পণ্যের মান ঠিক রেখে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন শ্রমিকের অধিক উৎপাদন করার ক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলে।
শ্রমবিভাগ হলো কাজকে ভাগ করে প্রতিটি কাজে যোগ্যতার ও বিশেষজ্ঞতার ভিত্তিতে কর্মীদলের মধ্যে কাজ বণ্টন করা।
একই ব্যক্তির বা একই শ্রমিকের সকল ধরনের কার্যসম্পাদনের যোগ্যতা থাকে না। এক এক ব্যক্তি এক এক ধরনের কার্য সম্পাদনে পারদর্শী হয়। তাই শ্রমবিভাগের মাধ্যমে যে শ্রমিক যে কাজের জন্য যোগ্য তাকে সেই কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ শ্রমবিভাগ যোগ্যতা অনুসারে কাজ বণ্টন করে।
উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ মূলধনের অভাবে জনাব রাকিব তার পাটকল সম্প্রসারণ করতে পারছেন না।
সাধারণত মূলধন বলতে টাকা পয়সা বা অর্থকে বোঝায়। অর্থনীতিতে মূলধন আরও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থনীতিতে মূলধন হচ্ছে মানুষের সম্পদের অংশ যা বর্তমানে ভোগ না করে ভবিষ্যতে পুনরায় সম্পদ বা আয় সৃষ্টিতে ব্যবহার করা হয়।। উদ্দীপকে জনাব রাকিবের পাটকলে উৎপাদিত পাটজাত পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেলে তিনি উৎপাদন বাড়াতে চান। কিন্তু তিনি পাটকলটির আয়তন বাড়াতে পারছেন না। অথচ তার দক্ষতা, স্বল্পমূল্যের ভূমি ইত্যাদির সুযোগ রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, মূলধনের অভাবেই জনাব রাকিব তার পাটকল সম্প্রসারণ করতে পারছেন না।
ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতাই ব্যবসায়ে সফলতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়"- উক্তিটিতে আমি একমত।
কোনো ব্যবসায়ে সফলতা অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে উৎপাদনের প্রধান উপাদানগুলোর কোনো একটির অনুপস্থিতি থাকলে ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা কোনো কাজে আসে না। ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা উৎপাদনের অন্যতম একটি উপাদান সংগঠনের কাজ সম্পাদন করে। আর সংগঠনের মাধ্যমে উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণগুলোকে একত্রিত করা হয়। কিন্তু অন্যান্য উপাদানেরই যদি অভাব থাকে তবে সংগঠন অকার্যকর হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের জনাব রাকিব ফরিদপুরে একটি পাটকল গড়ে তোলেন।
উন্নতমানের পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হওয়ায় অল্পদিনের মধ্যেই উক্ত প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিলেও তিনি পাটকলের আয়তন বাড়াতে পারছেন না। যদিও তার ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা রয়েছে এবং ভূমির মূল্যও কম। উৎপাদনের অন্যতম প্রধান একটি উপাদান অর্থ বা মূলধলনেরই যদি অভাব থাকে তবে ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতার কোনো মূল্য থাকে না। আবার পণ্য উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিকের প্রয়োজনও রয়েছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ে সফলতার জন্য ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতার পাশাপাশি উৎপাদনের সকল উপাদানের উপস্থিতি অনস্বীকার্য।
পরিশেষে বলা যায়, উৎপাদনের জন্য যেসকল উপাদান প্রয়োজন তা একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এদের যেকোনো একটি ছাড়া উৎপাদন করা তথা ব্যবসায়ে সফলতা লাভ করা সম্ভব নয়। সুতরাং ব্যবসায়ের সফলতার জন্য শুধু ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতাই যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি
Related Question
View Allকদ্রব্যের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রেখে কোনো সময়ে একজন শ্রমিকের অধিক উৎপাদন করার সক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলে।
না, সকল অর্থই মূলধন নয়।
যে বস্তু লেনদেন সম্পাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে অর্থ বলে।
অপরদিকে যে সম্পদ কোনো আয় সৃষ্টি করে অথবা উপার্জনে সহায়তা করে তাকে মূলধন বলে। অর্থ মূলধন কিনা তা নির্ভর করে এর ব্যবহারের ওপর। অর্থকে যদি আয় উপার্জনের কাজে ব্যবহার করা হয় তবে অর্থকে মূলধন বলা যায়। কিন্তু অর্থকে যদি আয় উপার্জন ছাড়া অন্য কোনো কাজে যেমন- পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা, কাউকে দান করা ইত্যাদি কাজে ব্যয় করা হয় তবে অর্থকে মূলধন বলা যাবে না।
আলম সাহেবের কাজটি উৎপাদনের সংগঠন উপকরণের অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য উৎপাদনের উপকরণগুলোকে (যেমন- ভূমি, শ্রম ও মূলধন) একত্রিত করে এদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করার কার্যকে সংগঠন বলে। সংগঠন কাঠামো, এমন হতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন হয়।
উদ্দীপকে জনাব আলমের একটি ডালের মিল আছে। তিনি দেশের | বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহকারীর মাধ্যমে ডাল সংগ্রহ করে নিজের । মিলে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ও বিক্রয় করেন। কয়েক ! বছরের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিক্রয় বৃদ্ধি পায়। ফলে তিনি উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অধিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মেশিন ক্রয় করেন। এর পাশাপাশি তিনি কিছু শ্রমিকও তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন। তার এ কাজ উৎপাদনের উপকরণ সংগঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আলম সাহেবের কাজটি উৎপাদনের সংগঠন উপকরণের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে জনাব আলমের শ্রম হলো মানসিক এবং কর্মীদের শ্রম হলো শারীরিক শ্রম। তাই শ্রম দিলেও আলমের কাজ ও কর্মীদের কাজ এক নয়- উক্তিটি যৌক্তিক।
অর্থ উপার্জন অথবা কোনো সুবিধা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি তার মানসিক প্রচেষ্টাকে কোনো কাজে নিয়োজিত করলে তাকে মানসিক শ্রম বলে। যেমন, একজন ব্যবস্থাপকের কাজ মানসিক শ্রম অর্থ উপার্জন অথবা কোনো সুবিধাপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি যে দৈহিক বা কায়িক শ্রম প্রদান করে তাকে শারীরিক শ্রম বলে। যেমন, একজন কুলির কাজ শারীরিক শ্রম।
উদ্দীপকে জনাব আলমের একটি ডালের মিল আছে। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহকারীর মাধ্যমে ডাল সংগ্রহ করে নিজের | মিলে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ও বিক্রয় করেন। কয়েক বছরের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিক্রয় বৃদ্ধি পায় ফলে তিনি • উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অধিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মেশিন ক্রয় করেন। এর পাশাপাশি তিনি কিছু শ্রমিকও তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন
শ্রম দুই প্রকার যথা: শারীরিক শ্রম এবং মানসিক শ্রম। প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের কাজগুলো মানসিক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিন্তা-ভাবনা করে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর এই চিন্তার বিষয়টি মানসিক শ্রম। অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মীদের কাজ শারীরিক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ শ্রমিক-কর্মীরাই প্রতিষ্ঠানের কাজ বাস্তবায়নের সাথে জড়িত। আর এই কাজ বাস্তবায়ন - সম্পর্কিত বিষয়টি হচ্ছে শারীরিক শ্রম। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব
ভূমি হলো প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ যা উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়।
উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের কায়িক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলে।
শ্রম একটি পচনশীল উপাদান। একে জমিয়ে বা সঞ্চয় করে রাখা যায় না। কোনো শ্রমিক যদি কোনো একদিন কাজ না করে তবে উক্ত সময়ের শ্রমকে সে সঞ্চয় করে পরে তা ব্যবহার করতে পারবে না; বরং তার শ্রম সময়ের সাথে সাথেই নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাই বলা যায়, শ্রম একটি পচনশীল পণ্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!