১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক পরিচালিত সমীক্ষাটির নাম হচ্ছে LPTS.
পৌরনীতির পাঠ নাগরিকদের মধ্যে দেশাত্মবোধ সৃষ্টি করে। পৌরনীতির পাঠ নাগরিকদের মধ্যে নিজের ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা সৃষ্টি করে। এজন্যই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একজন নাগরিক প্রয়োজনে জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হয় না।
উদ্দীপকে সুশাসনে জবাবদিহিতা এ বৈশিষ্ট্যটি প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ জবাবদিহিতা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য।
শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং ব্যক্তিগত ও সমবায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের অংশীদার তথা সার্বিকভাবে জনসাধারণের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে এবং সে সাথে জবাবদিহি করবে। কিন্তু উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তার মাঝে এ জবাবদিহিতার বিষয়টি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকায় জনাব আব্দুর রহমান তিন দিনেও তার কাজ ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। আসল কথা জনগণের নিকট সরকারি আমলাদের কোনো জবাবদিহি না থাকায় প্রশাসন স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। প্রশাসনিক এরূপ ব্যবস্থায় সুশাসন মরীচিকায় পরিণত হয়। উদ্দীপকের ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের মাধ্যমেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে- যা সুশাসনের অন্তরায়।
জনাব আব্দুর রহমানের মতো অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমার সুপারিশসমূহ নিচে উপস্থাপন করা হলো-
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সুশাসনের পথে এক বড় বাধা। আমলাতন্ত্রে জবাবদিহিতার অভাব, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা সুশাসনের পথকে বন্ধুর করে তোলে। আমলারা যাতে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদেরকে মনে করেন এবং তাদের কাজের জন্য যেন জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের সাথে যদি সরকারের দূরত্ব তৈরি হয় হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক অনেক জটিল সমস্যাকে সহজ করে দেয়। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করে এবং সুচিন্তিত পরামর্শ গ্রহণ করে সরকার জনগণের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের যদি দুর্নীতি থাকে তবে তা এক বিরাট বৈষম্যের সৃষ্টি করে। জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করতে পারে। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে দুর্নীতি দমন করা যায়। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন এবং কঠোর আইন করা দরকার। উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হলে আর কেউ দুর্নীতি করার সাহস পাবে না।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!