () ইঞ্চি যা পূর্ণ সংখ্যায় ২৫০,০০০,০০০ ইঞ্চি ধরা হয়।।

= ০.৪৫% ইঞ্চি।
অতএব, অক্ষরেখাগুলোর মধ্যবর্তী পরস্পর দূরত্ব হবে ০.৪৫ ইঞ্চি। অর্থাৎ ০.৪৫ ইঞ্চি দূরে দূরে অক্ষরেখা নিয়ে একটি সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ আঁকতে হবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অভিক্ষেপটি হচ্ছে সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ। নিচে এর বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োগ বিশ্লেষণ করা হলো-
এ অভিক্ষেপে দ্রাঘিমাগুলো সর্বদা সমান এবং একই কেন্দ্র হতে বিচ্ছুরিত। কিন্তু অক্ষরেখাগুলো চাপের ন্যায় দৈর্ঘ্য উত্তরে ক্রমশ কম ও দক্ষিণে বেশি। সকল দ্রাঘিমা বরাবর স্কেল ঠিক থাকে কিন্তু কেবল পরিমিত অক্ষরেখা (Standard Parallel) ছাড়া অন্যান্য অক্ষরেখা বরাবর স্কেল ঠিক থাকে না। পরিমিত অক্ষরেখা তথা অভিক্ষেপের মধ্যভাগে স্কেল ঠিক থাকায় সেখানকার মানচিত্রের বিকৃতি খুবই কম। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলের মানচিত্রে যথেষ্ট বিকৃতি ঘটে। এ অভিক্ষেপে কেবল একটি গোলার্ধ দেখানো সম্ভব হয়। একই সাথে দুটি গোলার্ধ দেখানো সম্ভব নয়।
পরিমিত অক্ষরেখা বরাবর ও তার উভয় পার্শ্বে স্বল্প পরিসর স্থানের আয়তন কিছুটা নির্ভুল হয় বলে এর সাহায্যে কোনো ক্ষুদ্রাকৃতি দেশের বা কোনো দেশের অল্পস্থানের মানচিত্র নির্ভুলভাবে অঙ্কন করা যায়। এ কারণে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড প্রভৃতি ক্ষুদ্রাকৃতি দেশগুলোর মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী।
সমগ্র পৃথিবী বা তার অংশবিশেষের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য নির্দিষ্ট স্কেলে পৃথিবীর অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সঠিকভাবে অঙ্কন করাকে অভিক্ষেপ বলে।
পৃথিবী ও এর অংশবিশেষকে কোনো সমতল ক্ষেত্রে প্রতিরূপ প্রদান করাকে মানচিত্র (Map) বলা হয়। মানচিত্র একজন ভূগোলবিদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এর সাহায্যে ঘরে বসে অল্প সময়ে সমগ্র পৃথিবী সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়।
মানচিত্র শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Map যা ল্যাটিন শব্দ Mappa থেকে এসেছে; যার অর্থ কাপড়ের টুকরা। অতীতে মূলত কাপড়ের টুকরার উপরই মানচিত্র অঙ্কন করা হতো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
