প্রতিদিন আহারে কী কী খাদ্য পরিবেশন করা হবে তার যে তালিকা তৈরি করা হয় তাকে মেনু বলে।
বিভিন্ন প্রকার খাদ্যবস্তুর সমন্বয়ে প্রস্তুত যে আহার্যে খাদ্যের সকল উপাদানগুলো ব্যক্তির দেহের চাহিদানুযায়ী বর্তমান থাকে তাই সুষম খাদ্য।
ভালো স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পেতে হলে সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অনেক। সুষম খাদ্য সব বয়সেই দেহে শক্তি যোগায়, দেহের পুষ্টি সাধন, বৃদ্ধি সাধন, ক্ষয়পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তাই সকল বয়সেই এর গুরুত্ব অপরিসীম।
রহিমার কাছে গর্ভকালীন সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কারণ এ সময়ে খাদ্যের চাহিদা স্বাভাবিক থেকে বেশি থাকে।
প্রতিটি মেয়ের জীবনেই এটি কাঙ্ক্ষিত সময়। গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য মায়ের পুষ্টি চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থা হতে এসময় অনেকাংশে বৃদ্ধি পায় এবং এই চাহিদা পূরণে সন্তান মায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে।
উদ্দীপকের রহিমা তাই এ সময়ের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি জানেন গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্য পুষ্টি, বিভিন্ন অঙ্গ ও গ্রন্থির উৎপত্তি, গঠন, বৃদ্ধি, বিকাশের জন্য এ সময় প্রোটিনের প্রয়োজন। ভূণের অস্থির গঠন ও দৃঢ়তার জন্য ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়ের জন্য এসময় লৌহ ও আয়োডিন উভয় প্রকার খাদ্য উপদানের প্রয়োজন বৃদ্ধি পায়। এসময়ের সঠিক পুষ্টি শিশুর সারাজীবনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই রহিমার কাছে গর্ভকালীন সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।
রহিমা ও রেবেকার ক্ষেত্রে পুষ্টিচাহিদা তুলনামূলকভাবে ভিন্ন প্রকৃতির।
মেনু পরিকল্পনা করে খাদ্য প্রস্তুত করলে খাদ্যের পর্যাপ্ততা থাকে ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। যদিও ভিন্ন ভিন্ন বয়সে ও শারীরিক অবস্থায় মেনু পরিকল্পনায় ভিন্নতা থাকে।
রহিমা একজন গর্ভবতী মহিলা। তিনি এ সময়টিকে খুবই গুরুত্ব দেন। তিনি শরীরের চাহিদানুযায়ী পুষ্টি চাহিদা পূরণের ব্যাপারে বেশ সচেতনতা অবলম্বন করেন। তার বোন রেবেকার একটি সন্তানের জন্ম হয়। অর্থাৎ তিনি একজন প্রসূতি মহিলা। ডাক্তার তাকে পুষ্টি চাহিদা পূরণের পরামর্শ দেন।
ডাক্তার বলেন যেহেতু রেবেকার সন্তানের বয়স তিন দিন তিনি একজন প্রসূতি মা। গর্ভবর্তী মায়ের তুলনায় প্রসূতি মায়ের পুষ্টি চাহিদা বেশি থাকে। গর্ভবতী মায়ের থেকে সন্তান পুষ্টি লাভ করলেও প্রসূতি মায়ের দুধ তৈরি হওয়ার জন্য ক্যালরি, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেশি থাকে। গর্ভবতী মায়ের সন্তানের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রোটিনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। প্রসূতি মায়ের দুধের প্রোটিন তৈরিতে ১৮- ২০ গ্রাম অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করা আবশ্যক। এর পাশাপাশি প্রসূতি মায়ের ভিটামিন-বি এর চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। গর্ভবতী মায়ের লৌহ, আয়োডিনের পাশাপাশি ভিটামিন 'এ' ও 'সি' এর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। প্রসূতি মায়ের দৈনিক ১ হতে ১৫ গ্রাম ক্যালসিয়াম ধার্য করা হয়। গর্ভবতী মায়ের ১২৫ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন গ্রহণ করা উচিত। উপরিউক্ত পুষ্টি চাহিদাগুলোতে রহিমা ও রেবেকার মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
Related Question
View Allশিশুর পুষ্টি চাহিদা বলতে শিশুর স্বাভাবিক, সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যে ধরনের পুষ্টি উপাদান ও খাদ্য ব্যবস্থার প্রয়োজন তাকে বোঝায়। সাধারণত প্রথম ২ বছরে শিশু সর্বাধিক হারে বাড়তে থাকে। তাই এ সময় প্রতি একক ওজনে তার পুষ্টি চাহিদা বেশি হয়।
মৌলি তার সন্তানকে বিভিন্ন ধরনের বাড়তি খাবার দিতে পারে।
শিশুর ছয় মাস পূর্ণ হলে দৈহিক বৃদ্ধির হার দ্রুত হয়। সেই সাথে তার পুষ্টি চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই এই সময় শিশুকে দুধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বাড়তি খাবার দিতে হয়। এক্ষেত্রে মৌলি তার শিশুকে নরম সিদ্ধ ডিমের কুসুম দিতে পারে। এছাড়া সবজি, আলু সিদ্ধ দিতে পারে। এগুলো তার শিশুকে ভিটামিন 'এ' সরবরাহ করবে। চাল, ডাল ও সবজি দিয়ে নরম খিচুড়ি রান্না করে মৌলি তার সন্তানকে খাওয়াতে পারে। এগুলো তার সন্তানের বাড়তি শক্তির চাহিদা পূরণ করবে। এর পাশাপাশি সে কলিজা সিদ্ধ, রান্না করা মাংস বা মাছ দিতে পারে। এ খাদ্যগুলো তার শিশুকে লৌহ ও প্রোটিন সরবরাহ করবে। এছাড়া দুধসহ চালের গুড়ার সুজি খাওয়াতে পারে। দুধসহ জাউভাত বা ডাল দিয়ে জাউড়াত দিতে পারে। এর পাশাপাশি ডাল দিয়ে সিদ্ধ আলু চটকানো খাওয়াতে পারে। বিভিন্ন মৌসুমি ফল খাওয়াতে পারে। কচি মুরগীর স্যুপ সে তার শিশুকে দিতে পারে। উপরিউক্ত খাবারগুলোর মধ্যে প্রতিদিন এক খাবার না দিয়ে যেদিন যে খাবারটি তৈরি করা যায় সেদিন সেটি দিতে পারে।
স্বাস্থ্যকর্মী মৌলিকে কতগুলো নিয়ম মেনে বাচ্চাকে বাড়তি খাবার দিতে বলেছেন। শিশুকে মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার খাওয়াতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। মৌলিকে ও এসকল নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। নিয়মগুলো হলো-
প্রথমে একটি খাদ্য অল্প পাতলা করে সামান্য পরিমাণে বা ১-২ চামচ করে অভ্যাস করাতে হবে। শিশু কোনো খাবারের প্রতি অনীহা প্রকাশ করলে তাকে জোর করে খাওয়ানো যাবে না। বরং কিছুদিন পর আবার ঐ খাবারটি তৈরি করে তাকে খাওয়ানো যেতে পারে। একটি খাবার কিছুদিন দিয়ে তাকে অভ্যস্ত করতে হবে। ঘন ঘন খাবার পরিবর্তন করা যাবে না। এতে শিশুর পেট খারাপ করতে পারে। পাতলা ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুর খাবারে অবশ্যই সবরকম পুষ্টি উপাদান থাকতে হবে। শিশুকে টাটকা ও তাজা খাবার খাওয়াতে হবে। বাসি খাবার দেয়া যাবে না। শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে খেতে দিতে হবে। তাকে অল্প অল্প করে নির্দিষ্ট সময় পর পর খাওয়াতে হবে। শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুকে বাইরের খাবার দেয়া যাবে না।
পরিশেষে বলা যায়, মৌলি তার সন্তানকে বাড়তি খাবার দেয়ার সময় উপরের বিষয়গুলো মেনে চলবে।
প্রসূতি অবস্থায় মোট ১.০ গ্রাম হতে ১.৫ গ্রাম ক্যালসিয়াম ধার্য করা হয়েছে।
যেসব খাদ্য আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ কার্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ করে শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে তাদের প্রতিরক্ষাকারী খাদ্য বলে।
বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি ও ফলমূল এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এসব খাদ্য থেকে আমরা ভিটামিন ও খনিজ লবণ পেয়ে থাকি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!