একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) ।
বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার একটি অন্যতম কারণ হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র। দরিদ্র লোকের পর্যাপ্ত খাদ্য থাকে না বলে তারা দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। তাই এদের কর্মশক্তি কম। ফলে আয় কম হয়। কম আয়ের কারণে তারা কম সঞ্চয় করে। এ . কারণে বিনিয়োগ কম হয় বা মূলধন কম থাকে। ফলে এরা দরিদ্রই থেকে যায়। দারিদ্র্যের এ চক্রাকার আবর্তের কারণে মানবসম্পদ উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উদ্দীপকের 'X' দেশটির জাতীয় আয় ৪,৫০,০০০ কোটি ডলার এবং লোকসংখ্যা ১২ কোটি।
আমরা জানি, একটি দেশের মোট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে উৎপাদনের যোগফলকে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে 'মাথাপিছু' আয় পাওয়া যায়।
মাথাপিছু আয় = কোনো নির্দিষ্ট বছরের মোট জাতীয় আয়/ঐ বছরের মোট জনসংখ্যা
উদ্দীপকে জনাব রাকিব জানতে পেরেছেন 'X' দেশটির জাতীয় আয় ৪,৫০,০০০ কোটি ডলার এবং লোকসংখ্যা ১২ কোটি।
সুতরাং 'X' দেশের মাথাপিছু আয়
'X' দেশের মাথাপিছু আয় = ৪,৫০,০০০ কোটি ডলার/১২ কোটি
= ৩৭,৫০০ ডলার
তাই বলা যায়, 'X' দেশের মাথাপিছু আয় ৩৭,৫০০ ডলার।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত রকিব সাহেবের মতো মানুষের পাঠানো টাকা আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। উদ্দীপকে জনাব রকিব 'X' দেশে চাকরি, করেন। তার মতো অনেক বাংলাদেশি সেদেশে এবং অন্যান্য দেশে চাকরি করেন। তারা দেশের প্রতি মাসে টাকা পাঠায়। তাদের প্রেরিত অর্থ দ্বারা তাদের পরিবারের সাথে সাথে এ দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।
জনাব রকিব প্রবাসে কাজ করায় যে টাকা পান তা থেকে তিনি দেশে প্রেরণ করায় তা দেশের জাতীয় আয়কে বৃদ্ধি করছে। তার আয়ের দ্বারা তার পরিবার জীবনযাপন করে। তাই তার দ্বারা পরিবারের সকলের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। এ অর্থ কেবল তার পরিবারের প্রয়োজন মেটায় না কিংবা তাদের জীবনযাত্রার মানই বাড়াচ্ছে না, নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রোখে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের বড় অংশ আসছে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স থেকে। এ ছাড়াও দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে না পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে জনাব রকিবের মতো প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ। দেশের অর্থনীতি উন্নতির পিছনে রেমিটেন্সের বৃদ্ধি বা প্রেরিত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। বিশ্বব্যাংকের মতে, রেমিটেন্সপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৮ম।
তাই বলা যায়, জনাব রকিব ও তার মতো অন্যান্য প্রবাসীদের পাঠানো টাকা আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়ে থাকে।
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছরে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মোট অর্থমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বা সামগ্রিক আয় বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) হলো একটি দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার অর্থমূল্যের যোগফল। এতে দেশের নাগরিকদের বিদেশে করা আয়ের যোগ হয় এবং বিদেশিদের দেশে করা আয় বাদ দেওয়া হয়।
মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের মোট জাতীয় আয়ের সাথে সে দেশের জনসংখ্যার ভাগফল। এটি দেশের নাগরিকদের গড় আয় বোঝায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে সাধারণত দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরিচায়ক হয়।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে শিল্প, সেবা এবং কৃষিখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়াও দারিদ্র্য দূরীকরণ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) সাধারণত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি ও আয়ের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ এবং দেশের অর্থনীতির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!