প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে উৎপাদনের উপকরণসমূহকে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ, সংগঠন ও পরিচালনা করার কৌশলকে ব্যবস্থাপনা বলে।
ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ পেশা নয়।
বিশেষ ডিগ্রিসংবলিত ব্যক্তিবর্গ যারা রাষ্ট্রস্বীকৃত নিজস্ব সংঘের সদস্য হয়ে নির্দিষ্ট আচরণ বিধি মেনে কোনো বৃত্তিতে লিপ্ত থাকে তাদের ঐ কাজ বা বৃত্তিকে পেশা বলে। বর্তমানকালে ব্যবস্থাপনা সুসংবদ্ধ জ্ঞানের সাথে অনেকটা সম্পৃক্ত হলেও ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গের ন্যায় এর কোনো রাষ্ট্রস্বীকৃত সংঘ নেই।তাই ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ পেশা বলা যায় না।
জনাব মনিরুল ইসলাম ব্যবস্থাপনার উচ্চ স্তরের দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ব্যবস্থাপনাকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও নীতিনির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, কৌশল ও পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে ব্যবস্থাপনার উচ্চ পর্যায় সম্পৃক্ত থাকে। কোনো কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলী, পরিচালকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সচিব ও ক্ষেত্রবিশেষে জেনারেল ম্যানেজার এ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকের জনাব মনিরুল ইসলাম একটি উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নির্ধারণ, নীতিমালা প্রস্তুত, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাজারজাতকরণ কৌশল নির্ধারণের সাথে সম্পৃক্ত। যা উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপকের কাজ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব মনিরুল ইসলাম উচ্চ স্তরের দায়িত্ব পালন করছে।
মনিরুল ইসলাম তাঁর কর্মীদের দক্ষতার সাথে কাজ করতে প্রশিক্ষণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এতে তিনি সফল হবেন বলে আমি মনে করি।
প্রশিক্ষণ হলো এমন একটি চলমান মানবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কর্মীর জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায় এবং কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। তাই -কর্মীর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
জনাব মনিরুল মনে করেন প্রশিক্ষণ কর্মীর দক্ষতা বাড়ায় এবং নির্দিষ্ট কাজ কীভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে বর্ধিত জ্ঞানদান করে। তাই প্রশিক্ষণ কর্মীর বর্তমান কর্মদক্ষতা সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত হয়।
জনাব মনিরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যেহেতু নতুন মেশিন চালনায় অদক্ষ তাই তারা জানেনা নতুন মেশিন কীভাবে অপারেট করতে হবে। এক্ষেত্রে জনাব মনিরুল ইসলাম দুই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারতেন। যেমন: (১) নতুন কিছু দক্ষ কর্মী নিয়োগ প্রদান করতে পারতেন, যারা নতুন মেশিন সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। (২) পুরাতন কর্মীদের নতুন মেশিন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তাদের সেটি অপারেট করতে দেওয়া। এ দুটো পদ্ধতির কোনোটিই জনাব মনিরুল করেন নি। ফলে তার উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিঘ্নতা দেখা দিয়েছে। অতএব কর্মীদের নতুন মেশিন চালনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া ভালো কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ না দিলে কর্মীরা দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারবে না। ফলে উৎপাদন দিনের পর দিন হ্রাস পেতে থাকবে। জনাব মনিরুল ইসলামের উচিত দ্রুত কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে নতুন মেশিন চালনার সুযোগ দেওয়া। দক্ষতার -সাথে মেশিন চালালে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!