সবর শব্দের অর্থ ধৈর্যধারণ করা।
ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী অন্যতম মানদণ্ড হলো নামাজ। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয়। এটি ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির ওপর ফরজ। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা মুমিনদের ওপর ফরজ" (সুরা আন নিসা: ১০৩)। এটি এমন এক মৌলিক ইবাদত যার মাধ্যমে ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। রাসুল (স) বলেন, "ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী হলো সালাত" (মুসলিম)। যে ব্যক্তি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করে সে মুমিন। আর নামাজ আদায় না করা কুফরি হিসেবে বিবেচিত হয়। রাসুল (স) বলেন, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিলো, সে যেন কুফরি করলো" (সহিহ ইবন হিব্বান)।
উদ্দীপকের জনাব আরাফাতের উপার্জন হলো ঘুষ, যা হারাম হিসেবে বিবেচিত। ঘুষ একটি জঘন্যতম সামাজিক অনাচার। যে বস্তু বা বিষয় লাভের অধিকার ব্যক্তির নেই সে যদি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে কোনো কিছু দেওয়ার মাধ্যমে সে অধিকার লাভ করে তাহলে তা ঘুষ বলে বিবেচিত হবে। ঘুষ শুধু অর্থের লেনদেন নয়, বরং অন্যায় সুবিধা নেওয়ার জন্য যা কিছু দেওয়া হয় তা ঘুষের পর্যায়ভুক্ত। অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে এটি একটি হারাম পন্থা। মুমিনদের জন্য ঘুষ লেনদেন ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে। যা আরাফাতের কর্মকান্ডের মধ্যে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের জনাব আরাফাত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত সালাতসহ ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করলেও ঘুষ ছাড়া অফিসের ফাইল সই করেন না। অর্থাৎ তিনি ঘুষের বিনিময়ে কাজ করেন। অফিসের ফাইল সই করার বিনিময়ে তিনি যে ঘুষ নেন তা সম্পূর্ণ হারাম উপার্জন। আল্লাহ বলেন, 'বলুন মুহাম্মদ (স), হারাম ও অপবিত্র জীবিকা এবং পবিত্র জীবিকা সমান নয়। যদিও হারামের আধিক্য তোমাদের বিস্মিত করে। অতএব, হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় কর' (সুরা আল্ মায়িদা: ১০০)। জনাব আরাফাত অফিসের ফাইল সই করার কারণে তিনি পৃথিবীতে অসম্মানিত হবেন এবং পরকালে কঠোর শাস্তি পাবেন।
ইবাদতের পূর্বশর্ত হলো বৈধ উপার্জন'- ইমাম সাহেবের এ মন্তব্য যথার্থ। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন কেবল তাঁর ইবাদতের জন্য। আর হালাল উপার্জন ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান পূর্বশর্ত হলো হালাল বা বৈধ উপার্জন। হারাম খাদ্য খেয়ে ইবাদত করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। রাসুল (স) বলেন, "মানুষ দীর্ঘপথ অতিক্রম করে (কাবায় আসে দোয়া কবুলের আশায়) অবিন্যস্ত চুলে ধূলি ধূসরিত অবস্থায় আকাশের দিকে দু'হাত তুলে ধরে বার বার বলতে থাকে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার রব! অথচ তার খাবার হারাম, তার পানীয় হারাম, হারাম তার পোশাক, এমনকি সে লালিত-পালিত হয়েছে হারামভাবে। এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে?" অন্যত্র তিনি বলেন, "যে গোশত হারাম জীবিকা দ্বারা গঠিত তা বেহেশতে প্রবেশ করবে না।" হারাম উপার্জন ইসলামি বিধানের পরিপন্থি। তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
উদ্দীপকের জনাব আরাফাত নিয়মিত সালাতসহ ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করলেও তিনি ঘুষের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন। অর্থাৎ তিনি হারাম উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ কারণে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। তাই ইমাম সাহেব মন্তব্য করেছেন, "ইবাদতের পূর্বশর্ত হলো বৈধ উপার্জন।" ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে হালাল উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। সুতরাং বলা যায়, ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allইসলামি শরিয়ত নির্দেশিত বৈধ উপায়ে উপার্জন করাকে হালাল উপার্জন বলে।
পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করা ইসলামি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সালাম অর্থ শান্তি। ইসলামি সংস্কৃতির রীতি অনুযায়ী এক মুসলমানের সঙ্গে অন্য মুসলমানের দেখা হলে প্রথমে সালাম বিনিময় করে। এর মাধ্যমে অন্যের শান্তি তথা কল্যাণ কামনা করা হয়। সালাম দেওয়া সুন্নত এবং সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। কেউ সালামের উত্তর না দিলে ইসলামের বিধান অনুযায়ী সে গুনাহগার হবে।
আবদুল বাতেন তার ছেলেকে আল্লাহর ইবাদতের নিয়ম- পদ্ধতি ও হালাল-হারামের বিধান শেখার জন্য ইসলাম শিক্ষা অধ্যয়ন করতে বলেছেন। যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। এটি কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থা। আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা, হালাল উপার্জন ও কর্মমুখী জীবন গঠন, দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতে মুক্তিলাভ প্রভৃতি ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য। আবদুল বাতেন তার ছেলেকে এ বিষয়টি অধ্যয়ন করতে বলেছেন।
উদ্দীপকের আবদুল বাতেন তার একমাত্র ছেলেকে আল্লাহর ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি ও হালাল-হারামের বিধান শেখানোর জন্য একটি বিশেষ বিষয় অধ্যয়ন করতে বলেন। তিনি এখানে ইসলাম শিক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং তা মানার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। ইসলামের বিধিবিধান এবং আল্লাহর ইবাদতের পদ্ধতি শেখানো, জীবনের সবক্ষেত্রে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং ব্যক্তির চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইসলাম শিক্ষা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ প্রদর্শন করে এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রাখে। আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব সংরক্ষণ করাও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।
দৈনন্দিন জীবনে আবদুল বাতেন হালাল-হারামের বিধান মেনে চলেন। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। আবদুল বাতেন দৈনন্দিন জীবনে এ বিধানটি মেনে চলার চেষ্টা করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, জনাব আবদুল বাতেন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেন। তিনি হালাল পথে উপার্জন করেন। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করেন। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের প্রধান পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। হারাম বা অবৈধ জিনিস প্রহণের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এর জন্য পরকালে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
হাক্কুল্লাহ বলতে আল্লাহর প্রতি মানুষের কর্তব্যকে বোঝায়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। আল্লাহর প্রতি মানুষের কর্তব্য পালনের মানে হচ্ছে যথাযথভাবে তার ইবাদত করা। জীবনের সবক্ষেত্রে তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করা এবং তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করা। তার নেয়ামতের শোকর করা এবং সুখে-দুঃখে তার ওপর ভরসা করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!