যে বন্ডের ক্ষেত্রে বন্ডের ধারককে কোনো সুদ প্রদান করা হয় না তাকে শূন্য কুপন বন্ড বলে।
সাধারণ শেয়ার ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে একটি কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ করলে এদের মধ্যে কতিপয় ক্ষেত্রে পার্থক্য বিদ্যমান।
সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানি ইক্যুইটি মূলধন সংগ্রহ করে এবং বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে। সাধারণ শেয়ার ক্রেতারা কোম্পানির মালিক হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে বন্ডহোল্ডাররা কোম্পানির ঋণদাতা হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ভোটাধিকার থাকে কিন্তু বন্ডের ক্ষেত্রে থাকে না । সাধারণ শেয়ার থেকে অধিক আয়ের সুযোগ থাকলেও বন্ডের আয় হার নির্দিষ্ট বিধায় অধিক আয়ের সুযোগ নেই।
এখানে,
বন্ডের লিখিত মূল্য (FV) = ৪,০০০ টাকা
সুদের হার = ১৫%
৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে নিম্নোক্ত বন্ড বিক্রয় করতে হবে।
বন্ডের সংখ্যা = ৫০০,০০,০০,০০০ ÷ ৪,০০০
= ১২,৫০,০০০টি
প্রতিটি বন্ডের সুদের পরিমাণ (Ⅰ) = ৪,০০০ ১৫%
= ৬০০ টাকা
মোট ইস্যুকৃত বন্ডের বার্ষিক সুদের পরিমাণ = (১২,৫০,০০০ ৬০০) টাকা = ৭৫,০০,০০,০০০ টাকা
সুতরাং পাঁচশত কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে ১২,৫০,০০০টি বন্ড বিক্রয় করতে হবে এবং বার্ষিক সুদ বাবদ ৭৫,০০,০০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশ কর্তৃক প্রস্তাবিত বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
এখানে
লিখিত মূল্য (FV) = ৪,০০০ টাকা
সুদের হার = ১৫%
সুদের পরিমাণ (1) = ৪,০০০ ১৫% = ৬০০ টাকা
সুযোগ ব্যয়ের হার (Ka) = ২০% বা, ০.২০
আমরা জানি,
চিরস্থায়ী বন্ডের বর্তমান মূল্য,
=
= ৩,০০০ টাকা
লক্ষণীয় যে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ইস্যুকৃত বন্ডের বাজারমূল্য ৪,০০০ টাকা যা বন্ডের বর্তমান মূল্য ৩,০০০ টাকা হতে বেশি। এক্ষেত্রে বন্ডটিতে বিনিয়োগ করলে ক্ষতি হবে (৪,০০০ - ৩,০০০) = ১,০০০ টাকা। এমতাবস্থায় বলা যায়, বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ডটি ক্রয় করা উচিত হবে না।
[নোট: সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাজারমূল্য প্রয়োজন, যা প্রশ্নে উল্লেখ নেই। তাই বন্ডের লিখিত মূল্যকে বাজারমূল্য ধরে নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো।]
Related Question
View Allযে বন্ডের অভিহিত মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করা হয় তাকে কুপন বন্ড বলে।
একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য যে মূলধনের প্রয়োজন হয় তাকে কার্যকরী মূলধন বলে।
চলতি সম্পদ ও চলতি দায় নিয়ে কার্যকরী মূলধন গঠিত। কার্যকরী মূলধনকে ব্যবসায়ের জীবনীশক্তি বলা হয়। কারণ এটা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে কোম্পানির উৎপাদন ও বিক্রয়কার্য পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
A বন্ডের চলতি আয়ের হার নির্ণয় :
এখানে,
অভিহিত মূল্য (FV) = ১,০০০ টাকা
বাজারমূল্য (SV) = ১১০০ টাকা
সুদের পরিমাণ (I)= ১০০০ ১২ % = ১২০ টাকা
আমরা জানি,
চলতি আয়ের হার
=
= ১০.৯১%
সুতরাং A বন্ডের চলতি আয়ের হার ১০.৯১%।
A বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
এখানে,
অভিহিত মূল্য (FV) = ১,০০০ টাকা
বাজারমূল্য (SV) = ১,১০০ টাকা
প্রত্যাশিত আয়ের হার (Kd) = ১০%
সুদের পরিমাণ (I) = ১,০০০ × ১২% = ১২০ টাকা
আমরা জানি,
অপরিশোধযোগ্য বন্ডের বর্তমান মূল্য,
= ১,২০০ টাকা
B বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
এখানে,
পরিপক্ক মূল্য (MV) = ১,৫০০ টাকা
বাজারমূল্য (SV) = ৬০০ টাকা
মেয়াদকাল (n) = ১২ বছর
প্রত্যাশিত আয়ের হার (Kd) = ১০% বা, ০.১০
আমরা জানি ,
জিরো কুপন বন্ডের মূল্য
=
=
=
= ৪৭৭.৯৫ টাকা
লক্ষণীয় যে, A বন্ডের বাজারমূল্য ১,১০০ টাকা যা বন্ডের বর্তমান মূল্য ১,২০০ টাকা হতে কম। এ বন্ডে বিনিয়োগ করলে লাভ হবে (১,২০০ - ১,১০০) = ১০০ টাকা। অপরপক্ষে, B বন্ডের বাজারমূল্য ৬০০ টাকা যা বন্ডের বর্তমান মূল্য ৪৭৭.৯৫ টাকা হতে বেশি। এ বন্ডে বিনিয়োগ করলে ক্ষতি হবে (৬০০ – ৪৭৭.৯৫) = ১২২.০৫ টাকা। এমতাবস্থায় জনাব স্বপনের A বন্ডে বিনিয়োগ করা উত্তম হবে।
৫ বছরের অধিক সময়ের জন্য যে অর্থায়ন করা হয় তাকে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে।
যে শেয়ারহোল্ডারগণ লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে ও মূলধন প্রত্যাবর্তনে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে অগ্রাধিকার পায় তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।
যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে নির্দিষ্ট হারে আয় প্রত্যাশা করে, তাদের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার একটি ভালো বিনিয়োগ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক অগ্রাধিকার শেয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের বিকল্প সুযোগ থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!