বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর অনুষ্ঠান প্রযোজনায় মুস্তাফা মনোয়ার মৌলিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
শিল্পকলার মূল সত্য হলো আনন্দে অবগাহন করা। আলোচ্য গানের কথাতেও বলা হয়েছে যে- ধরণিতে আনন্দের ধারা বয়ে চলছে, যা শিল্পকলার মূল সত্যকে স্পর্শ করে।
মনের চাহিদা মেটাতে আনন্দের বিকল্প নেই। এ আনন্দে অবগাহনের জন্য পৃথিবীর মানুষ হাজারো প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু আনন্দ লাভ করাই শিল্পকলার মূল সত্য, তাই বলা যায়-আলোচ্য গানটি শিল্পকলার মূল সত্যই প্রকাশ করে।
উদ্দীপকের শিশুর কর্মে 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধের সৌন্দর্যের মাধ্যমে আনন্দ লাভের দিকটির পরিচয় মেলে।
মানবমনের আছে নিজস্ব গতি, আছে ছন্দ। আপন গতিতে চলতে চলতেই মন সৌন্দর্যের সন্ধান করে। কারণ একমাত্র সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েই মানুষ লাভ করে নিটোল আনন্দ। সৌন্দর্য সৃষ্টি এবং সৌন্দর্য দর্শন মানবজীবনের অপরিহার্য সত্য।
'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে এ বিষয়টিই প্রবন্ধকার উপস্থাপন করেছেন। মানুষ তার আপন ভাষায় আর কর্মে প্রকৃতিজগতের সৌন্দর্যকে মূর্ত করে তোলে। আপন মনের আনন্দে চলে তার সৌন্দর্য সৃষ্টি যা অপরকেও আনন্দ দেয়, ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে। উদ্দীপকের শিশুটি নিজের ভালো লাগা থেকেই খেলাচ্ছলে নদীর তীরে বালু দিয়ে ঘর বানায়। একটি সুন্দর পরিবেশের জন্য সে ঘরের আশপাশকে পরিচ্ছন্ন করে তোলে, ঘরের দেয়ালে সুন্দর করে নকশা বানায়। সৌন্দর্য সৃষ্টি এবং সৌন্দর্য লাভই এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের ভাবই 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধের মূলীভূত সত্য। মন্তব্যটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
সৌন্দর্য সৃষ্টি এবং সৌন্দর্য দর্শনের মূল কথাই হলো আনন্দ লাভ। তাই যুগে যুগে সৃষ্টি হয়েছে চিত্রকলা, নাট্যকলা, সংগীতকলা প্রভৃতি শাখার। প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে মানুষের এ সৌন্দর্য সাধনা; এ সাধনা এক চলমান প্রক্রিয়া।
'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে প্রবন্ধকার এ সত্যটিই ব্যক্ত করেছেন। প্রকৃতিজগতে প্রতিনিয়ত চলছে সৌন্দর্য সৃষ্টির কাজ, আর প্রকৃতিজগতের এ সৌন্দর্য অবলোকন করে মানুষ আনন্দ লাভ করে। প্রকৃতিজগতের সৌন্দর্যকে মানুষ ফুটিয়ে তোলে চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, নৃত্য, কবিতা, গানে। সুন্দরের এই বোধ মানুষের মনকে তৃপ্ত করে। উদ্দীপকের শিশুটির কাজে এই সৌন্দর্য সৃষ্টির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে যা শিশুটিকে আনন্দ দেয়।
উদ্দীপক এবং 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে সৌন্দর্য সৃষ্টির মাহাত্ম্যই বর্ণিত হয়েছে। এই সৌন্দর্য সৃষ্টির মূলকথা হলো আনন্দ লাভ। এ বিষয়টিই আলোচ্য প্রবন্ধের মূলীভূত সত্য।
Related Question
View Allমুস্তাফা মনোয়ার ঝিনাইদহ জেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রয়োজন এবং অপ্রয়োজন মিলেই সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে, মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।
আমরা আমাদের মনের চাহিদামাফিক জিনিসটি সুন্দর হিসেবেও পেতে চাই। সামান্য কাঁথা যেটি আমরা ব্যবহার করে থাকি, তা যদি নানা রকম নকশা তুলে নকশিকাঁথায় রূপান্তরিত করা হয় তখন এটির সৌন্দর্যের দিকেই আমরা বেশি মনোযোগী হই, প্রয়োজনের কথা মনেই থাকে না। প্রয়োজন শরীরকে তৃপ্ত করে, আর সৌন্দর্য তৃপ্ত করে আমাদের মনকে। এভাবেই প্রয়োজন আর অপ্রয়োজন মিলেই মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।
ক্যাম্পাসে মেহেরুন্নেসা শিল্পকলার ভাস্কর্যের দিকটি দেখছেন। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, সংগীত, নৃত্য, কবিতা সবকিছুর মধ্য দিয়েই সুন্দরকে প্রকাশ করা হয়। আর এই মাধ্যমগুলোই বিভিন্ন আঙ্গিকের শিল্পকলা।
উদ্দীপকে বর্ণিত মেহেরুন্নেসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে বান্ধবীদের সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে 'সংশপ্তক' ভাস্কর্য দেখতে পান। 'সংশপ্তক' অর্থ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে সামনে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করেই সংশপ্তক নির্মিত হয়েছে। মুস্তাফা মনোয়ার 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে এ ধরনের ভাস্কর্যের কথা বলেছেন। তিনি আমাদের দেশের বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্যের কথা বলেছেন। যেমন- শক্ত পাথর কেটে বানানো, গলিত মেলেট দিয়ে বানানো ও পোড়া মাটির ভাস্কর্য ইত্যাদি। উদ্দীপকের মেহেরুন্নেসা তেমনই একটি ভাষ্কর্য দেখেছেন, যার নাম সংশপ্তক।
"মেহেরুন্নেসার দেখা সংশপ্তকই শিল্পকলার প্রধান দিক"-মন্তব্যটি যথার্থ।
ভাস্কর্য শিল্পকলার একটি প্রধান দিক। ভাস্কর্য একটি দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে। বর্তমানে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে।
'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে লেখক মানুষের মনের সৌন্দর্য প্রকাশ করার বিভিন্ন মাধ্যমের কথা বলেছেন। এই মাধ্যমগুলোর একটি হচ্ছে ভাস্কর্য তৈরি। এক ধরনের ছাঁচ বানিয়ে গলিত মেটাল ঢেলে গড়ন বানানো, এই ধরনের কাজকে বলে ভাস্কর্য। আমাদের দেশে পোড়ামাটির ভাস্কর্য খুব প্রসিদ্ধ ছিল। সব শিল্পকলার মূল বস্তুর সমন্বয়ে তৈরি হয় এ ভাস্কর্য। এ জন্য ভাস্কর্য এত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে শিল্পকলার অন্যতম প্রধান এই দিকটিরই ইঙ্গিত করা হয়েছে। মেহেরুন্নেসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য 'সংশপ্তক' প্রত্যক্ষ করেন; যা 'শিল্পকলার নানাদিক' প্রবন্ধে বর্ণিত শিল্পকলার প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকের মেহেরুন্নেসার দেখা 'সংশপ্তক' একটি ভাস্কর্য। 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনায় যে শিল্পের কথা গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছেন লেখক। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'পুরাকাল' শব্দের অর্থ প্রাচীনকাল বা অনেক আগেকার সময়।
জগতের সৌন্দর্যের আনন্দ-ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশ ও মানুষ। সম্পর্কে জানার জন্য শিল্পকলা চর্চা সকলের পক্ষে অপরিহার্য।
ভুবনে যে আনন্দধারা প্রবাহিত হচ্ছে তাতে শিল্পকলার মূল সত্যটি প্রকাশিত। সব মানুষই জীবনের এ আনন্দকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। কারণ আনন্দ প্রকাশ মানুষের জীবনীশক্তির প্রবলতারই প্রকাশ। এছাড়াও দেশ ও দেশের মানুষকে জানা যায় শিল্পকলার চর্চা দেখে। এ বিবেচনায় শিল্পকলা চর্চা সকলের পক্ষে অপরিহার্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!