"ছক-২ এ 'গ' এর ঘটনার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা শুরু হয়"- বিশ্লেষণ কর।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

ছক-২-এ 'গ'-এর ঘটনা অর্থাৎ ১৯৯০ সালের আন্দোলন- সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা শুরু হয়।

স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবরণের পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দেশে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক, বেসামরিক আদলে সেনাশাসন অব্যাহত ছিল। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল বাংলাদেশের জনগণ ভালো চোখে দেখেনি। ফলে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের শাসনকালে প্রবল গণআন্দোলনের সম্মুখীন হয়। এক পর্যায়ে সংগঠিত হয় এরশাদ বিরোধী ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান। এ সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট এবং ৫ দলীয় বাম জোট একটি অভিন্ন কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ হলে ১৯৯০-এর ৪ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৬ ডিসেম্বর তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে জেনারেল এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং গণতন্ত্রের পুনঃর্যাত্রা শুরু হয়। সকল দলের অংশগ্রহণে ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক ধারা চালু হয়। দেশে অবাধ তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, পত্র-পত্রিকার ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার ইত্যাদির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি কর্তৃক শাসনব্যবস্থা পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হয়। এ অগ্রযাত্রায় দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ছক-২ এ 'গ' ঘটনা অর্থাৎ ১৯৯০ সালটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। কারণ ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পতন ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা শুরু হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
165
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

৬ দফা দাবিনামায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয় বলে একে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।

ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফা দাবির পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
323
উত্তরঃ

সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনশোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে থাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের 'মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমানবাহিনীর পাইলটদের ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিল বাঙালি।

উদ্দীপকের সারণি-ক থেকে উপরোল্লিখিত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্যের চিত্রই দেখতে পাই। অতএব বলা যায়, সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সারণি-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা ছিল ভয়াবহ বৈষম্যমূলক।

পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৫৯-৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেটের বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদর্শিত সারণি-খ এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ বৈষম্য ছিল ভয়াবহ ও হতাশাব্যঞ্জক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1k
উত্তরঃ

বাংলা ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে, সে জাতীয় ঐক্যকে বলা হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews