জনাব সামা বৈদেশিক বাণিজ্যের আওতাভুক্ত পুনঃরপ্তানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত।
দুটি ভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে ক্রয়-বিক্রয় কার্য সম্পন্ন হয় তাকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলে। আর যখন অন্য একটি দেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করে সেটি আবার তৃতীয় কোনো দেশে বিক্রয় বা রপ্তানি করা হয় তখন সেটিকে পুনঃরপ্তানি বাণিজ্য বলে।
জনাব সামা প্রথমত ভারত থেকে চাল আমদানি করেছেন। এ চাল তিনি ভোগ না করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনরায় সেটি ইংল্যান্ডে রপ্তানি করেছেন। তার বৈদেশিক বাণিজ্যে দুটির অধিক দেশ জড়িত রয়েছে। পুনঃরপ্তানি শুধু দুইটি দেশের মাধ্যমে সম্ভব হয় না বিধায় তৃতীয় একটি দেশ আসবে। এভাবে প্রক্রিয়াজাত দ্রব্য বিক্রয় করার মাধ্যমে পুনঃরপ্তানি বাণিজ্য সংঘটিত হয়। তাই বলা যায়, জনাব সামার ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৈদেশিক বাণিজ্যের আওতাভুক্ত পুনঃরপ্তানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত।
প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নিজ প্রয়োজন মেটানোর প্রচেষ্টায় সচেষ্ট ছিল। মৎস আহরণ, কৃষিকাজ, পশু শিকার, পণ্য বিনিময়, উৎপাদন প্রচেষ্টা প্রভৃতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ছিল। এর মূলে যে জিনিস কাজ করে তাহলো মানুষের অভাববোধ। অভাব পূরণের লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং অর্থ উপার্জনের প্রচেষ্টা চালায় । মূলত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও লেনদেনকে ঘিরেই উদ্ভব হয় ব্যবসায়ের।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা জানতে পারব—
- ব্যবসায়ের ধারণা ।
- ব্যবসায়ের আওতা । (শিল্পের বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ; বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ; প্রত্যক্ষ সেবার বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ।)
- শিল্প, বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ সেবার মধ্যে পার্থক্য ।
- বাংলাদেশের ব্যবসায়ের আওতা হিসেবে শিল্প, বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ সেবার সমস্যা ও সম্ভাবনা।
- সামাজিক ব্যবসায় ধারণা।
- ব্যবসায়ের কার্যাবলি ।
- ব্যবসায়ের গুরুত্ব ।
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবসায়ের অবদান ।
- জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে ব্যবসায় ।
সূত্র: ক্যামব্রিয়ান পাবলিকেশন্স
Related Question
View Allমুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন ও বন্টন সহ সকল, ঝুঁকিবহুল, ধারাবাহিক এবং বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসা বলে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশাজীবী গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণের সামর্থ্য কোন কাজ বা সুবিধা প্রদানকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে।
সামাজিক ব্যবসায় হল নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত একশ্রেণীর অর্থনৈতিক প্রকল্প যার মূল লক্ষ্য মুনাফার পরিবর্তে মানবকল্যাণ। যে কোন সাধারণ ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের মতোই এই সকল প্রকল্প পরিচালিত হয় ; কেবল লক্ষ্য থাকে মানুষের কল্যাণ—বিশেষ করে দারিদ্র ও আয়বৈষম্য দূর করা। মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭০ দশক থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যাংকিং, টেলিকম, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেক্সটাইল, তাঁত, বিপণন প্রভৃতি খাতে অনেকগুলো কোম্পানী স্থাপন করেছেন যেগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্য মুনাফা ম্যাক্সিমাইজ করা নয় ; অন্যদিকে এগুলোর কোনটিই ব্যক্তিগত মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি। এই উদ্যোগগুলো কার্যত সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য স্থাপিত ব্যবসায়িক প্রকল্প। এ ধরনের ব্যবসায়িক পুজিঁলগ্নির কথা ঐতিহ্যগত অর্থশাস্ত্রে নেই। এই পরিপ্রেক্ষিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষভাগে "সামাজিক ব্যবসায়" ধারনাটি প্রবর্তন করেন।সামাজিক ব্যবসায়ের সঙ্গে সনাতন ব্যবসায়ের পার্থক্য কেবল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে: সনাতন ব্যবসায় মুনাফামুখী এবং সামাজিক ব্যবসায় কোম্পানি মুনাফা করবে নিশ্চয়ই, কিন্তু মালিক মুনাফা নেবে না, মালিক কেবল মূলধন ফেরত নিতে পারবে।
যে ব্যবসায় গঠন করতে উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী মূলধন সরবরাহ করেন কিন্তু তার প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয় বরং সমাজের কল্যাণ সাধন করা তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!