মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য কী কী প্রয়োজন?

Updated: 21 hours ago
উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে শিল্প, সেবা এবং কৃষিখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়াও দারিদ্র্য দূরীকরণ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

219

বাংলাদেশকে বলা হয় কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে কিছু লোক যেমন- তাঁতি, জেলে, কুমার, কামার, মুদি দোকানদারও ছোটখাটো ব্যবসা করে জীবন ধারণ করে। শহরাঞ্চলের মানুষ প্রধানত চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে। এছাড়াও শহরে বহু লোক রিক্সা, ঠেলা ও ভ্যানগাড়ি চালক, মুটে, মজুর, ছোট দোকানদার ও ফেরিওয়ালা ইত্যাদি হিসাবে জীবন ধারণ করে। এসব কাজ হয় ব্যক্তি উদ্যোগে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানায়ও এদেশে কিছু কিছু শিল্পকারখানা এবং রেল, সড়ক ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক খাতও রয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি মালিকানায় দেশে অনেক শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেশের উন্নয়নে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাছাড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে এই খাত থেকে। এভাবে সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতকে নিয়েই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জীবনধারা বিকশিত হচ্ছে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি), মোট জাতীয় উৎপাদন (জিএনপি) ও মাথাপিছু আয়ের ধারণা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করতে পারব; 

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) যেসব খাত অবদান রাখছে তা বর্ণনা করতে পারব; 

মানব সম্পদ উন্নয়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব ; 

বাংলাদেশে মানব সম্পদ উন্নয়ন পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারব এবং অন্যান্য দেশের মানব সম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে তুলনা করতে পারব ; 

মানব উন্নয়ন সূচকের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব ; 

মানব উন্নয়ন সূচকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশের তুলনা করতে পারব; 

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিটেন্স ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব; 

মানব উন্নয়ন সূচকের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের মনোভাব অর্জন করব।

 

মোট দেশজ উৎপাদন ( Gross Domestic Product : GDP) 

একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতি বছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)। জিডিপি হিসাব করা হয় মূলত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তি বা সামর্থ্য বোঝার জন্য। 

তবে দেশের কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশে কাজ করে অথবা কোনো কোম্পানি যদি বিদেশে ব্যবসা করে দেশে টাকা পাঠায় সেই আয় মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হিসাবে পরিগণিত হবে না অর্থাৎ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। মূলত জিডিপি হচ্ছে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের আর্থিক মূল্য।

 

মোট জাতীয় উৎপাদন ( Gross National Product : GNP) 

একটি দেশের নাগরিক নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) যে সকল দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)। অর্থাৎ একটি দেশের নাগরিক নিজ দেশসহ বিশ্বের যেখানেই চাকরি বা ব্যবসা করুক না কেন যখন তাদের অর্জিত আয় দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয় তখন তা মোট জাতীয় উৎপাদন হিসাবে বিবেচিত হবে। জিএনপি হিসাব করা হয় একটি দেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক অবদান বোঝার জন্য। যেমন—কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশে চাকরি বা ব্যবসা করে অর্জিত অর্থের যে পরিমাণ অর্থ বৈধপথে বাংলাদেশে পাঠায় তা বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের অংশ হবে।

 

মাথাপিছু আয় ( Per Capita Income : PCI) 

একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায় । এর মাধ্যমে একটি দেশের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করা হয় । যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান তত উন্নত এবং অর্থনীতি তত বেশি সমৃদ্ধ ।

যে কোনো দেশের কৃষি, শিল্প, সেবাসহ যাবতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের আয় বৃদ্ধি করা। জনগণের আয় বৃদ্ধি পেলে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ফলে ধীরে ধীরে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৯২৮ মার্কিন ডলার; যা ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ২০৬৪ মার্কিন ডলারে ।

একটি দেশ কতোটা উন্নত বা অনুন্নত তা বিচার করা হয় কতোগুলো সূচক বা মানদণ্ডের সাহায্যে। এই মানদণ্ডগুলো হলো দেশটির মোট জাতীয় উৎপাদন, জনগণের মাথাপিছু আয়, জীবনযাত্রার মান প্রভৃতি। এইসব দিক বিচারে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নতি লাভ করেছে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছরই পূর্ববর্তী বছরগুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে যেমন আছে আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন তেমনি আছে প্রবাসে কর্মরত শ্রমিক ও অন্যান্য চাকরিজীবীদের অবদান। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাবে দেখা যায়, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে যেখানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) পরিমাণ ছিল ৩,৭০,৭০৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এর পরিমাণ ২৭,৯৬,৩৭৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। (উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২০ )

দেশের কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি। দেশে উৎপাদন বাড়লে জনগণের জীবনযাত্রার উপর তার প্রভাব পড়বে। দারিদ্র্য হ্রাস পাবে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, বেকারত্ব হ্রাস পাবে। এর সঙ্গে যদি আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তবে প্রবৃদ্ধির সূচকে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।

কাজ : জাতীয় উৎপাদন ও মাথাপিছু আয় ধারণা দুটি ব্যাখ্যা করো ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়ে থাকে।

147
উত্তরঃ

একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছরে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মোট অর্থমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বা সামগ্রিক আয় বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।

188
উত্তরঃ

মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) হলো একটি দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার অর্থমূল্যের যোগফল। এতে দেশের নাগরিকদের বিদেশে করা আয়ের যোগ হয় এবং বিদেশিদের দেশে করা আয় বাদ দেওয়া হয়।

148
উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের মোট জাতীয় আয়ের সাথে সে দেশের জনসংখ্যার ভাগফল। এটি দেশের নাগরিকদের গড় আয় বোঝায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে সাধারণত দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরিচায়ক হয়।

165
উত্তরঃ

মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) সাধারণত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি ও আয়ের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ এবং দেশের অর্থনীতির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

162
উত্তরঃ

মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) একটি দেশের নাগরিকদের দেশ এবং রিদেশে করা আয়ের যোগফল, যেখানে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার আর্থিক মূল্য বোঝায়। GNP বিদেশে কাজ করা নাগরিকদের আয় যোগ করে এবং বিদেশি নাগরিকদের আয় বাদ দেয়, কিন্তু GDP কেবল দেশভিত্তিক উৎপাদনকে অন্তর্ভুক্ত করে।

277
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews