উদ্দীপকে মনীষা ও তার শিক্ষকের আলোচনায় খতমে নবুয়ত বা নবুয়তের সমাপ্তির বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
মানব জাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেন। তারা আল্লাহ তায়ালার বাণী, আদেশ-নিষেধ মানুষের নিকট পৌঁছে দিতেন। যার ধারা শুরু হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আর শেষ হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ
অর্থ: "মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন। বরং তিনি তো আল্লাহর রাসুল ও সর্বশেষ নবি।" (সূরা আল-আহযাব: ৪০) আল্লাহ তায়ালা ইসলামের মাধ্যমে দ্বীনের পূর্ণতা দিয়েছেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন ,. الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَگم অর্থৎ, "আজ আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।" (সূরা আল-মায়িদা: ৩) মনীষা তার শিক্ষক থেকে জানতে চায় কীভাবে বর্তমানে নিত্যনতুন সমস্যার সমাধান হবে। খোদার নির্দেশনা নিয়ে কোনো মহামানব আসবে কিনা। উত্তরে শিক্ষক খতমে নবুয়তের কথা বলেন। কেননা পূর্বের নবিদের শিক্ষার নবায়ন করার জন্য বহু নবির রাসুলের আগমন ঘটেছিল। সময়ের নতুন নতুন সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে তা ঘটেছিল।
কিন্তু বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে যে সমস্যাগুলোর উদ্ভব হবে বা হচ্ছে তার সমাধান আল্লাহ কুরআনে এবং নবির হাদিসে দিয়ে রেখেছেন।
তাই আমি মনে করি, শিক্ষকের উত্তরে খতমে নবুয়তের যথার্থতা প্রকাশ পেয়েছে।
Related Question
View Allফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস বলতে বোঝায় আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। তাঁরা নুরের তৈরি। তাঁরা সদাসর্বদা আল্লাহর যিকির ও তাসবিহ পাঠে রত, আল্লাহ যা তাদের হুকুম করেন, তাঁরা তাই বিনা বাক্য ব্যয়ে সম্পাদন করেন। ফেরেশতাগণ নারী ও পুরুষ কোনোটাই নন। তাঁদের দেখা যায় না। আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁরা যেকোনো আকৃতি ধারণ করতে পারেন। তাদের আহার নিদ্রার প্রয়োজন হয় না। তাঁরা অগণিত। ফেরেশতাগণের মধ্যে ৪ জন হলেন প্রসিদ্ধ।
জায়েদের কর্মকান্ডকে ইমান হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।
ইমানের জন্য ৭টি মৌলিক বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় এবং মুখে তার স্বীকৃতি দিতে হয়। পাশাপাশি বিশ্বাস ও স্বীকৃতি অনুসারে আমল করার চেষ্টা করতে হয়। ইমানের মৌলিক বিষয়গুলোকে কেউ যদি শুধু অন্তরে বিশ্বাস করে কিন্তু মুখে স্বীকার না করে, তবে সে প্রকৃত ইমানদার হতে পারবে না। আবার মুখে স্বীকৃতি দিয়ে অন্তরে বিশ্বাস না করলেও ইমানদার হতে পারবে না। বস্তুত আন্তরিক বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও তদনুযায়ী আমলের সমষ্টিই হলো প্রকৃত ইমান। জায়েদ আল্লাহ, রাসুল, ফেরেশতা, আখিরাত, তাকদির, পুনরুত্থান ইত্যাদি বিষয়কে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে এবং মুখে স্বীকার করে। সে তার বিশ্বাস অনুসারে আমল করতে যথাসম্ভব চেষ্টা করে। সুতরাং জায়েদের কর্মকাণ্ডে প্রকৃত ইমানদারের পরিচয় ফুটে উঠেছে। তাই তার কর্মকাণ্ডকে ইমান হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।
নয়নের কর্মকান্ডের পরিণতি নিশ্চয়ই খারাপ" বক্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নয়নের কর্মকান্ডে মুনাফিকি প্রকাশ পেয়েছে। মুনাফিকদের পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয় মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে" (সূরা আন-নিসা: ১৪৫) পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, যখন মুনাফিকরা ইমানদারদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা ইমান এনেছি। যখন তারা গোপনে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, আমরা তাদের সাথে শুধু ঠাট্টা-তামাশা করে থাকি। (সূরা আল-বাকারা: ১৪) কুরআনে বর্ণিত এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে নয়নের কর্মকান্ডের পুরো মিল রয়েছে। আর এজন্যই সে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। এছাড়া পৃথিবীতে নিফাকি জঘন্য পাপ হিসেবে গণদ হয়। এটা মানুষের চরিত্র ধ্বংস করে ফেলে। নিফাকের ফলে মানুষ অন্যায় ও অশ্লীল কাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ফলে মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়। এটি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহের সৃষ্টি করে। ফলে সমাজে মারামারি ও অশান্তির সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের নয়ন জায়েদের সাথে ইমানদার সুলভ আচরণ করে কিন্তু তার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের সাথে থাকাকালীন তাদেরকে বলে, আমি তোদের ধর্মকেই বিশ্বাস করি। জায়েদের সাথে সালাত আদায় করি ওকে খুশি করার জন্য।
সুতরাং নয়নের কর্মকান্ডে নিফাকি প্রকাশ পেয়েছে। আর নিফাকির শাস্তি হলো জাহান্নাম। নিফাকির কারণে মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তরে থাকবে। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যটি যথার্থ।
তাকদির অর্থ ভাগ্য। তাকদির আল্লাহ তায়ালা থেকে নির্ধারিত। ভালোমন্দ যা কিছু হয় সবই আল্লাহ তায়ালার হুকুমে হয়। এ বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করাকে তাকদিরে বিশ্বাস বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!