ছেলেকে পড়াশুনার বিষয়ে খোঁজখবর জিজ্ঞেস করলে, ছেলে বিরক্ত হয়ে মাকে বলল, আমি পড়ালেখার বিষয়ে এত হিসাব দিতে পারব না। মা বললেন, এমন একদিন আসবে, যখন তুমি সব কিছুরই হিসাব দিতে বাধ্য হবে। হিসাব রাখতে পারা একটি বিশেষ গুণ। অপরদিকে মনীষা তার শিক্ষকের কাছে জানতে চাইল-যেভাবে দিন দিন নিত্যনতুন সমস্যা ধরা পড়ছে, সে ক্ষেত্রে আল্লাহ যদি নতুন করে মুজিযা ও ওহিসহকারে কোনো মহামানব প্রেরণ না করেন, তাহলে এর সমাধান কীভাবে হবে? শিক্ষক বললেন, মহামানব প্রেরণের ধারাটি সমাপ্ত হয়েছে। আর সব সমস্যা সমাধানের উপায় আছে ইসলামে।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

'সাইয়্যেদুল মুরসালিন' হলেন- হযরত মুহাম্মদ (স.)।

উত্তরঃ

বইমানদার ও নেককার বান্দাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে জান্নাত সৃষ্টি করেছেন। যা হলো চিরশান্তির স্থান। সেখানে আনন্দ উপভোগের সব রকমের জিনিসই বিদ্যমান থাকবে। সেখানে মন যা চায়, তাই পাবে। সে সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,   وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَذَعُوْنَ  

অর্থাৎ, "সেখানে (জান্নাতে) তোমাদের মন যা চাইবে তাই তোমাদের জন্য রয়েছে। আর তোমরা যা দাবি করবে তাও তোমাদের দেওয়া হবে।" (সূরা হামিম আস-সাজদাহ : ৩১)

উত্তরঃ

উদ্দীপকে মা ছেলেকে আল্লাহর একটি গুণে গুণান্বিত হতে বলেছেন। তা হলো সকল কাজের হিসাব রাখার গুণ।

আল্লাহ তায়ালার অন্যতম গুণ হলো তিনি সূক্ষ্ম হিসাব গ্রহণকারী। হাশরের ময়দানে সব মানুষের হাতে আমলনামা প্রদান করা হবে। আমলনামায় প্রত্যেকের সব কাজের হিসাব লেখা থাকবে। ছোট-বড়, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, গোপন-প্রকাশ্যে কৃত সবধরনের কাজেরই সেদিন হিসাব নেওয়া হবে। সকল কৃতকর্ম আল্লাহ তায়ালা আমলনামায় লিপিবশ্বের ব্যবস্থা করে হিসাব নিবেন। এজন্য নিজেই নিজের কাজকর্মের হিসাব রাখা জরুরি। আল্লাহ তায়ালা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সবারই হিসাব নেবেন। তাই নিজেই নিজের হিসাব রাখতে পারা একটি বিশেষ গুণ। উদ্দীপকে মা ছেলেকে হাশরের দিনের হিসাবের কথা ইঙ্গিত করেন।
তাই তিনি নিজেই নিজের হিসাব রাখার গুণে গুণান্বিত হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে মনীষা ও তার শিক্ষকের আলোচনায় খতমে নবুয়ত বা নবুয়তের সমাপ্তির বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

মানব জাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেন। তারা আল্লাহ তায়ালার বাণী, আদেশ-নিষেধ মানুষের নিকট পৌঁছে দিতেন। যার ধারা শুরু হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আর শেষ হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ

অর্থ: "মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন। বরং তিনি তো আল্লাহর রাসুল ও সর্বশেষ নবি।" (সূরা আল-আহযাব: ৪০) আল্লাহ তায়ালা ইসলামের মাধ্যমে দ্বীনের পূর্ণতা দিয়েছেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন ,. الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَگم অর্থৎ, "আজ আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।" (সূরা আল-মায়িদা: ৩) মনীষা তার শিক্ষক থেকে জানতে চায় কীভাবে বর্তমানে নিত্যনতুন সমস্যার সমাধান হবে। খোদার নির্দেশনা নিয়ে কোনো মহামানব আসবে কিনা। উত্তরে শিক্ষক খতমে নবুয়তের কথা বলেন। কেননা পূর্বের নবিদের শিক্ষার নবায়ন করার জন্য বহু নবির রাসুলের আগমন ঘটেছিল। সময়ের নতুন নতুন সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে তা ঘটেছিল।
কিন্তু বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে যে সমস্যাগুলোর উদ্ভব হবে বা হচ্ছে তার সমাধান আল্লাহ কুরআনে এবং নবির হাদিসে দিয়ে রেখেছেন।
তাই আমি মনে করি, শিক্ষকের উত্তরে খতমে নবুয়তের যথার্থতা প্রকাশ পেয়েছে।

124

পরিচয়
ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়ার জন্য সর্বপ্রথম মৌলিক কতিপয় বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়। যেমন- আল্লাহ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আখিরাত ইত্যাদির উপর বিশ্বাস স্থাপন করা । ইসলামের এরূপ মৌলিক বিষয়গুলোর উপর বিশ্বাসকে আকাইদ বলা হয় । আকাইদ শব্দটি বহুবচন । একবচনে ‘আকিদাহ’ যার অর্থ বিশ্বাস। আকাইদের বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস করতে হবে। এর কোনো একটিকে অবিশ্বাস করলে কেউ মুসলিম হতে পারে না । অতএব, আকাইদ হলো ইসলামের প্রধান ভিত্তি ।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

■ ইমানের পরিচয় ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব।

■ ইমানের প্রধান সাতটি বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব।

■ ইসলামের মৌলিক বিষয়ের প্রতি অটল বিশ্বাস (ইমান) স্থাপন ও অনুশীলনে উদ্বুদ্ধ হব।

■ নিফাকের (কপটতা) পরিচয় ও এর কুফল ব্যাখ্যা করতে পারব এবং নিফাক পরিহার করার উপায় বর্ণনা করতে পারব।

■ কপটতামূলক আচরণ পরিহার করে চলতে আগ্রহী হব।

■ আল্লাহ তায়ালার কতিপয় গুণবাচক নামের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব।

■ মহান আল্লাহর গুণবাচক নামে বিধৃত গুণ নিজ আচরণে প্রতিফলন ঘটাবো। 

■ রিসালাতের অর্থ, নবি-রাসুলের সংখ্যা, নবি-রাসুলের পার্থক্য ও তাৎপর্য বর্ণনা করতে পারব।

■ নবুয়ত ও রিসালাতের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারব।

■ খতমে নবুয়তের পরিচয়, তাৎপর্য ও প্রমাণ ব্যাখ্যা করতে পারব।

■ আখিরাত ও কিয়ামত সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব।

■ শাফাআতের পরিচয় ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব।

■ জান্নাতের পরিচয় ও তা লাভের উপায় বর্ণনা করতে পারব । জাহান্নামের পরিচয় ও স্বরূপ এবং জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় বর্ণনা করতে পারব।

■ নৈতিক চরিত্র গঠনে ইমানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস বলতে বোঝায় আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। তাঁরা নুরের তৈরি। তাঁরা সদাসর্বদা আল্লাহর যিকির ও তাসবিহ পাঠে রত, আল্লাহ যা তাদের হুকুম করেন, তাঁরা তাই বিনা বাক্য ব্যয়ে সম্পাদন করেন। ফেরেশতাগণ নারী ও পুরুষ কোনোটাই নন। তাঁদের দেখা যায় না। আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁরা যেকোনো আকৃতি ধারণ করতে পারেন। তাদের আহার নিদ্রার প্রয়োজন হয় না। তাঁরা অগণিত। ফেরেশতাগণের মধ্যে ৪ জন হলেন প্রসিদ্ধ।

274
উত্তরঃ

জায়েদের কর্মকান্ডকে ইমান হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

ইমানের জন্য ৭টি মৌলিক বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় এবং মুখে তার স্বীকৃতি দিতে হয়। পাশাপাশি বিশ্বাস ও স্বীকৃতি অনুসারে আমল করার চেষ্টা করতে হয়। ইমানের মৌলিক বিষয়গুলোকে কেউ যদি শুধু অন্তরে বিশ্বাস করে কিন্তু মুখে স্বীকার না করে, তবে সে প্রকৃত ইমানদার হতে পারবে না। আবার মুখে স্বীকৃতি দিয়ে অন্তরে বিশ্বাস না করলেও ইমানদার হতে পারবে না। বস্তুত আন্তরিক বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও তদনুযায়ী আমলের সমষ্টিই হলো প্রকৃত ইমান। জায়েদ আল্লাহ, রাসুল, ফেরেশতা, আখিরাত, তাকদির, পুনরুত্থান ইত্যাদি বিষয়কে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে এবং মুখে স্বীকার করে। সে তার বিশ্বাস অনুসারে আমল করতে যথাসম্ভব চেষ্টা করে। সুতরাং জায়েদের কর্মকাণ্ডে প্রকৃত ইমানদারের পরিচয় ফুটে উঠেছে। তাই তার কর্মকাণ্ডকে ইমান হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

208
উত্তরঃ

নয়নের কর্মকান্ডের পরিণতি নিশ্চয়ই খারাপ" বক্তব্যটি যথার্থ।

উদ্দীপকে উল্লিখিত নয়নের কর্মকান্ডে মুনাফিকি প্রকাশ পেয়েছে। মুনাফিকদের পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয় মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে" (সূরা আন-নিসা: ১৪৫) পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, যখন মুনাফিকরা ইমানদারদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা ইমান এনেছি। যখন তারা গোপনে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, আমরা তাদের সাথে শুধু ঠাট্টা-তামাশা করে থাকি। (সূরা আল-বাকারা: ১৪) কুরআনে বর্ণিত এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে নয়নের কর্মকান্ডের পুরো মিল রয়েছে। আর এজন্যই সে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। এছাড়া পৃথিবীতে নিফাকি জঘন্য পাপ হিসেবে গণদ হয়। এটা মানুষের চরিত্র ধ্বংস করে ফেলে। নিফাকের ফলে মানুষ অন্যায় ও অশ্লীল কাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ফলে মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়। এটি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহের সৃষ্টি করে। ফলে সমাজে মারামারি ও অশান্তির সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকের নয়ন জায়েদের সাথে ইমানদার সুলভ আচরণ করে কিন্তু তার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের সাথে থাকাকালীন তাদেরকে বলে, আমি তোদের ধর্মকেই বিশ্বাস করি। জায়েদের সাথে সালাত আদায় করি ওকে খুশি করার জন্য।
সুতরাং নয়নের কর্মকান্ডে নিফাকি প্রকাশ পেয়েছে। আর নিফাকির শাস্তি হলো জাহান্নাম। নিফাকির কারণে মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তরে থাকবে। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যটি যথার্থ।

145
উত্তরঃ

তাকদির অর্থ ভাগ্য। তাকদির আল্লাহ তায়ালা থেকে নির্ধারিত। ভালোমন্দ যা কিছু হয় সবই আল্লাহ তায়ালার হুকুমে হয়। এ বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করাকে তাকদিরে বিশ্বাস বলা হয়।

179
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews