পণ্য গ্রহণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রেতার প্রাপ্ত সুবিধা এবং পণ্য গ্রহণের জন্য প্রদেয় ব্যয়ের পার্থক্য হলো ক্রেতার ভ্যালু।
ভোক্তাদের চাহিদা অনুধাবন, পণ্য ধারণা সৃষ্টি এবং সর্বোপরি ভোক্তাদের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্টি বিধান করে স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত করার ব্যবস্থাপকীয় ও সামাজিক প্রক্রিয়াকেই বিপণন বলে।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থায় ভোক্তাদেরকে কেন্দ্র করে বিপণন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ভোক্তাদের প্রয়োজন, চাহিদা, পছন্দ, রুচি, ক্রয় ক্ষমতা, ক্রয় অভ্যাস ইত্যাদির ভিত্তিতে বিপণন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। অর্থাৎ বিপণনের যাবতীয় কার্যক্রম ভোক্তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। তাই বিপণনকে ভোক্তামুখী প্রক্রিয়া বলা হয়।
উদ্দীপকের 'আপন পিঠা ঘর' রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করেছে।
দ্রব্যের আকার-আকৃতি বা রূপ পরিবর্তন করে যে উপযোগ সৃষ্টি করা হয়, তাকে রূপগত উপযোগ বলে।
উদ্দীপকে জনাব সায়েম 'আপন পিঠা ঘর' নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তিনি সবসময় ক্রেতাদের চাহিদা, রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী পিঠা তৈরি করেন এবং বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁয় তা সরবরাহ করেন। সাধারণত প্রাকৃতিক সম্পদের সাহায্যে ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরি করাই হলো উৎপাদন। উৎপাদনের মাধ্যমে পণ্যের রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করা হয়। এক্ষেত্রে জনাব সায়েম পিঠা তৈরিতে আটা ও ময়দাসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যধহার করেন। পিঠা তৈরির মাধ্যমে এসব উপকরণসমূহের রূপ পরিবর্তন হয়। এ অর্থে বলা যায়, 'আপন পিঠা ঘর' রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করছে।
উদ্দীপকে জনাব সায়েম ব্যবসায়ের সফলতার জন্য ক্রেতা সন্তুষ্টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
পণ্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে ক্রেতার উপলব্ধির ভিত্তিতে গড়ে উঠা প্রত্যাশা এবং অপ্রাপ্তির অনুভূতির স্তরকে ক্রেতা সন্তুষ্টি বলে।
উদ্দীপকে জনাব সায়েম 'আপন পিঠা ঘর' নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তিনি ক্রেতাদের চাহিদা, রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী পিঠা তৈরি করে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁয় তা সরবরাহ করেন। তার তৈরিকৃত পিঠা ভালো মানের হওয়াতে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন তিনি ব্যবসায় সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন। পণ্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে উপলব্ধির সাথে ক্রেতার প্রত্যাশার মিল পর্যন্ত ক্রেতার সন্তুষ্টি বিস্তৃত। পূর্ব ক্রয়ের অভিজ্ঞতা, সহযোগী ও বন্ধু-বান্ধদের মন্তব্য এবং বিপণনকারীর তথ্যের ভিত্তিতে ভোক্তার মনে প্রত্যাশা গড়ে উঠে। পণ্যের কার্যকারিতা এবং প্রত্যাশা একই হলে ক্রেতারা সন্তুষ্ট হয় এবং ক্রেতার সন্তুষ্টির দ্বারা ব্যবসায়ে সফলতা আসে।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে জনাব সায়েম ব্যবসায়ের সফলতার জন্য 'ক্রেতার সন্তুষ্টির' ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
Related Question
View Allকোনো পণ্য বা সেবার বর্তমান ও সম্ভাব্য ক্রেতার সমষ্টিকে বাজার বলে।
বিপণন শক্তিশালী ক্রেতাসম্পর্ক তৈরি করে"- উক্তিটি সঠিক।
সর্বোচ্চ ভ্যালু সৃষ্টি ও প্রদানের মাধ্যমে লাভজনক উপায়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্টিবিধান, শক্তিশালী ক্রেতাসম্পর্ক সৃষ্টি ও বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে বিপণন বলে। বর্তমান সময়ে বিপণন বলতে লাভজনক শক্তিশালী ক্রেতা সম্পর্ককে বোঝায়। আর তাই একজন বিপণনকারী সম্পর্কভিত্তিক বিপণন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ক্রেতা, বিক্রেতা, পরিবেশক, ডিলার, সরবরাহকারী প্রভৃতি পক্ষের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সচেষ্ট থাকেন। কেননা একজন সন্তুষ্ট ক্রেতাই কোম্পানি এবং পণ্যের প্রতি অনুগত থাকে এবং সে নিজে পণ্য ক্রয় করে ও অন্যদেরকে পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত করে।
মি. পলের গাড়ি ক্রয় বিপণনের মৌলিক ধারণা চাহিদার অন্তর্গত।
কোনো পণ্য বা সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তা ক্রয়ের সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা থাকাকে চাহিদা বলে। সাধারণত অভাব যখন ব্যক্তির ক্রয়ক্ষমতার শর্ত পূরণ করে তখন তা চাহিদায় রূপান্তরিত হয়।
উদ্দীপকের মি. পলের প্রাথমিক অবস্থায় গাড়ি কেনার সামর্থ্য ছিল না কিন্তু প্রচন্ড ইচ্ছা ছিল। এ ইচ্ছাকে বাস্তবায়নের জন্য তিনি একটি পোল্ট্রি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মের উৎপাদিত ডিম ও মাংস উন্নতমানের হওয়ায় ব্যবসায়টি ব্যাপক লাভজনক হয়। পরবর্তীতে - তিনি ব্যবসায়ের মুনাফা দিয়ে ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি ক্রয় করেন। এক্ষেত্রে তার গাড়ি ক্রয় সম্ভব হয়েছে চাহিদার সকল শর্ত যেমন- ক্রয়ের ইচ্ছা, সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা বিদ্যমান থাকায় গাড়িটি ক্রয় করতে পেরেছেন। আর তাই বলা যায়, মি. পলের গাড়ি ক্রয় করা ছিল বিপণনের মৌলিক ধারণা চাহিদার অন্তর্গত।
মি পলের বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যে সকল প্রতিষ্ঠান মূলধন, আয়তন ও ব্যবস্থাপনায় বৃহৎ প্রকৃতির হয় তাকে বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান বা ফার্ম বলে। এরূপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৃহৎ উৎপাদন ও ব্যাপক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় বিধায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
উদ্দীপকের মি. পল নাটোরে স্বল্প পরিসরে একটি পোল্ট্রি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মের ডিম ও মাংস উন্নতমানের হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ব্যবসায়টিও ব্যাপক লাভজনক হয়ে উঠে।
পরবর্তীতে চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি রাজশাহীতে একটি বৃহত্তম তথা বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন; যেখানে ১,০০০ জন শ্রমিক কর্মরত থাকবেন। এর ফলে একদিকে যেমন বৃহৎ উৎপাদন সম্ভব হবে তেমনি ব্যাপক সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মানুষের আয়, ভোগ ও জীবনযাত্রার মান যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের তথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, মি. পলের বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রয়োজন ব্যক্তির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্ব দ্বারা নির্দিষ্ট বস্তুগত ধারণায় রূপান্তরিত হলে তাকে অভাব বলে।
ভোক্তা কোনো পণ্য বা সেবা ভোগ কিংবা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সুবিধা পায় এবং তার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এদের মধ্যকার পার্থক্যকে বলা হয় ক্রেতাভ্যালু।
একটি পণ্য ব্যবহার বা ভোগ করে ক্রেতা কিছু সুবিধা পায়। অন্যদিকে, ঐ পণ্য অর্জনের জন্য তাকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়। পণ্য থেকে প্রাপ্ত সুবিধা এবং পণ্যের জন্য ব্যয়িত অর্থের পার্থক্যই হচ্ছে ক্রেতার ভ্যালু। যেমন- 'ভলবো এসি' বাসে ভ্রমণ করে ক্রেতা আরাম, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি ভোগ করে। এরূপ ভ্রমণের জন্য তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এ দু'য়ের পার্থক্য হচ্ছে ক্রেতাভ্যালু।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!