উৎপত্তিগত দিক থেকে আমলাতন্ত্রের অর্থ হলো দপ্তরনির্ভর বা Desk Government
এই ব্যবস্থায় আমলাগণ একটি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হন। সরকারি আমলাগণ দলীয় আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকেন। সাধারণত কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এই ধরনের আমলাতন্ত্র দৃশ্যমান হয়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বা বর্তমান চীনে কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে সরকারি আমলাতন্ত্র পরিচালিত হয়ে থাকে; যা একদলীয় আমলাতন্ত্রের
প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
উদ্দীপকে একজন আমলা হিসেবে জনাব 'ক' এর মধ্যে আমলাতন্ত্রের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে। জনাব 'ক' সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অর্থাৎ তিনি সরকারে একজন স্থায়ী কর্মকর্তা। জনাব 'ক' মেধার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কেননা সরকারি কর্মকর্তাগণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। উদ্দীপকের জনাব 'ক' এর মেধা ও যোগ্যতাবলে পদোন্নতি ঘটেছে। আর এটি আমলাতন্ত্রের পদসোপানের স্বরূপ। উদ্দীপকের জনাব 'ক' এর মধ্যে আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আমলাদের প্রশাসনিক জীবনে ব্যক্তিজীবনের কোনো প্রভাব থাকবে না এ বিষয়টি লক্ষ করা যায়। কেননা তার ছোট ভাই চাকরির জন্য দরখাস্ত করলেও তার যোগ্যতা না থাকার কারণে চাকরি হয় নি। যা উদ্দীপকে 'ক' এর প্রশাসনিক জীবনের সাথে ব্যক্তিজীবনের কোনো প্রভাব না থাকার পাশাপাশি কঠোর নিয়মানুবর্তিতার বিষয়টির প্রকাশ ঘটায়।
আমি মনে করি একজন আমলা হিসেবে জনাব 'ক' এর মধ্যে আরও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে।
জনাব 'ক' সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে অডিটর পদে নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এ ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন অসদুপায় গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখলেও সরকারি নীতি বাস্তবায়নের জন্য নিজেকে উক্ত ক্ষেত্রে সংগঠনের মালিক মনে করেন নি এবং আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যস্বরূপ দক্ষ, মেধাবী ও যোগ্য লোকদের অডিটর পদে নিয়োগ দেন। তাই জনাব 'ক' এর মধ্যে উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়াও সরকারের নীতিসমূহ বাস্তবায়ন, সরকারের স্থায়ী কর্মকর্তা, সংগঠনের মালিকানায় অংশ না হওয়া এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত বা বিদ্যমান।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!