আইনের শাসনের মূলকথা হচ্ছে- আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।
আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান অর্থাৎ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র, নারী- পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য।
আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে। আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান এর অর্থ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ- লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে আইনের সমান আশ্রয় লাভ করা। এর ফলে ধনী- দরিদ্র, সবল-দুর্বল সকলে সমান অধিকার লাভ করে। সাম্য, স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতা অত্যাবশ্যক। আইনের শাসন একটি সভ্য সমাজের মানদণ্ড।
জনাব আকবরের আইনের অনুশাসন মেনে চলার পেছনে বিবেকবোধ ও নৈতিকতার ধারণা কাজ করেছে।
মানুষ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন বলেই সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে পরিচিত। একজন বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ কখনো আইন অমান্য করে না। অন্যদিকে নৈতিকতাও মানুষকে আইন অমান্য করতে বাধা দেয়। বিবেক ও নৈতিকতাবোধের তাড়নায় মানুষ আইনের অনুশাসন মেনে চলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আকবর একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার অধস্তন কর্মচারীরাও প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন মেনে নিজ নিজ দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করেন। এখানে জনাব আকবরের আইনের অনুশাসন মেনে চলার পেছনে তার বিবেকবোধ ও নৈতিকতা প্রবলভাবে কাজ করেছে। সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা যদি তার মতো সততার নীতি অনুসরণ করেন, তবে প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত হবে, নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক সমাজ, প্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
"জনাব আকবরের প্রতিষ্ঠানে আইন ও স্বাধীনতার সমন্বয় ঘটেছে"- উক্তিটির সাথে আমি একমত।
আইন ও স্বাধীনতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আইন সামাজিক কল্যাণ সাধন করে, ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথ সুগম করে ও স্বাধীনতার ক্ষেত্র প্রসারিত করে। আবার আইন স্বাধীনতাকে যথাযথভাবে উপভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং আইনের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যক্তির স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে বাধা অপসারণ করে। যার ফলে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে এবং সামগ্রিক কল্যাণ সাধিত হয়। আবার আইন স্বাধীনতার অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবে কাজ করে। ফলে আইনের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকারসমূহ সুরক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব আকবর এবং তার অধস্তন কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানের আইন মেনে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ তাদের কাজের ক্ষেত্রে আইন ও স্বাধীনতার সমন্বয় লক্ষ করা যায়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জনাব আকবর সাহেবের প্রতিষ্ঠানে আইন ও স্বাধীনতার সমন্বয় ঘটেছে- উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View All'কমেনটরিজ অন দ্যা লজ অব ইংল্যান্ড' গ্রন্থটি ব্রিটিশ আইনজ্ঞ স্যার উইলিয়াম ব্লাকস্টোনের (Sir William Blackstone)।
এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
বিভিন্ন রাষ্ট্র পরস্পরের সাথে কেমন আচরণ করবে, এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের সাথে কেমন ব্যবহার করবে, কীভাবে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান করা হবে তা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
জনাব শ্যামল মিত্র যেখানে বিল উত্থাপন করেন তা আইনের প্রধান উৎস আইনসভাকে নির্দেশ করে।
জনাব শ্যামল মিত্র একজন সংসদ সদস্য। তিনি তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদে একটি বিল উত্থাপন করলে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। আর জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের আইনসভা। আধুনিককালে আইনের শ্রেষ্ঠতম ও বৃহত্তম উৎস হচ্ছে আইনসভা। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং প্রয়োজনবোধে আইনের রদবদল ও সংশোধন করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভার অপ্রতিহত ক্ষমতা রয়েছে। তার প্রভার সর্বত্র বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শ্যামল মিত্র তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য আইনসভায় বিল উত্থাপন করেন।
জনাব অর্ক 'বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস- উক্তিটি যথার্থ।
বিচারকের রায় আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিচারকগণ সাধারণত দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার করেন। আদালতে উত্থাপিত মামলার বিচার কাজ সম্পাদন করার জন্য প্রচলিত আইন অস্পষ্ট হলে বিচারকগণ তাদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন আইন তৈরি করে উক্ত মামলার রায় দেন এবং প্রয়োজনবোধে ঐ আইনের ব্যাখ্যা দেন। পরবর্তীকালে অন্যান্য বিচারকগণ সেসব রায় অনুসরণ করে বিচার করেন। এভাবে বিচারকের রায় আইনে পরিণত হয়। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক দুই প্রধান বিচারপতি জন মার্শাল (John Marshall) ও চার্লস হিউজেস (Charles Evans Hughes) বহু নতুন আইন সৃষ্টি করেছেন।
উদ্দীপকের জনাব অর্ক বড়ুয়ার ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই, তিনি একটি দেশের উচ্চ আদালতের প্রধান। একটি মামলায় অপরাধীর সাজা নির্ধারণের সময় প্রচলিত আইনের সাথে মিল না পেয়ে তিনি তার প্রজ্ঞা ও বিচার-বুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে সাজা নির্ধারণ করেন। বিচারক অর্ক বড়ুয়ার এ কাজের সাথে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বিচারকের রায়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, অর্ক বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
সাম্যকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়।
আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাই আইনের অধীন।
আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এর অর্থ জাতি-ধর্ম-বর্ণ- লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে আইনের সমান আশ্রয় লাভ করাকে বোঝায়। এ বিষয়টি সমাজে প্রতিষ্ঠা পেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!