ছেলেটি বড়ো হয়ে ওঠার পর আমগাছের সাথে আর নিয়মিত খেলতে আসত না বলে আম গাছটি প্রায়ই একলা দাঁড়িয়ে থাকত।
শৈশবে ছেলেটি প্রতিদিনই আমগাছের কাছে আসত। সেসময় আমগাছের সাথে সে নানা খেলায় মেতে উঠত। কিন্তু শৈশবকাল অতিক্রম করার পর স্বাভাবিকভাবেই তার খেলার ঝোঁক কমে আসে। ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। ফলে আমগাছের কাছে সে পূর্বের মতো প্রতিদিন আসত না। তাই আমগাছটিকে প্রায়ই একলা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত। ছেলেটির বয়স বাড়ার সাথে তার জীবনযাপন প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হয়ে গেলে গাছটি একলা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে থাকত ছেলেটির জন্য।
Related Question
View All'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পে দেখা যায় একটি আমগাছ একটি ছেলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে তার সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছে। যা তাকে করে তুলেছে মহত্ত্বের অধিকারী।
'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পটি একটি আমগাছ ও একটি ছেলেকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। গল্পটিতে দেখা যায় একটি ছেলের শৈশবে সে একটি নিঃসঙ্গ আমগাছের ছায়ায় আপন মনে খেলাধুলা করত। আমগাছটি তার একাকী জীবনে বালকটির সংস্পর্শ পেয়ে আনন্দিত হতো। বালকটির উপস্থিতি তাকে উৎফুল্ল করত। ধীরে ধীরে বালকটি বড়ো হয়ে উঠতে থাকলে তার জীবনযাপনের ধারা পালটে যায়। সে আর আমগাছের সাথে খেলতে আসে না। দীর্ঘদিন পর যখন ছেলেটি আমগাছটির কাছে আসে, তখন তার খেলাধুলা করার সেই সরল জীবন আর নেই। সে তার দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে আমগাছের কাছে সাহায্য চাইতে আসে। গাছটি তখন তার আমগুলো ছেলেটিকে দিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে ছেলেটির বাড়ি বানানোর প্রয়োজন হলে নিজের ডালপালা দিয়ে দেয়। আরও অনেকদিন পরে বিষণ্ণ ছেলেটির মন ভালো করতে নৌকা বানানোর প্রয়োজন হলে আমগাছটি নিজের কান্ডটাও দিয়ে দেয়। আরও বহুদিন পরে নিজের অবশিষ্ট থাকা গুঁড়িতেই ছেলেটিকে আশ্রয় দেয় আমগাছটি। ছেলেটির জীবন প্রক্রিয়ার সাথে নিজেকে বিলিয়ে দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে গেলেও গাছটির বিন্দুমাত্র অনুশোচনা থাকে না। অন্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারাতেই ছিল তার আনন্দ। গল্পটি পড়ে উপলব্ধি হয়, যারা মহৎ, তাদের কাছে অপরের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝে কোনো অনুশোচনা থাকে না, বরং এতেই তাদের জীবন সার্থক হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!