সমাজবিজ্ঞানী জিসবার্ট পরিবারকে সমাজের জন্মকোষ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পরিবার একটি জৈবিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
বৈবাহিক সূত্রে গঠিত পরিবারেই অন্যান্য সদস্যদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এটাই হলো সমাজের রীতি। এর ফলে প্রতিটি সদস্যদের মাঝে রক্তের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। বিশ্বের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ক দেখা যায় না।
জনাব মনজুরুল ইসলামের পর্যালোচনাকৃত বিষয়টির সাথে পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত 'গণমাধ্যমের' সাদৃশ্য রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম একটি ধারণা বা প্রত্যয় হলো গণমাধ্যম। মানুষের চিন্তা চেতনা ও মনমানসিকতার পরিবর্তনে গণমাধ্যম মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের সামষ্টিক আচার-আচরণ হলো ক্ষণস্থায়ী। এসব আচরণের বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে হয়ে থাকে।
গণমাধ্যম আধুনিকালের সমাজ নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী মাধ্যম। গণমাধ্যম বলতে সংবাদপত্র, রেডিও, কম্পিউটার ইত্যাদিকে বোঝানো হয়। এটি পরিবর্তনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমানকালে এমন সব আধুনিক গণমাধ্যমের আর্বিভাব ঘটেছে যা কিছুদিন আগেও কল্পনা করা যেত না। আধুনিক ICT ভিত্তিক অবাধ তথ্য প্রবাহ সমাজকে আমূল বদলে দিয়েছে। জনাব মনজুরুলের পর্যালোচনাকৃত বিষয়টি মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতার পরিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এটি আধুনিককালের সমাজ নিয়ন্ত্রণের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। এসকল বৈশিষ্ট্য বিচার করে বলা যায়, প্রত্যয়টি গণমাধ্যমকে নির্দেশ করছে।
উক্ত বিষয় অর্থাৎ গণমাধ্যমের ভূমিকার উন্নয়নে জনাব মনজুরুল ইসলাম সাহেব একজন সমাজকর্মী হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
আধুনিক বিশ্বে যোগাযোগের অন্যতম বাহন হলো গণমাধ্যম। এর মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে যোগযোগ স্থাপিত হয়। যার কারণে মানুষের চিন্তাচেতনা ও মন মানসিকতার পরিবর্তনে এটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। যেকোনো সমাজে বিদ্যমান সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিততে গণমাধ্যম তার ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হলে অবস্থার উত্তরণে সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। উদ্দীপকে জনাব মনজুরুল ইসলাম সাহেবের মাধ্যমে যার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন সমাজকর্মী এবং সমাজে গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে অবগত। তিনি বিশ্বাস করেন, গণমাধ্যমের কিছু সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে- বাস্তনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, রুচিসম্মত অনুষ্ঠান প্রচার ও সম্প্রচার, নির্মল ও নির্দোষ বিনোদন আয়োজন, হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার প্রভৃতি। এ ভূমিকা পালনে গণমাধ্যম ব্যর্থ হলে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী তার পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নৈপূণ্যকে কাজে লাগাতে পারেন। এর ফলে গণমাধ্যমের ভূমিকা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে সঠিক ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তোলার ক্ষেত্রে সমাজকর্মীর হস্তক্ষেপ কৌশল সহায়ক হয়। সেইসাথে চাপ প্রয়োগকারী দল হিসেবে অথবা গণমাধ্যমের জন্য উন্নত ভূমিকা পালনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজকর্মী ভূমিকা রাখতে পারেন।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, গণমাধ্যম হলো সমাজের দর্পণ আর সমাজকর্মী হলেন ইতিবাচক সমাজ পরিবর্তনের প্রতিনিধি।
তাই সুষ্ঠু সামাজিক পরিবর্তন ও উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা পালনে মনজুরুল হাসান সাহেবের মতো সমাজকর্মীরা কার্যকর ও অনন্য ভূমিকা রাখতে পারেন।
Related Question
View Allরাজনৈতিক অস্থিরতা বেকারত্ব সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব হয় না। এর ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে পুষ্টিহীনতা সমস্যার চিত্র পাওয়া যায়।
মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকেই সৃষ্টি হয় পুষ্টিহীনতা। খাদ্য তালিকায় ছয়টি পুষ্টি উপাদানের যেকোনো একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে স্বাভাবিক পুষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অপুষ্টি দেখা দেয়। বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতার চিত্র উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ইউনিয়নের অনুরূপ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ১১.৫ ভাগ শিশু স্বাভাবিক এবং ৮৮.৫ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং ৯০ ভাগ শিশু রক্তশূন্যতার শিকার হয়। অপুষ্টির প্রভাবে শিশু মৃত্যু হার বৃদ্ধি, অন্ধত্ব, রাতকানা, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ইউনিয়নের শিশুদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো পাওয়া যায় তা পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যার লক্ষণ।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের উদ্যোগ পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের একটি মৌলিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যা। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলে। খাদ্যের আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন এর অভাব হলে অপুষ্টি জনিত সমস্যা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুর কম ওজন, অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে বাবা-মায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে অভিভাবকদের সচেতনতা অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বাবা-মা শিশুর জন্য পুষ্টিকর বা সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করলে তারা কম ওজন, অন্ধত্ব প্রভৃতি সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। গর্ভাবস্থায় মাকে পুষ্টিকর খাদ্য তথা আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ও সন্তানের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সচেতন হবে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাবা মার সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিহীনতা হ্রাসে চেয়ারম্যানের উদ্যোগ কার্যকর
হবে।
বিবাহের প্রধান ভূমিকা পরিবার গঠন।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা, মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও সুষ্ঠু
সামাজিকীকরণের অভাব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পরিবার মানুষকে সুষ্ঠু বিকাশ, ব্যক্তিত্ব গঠন, উদার আদর্শ, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা প্রদান করে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে যা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখে। পরিবার দায়িত্ব-কর্তব্য, শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, আইনের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি গুণ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। আবার সামাজিক নিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!