যে শেয়ারের মালিকগণ লভ্যাংশ গ্রহণ ও মূলধন প্রত্যাবর্তনে অন্যান্য শেয়ারমালিকগণের চেয়ে অগ্রাধিকার পায় তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।
ট্রেজারি বন্ড সরকার কর্তৃক ইস্যু হয় বিধায় এর আয়ের হার ঝুঁকিমুক্ত হয়।
যে বন্ড সরকার কর্তৃক ইস্যু করা হয় তাকে ট্রেজারি বন্ড বলে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থের সংস্থান করার লক্ষ্যে এ ধরনের বন্ড ইস্যু করে থাকে। ট্রেজারি বন্ডের কোনো খেলাপি ঝুঁকি নেই বলে ধরা হয়। কারণ এ বন্ডের সুদ বা আসল প্রদানের ব্যাপারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। যেহেতু একটি দেশের সরকার খেলাপি হয় না তাই এই বন্ডের সুদ বা আসল প্রদানের ব্যাপারেও সরকার খেলাপি হবে না। তবে সুদের হারের হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে বন্ডের মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে।
ঋণপত্রের প্রকৃত মূল্য নির্ণয় :
এখানে
লিখিত মূল্য (FV) = ৪,০০০ টাকা
মেয়াদপূর্তি মূল্য (MV) = ৪,০০০ টাকা
মেয়াদকাল (n) = ১০ বছর
সুদের পরিমাণ (I) = ৪০০০১২%= ৪৮০ টাকা
প্রত্যাশিত আয়ের হার = ১৩ % বা, ০.১৩
আমরা জানি,
পরিশোধযোগ্য বন্ড বা ঋণপত্রের বর্তমান মূল্য,
=
= ২,৬০৪.৬০ + ১,১৭৮.৩৫
= ৩,৭৮২.৯৫ টাকা
সুতরাং ঋণপত্রের প্রকৃত মূল্য ৩,৭৮২.৯৫ টাকা।
জনাব সিরাজুল হকের অগ্রাধিকার শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
একজন বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা থাকে নির্দিষ্ট সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করে তার প্রত্যাশিত আয় অর্জন করার। তাই শেয়ার বা ঋণপত্র বা অন্যকোনো প্রকল্প যেখানেই বিনিয়োগ করুক না কেন প্রত্যাশিত আয়ের হার অবশ্যই অর্জন করা যাবে এ ধরনের সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করা উচিত।
উদ্দীপকের জনাব সিরাজুল হক ১০ লক্ষ টাকা ১০ বছরের জন্য বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে মূলধন বাজারে গিয়ে দুইটি সিকিউরিটি পছন্দ করলেন। ঋণপত্রের ক্ষেত্রে কুপন সুদের হার ১২% কিন্তু তার প্রত্যাশিত আয়ের হার ১৩%। অপরদিকে অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশের হার ১৩%। এক্ষেত্রে তার প্রত্যাশিত আয়ের হার ১২%।
বিনিয়োগকারী হিসেবে জনাব সিরাজুল হককে সেই ধরনের সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করা উচিত হবে যেখানে তার প্রত্যাশিত আয় অর্জিত হবে। তিনি যদি ঋণপত্রে বিনিয়োগ করেন তবে তার প্রত্যাশিত আয় অর্জিত হবে না। কারণ ঋণপত্রের সুদের হার তার প্রত্যাশিত আয়ের হার হতে কম। অন্যদিকে অগ্রাধিকার শেয়ারে বিনিয়োগ করলে তিনি ১৩% হারে লভ্যাংশ পাবেন যা তার প্রত্যাশিত আয়ের হার ১২% হতে বেশি। সুতরাং অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশ তার প্রত্যাশিত আয়ের হার হতে বেশি হওয়ায় বলা যায়, জনাব সিরাজুল হকের অগ্রাধিকার সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করা উচিত হবে।
Related Question
View Allযে বন্ডের অভিহিত মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করা হয় তাকে কুপন বন্ড বলে।
একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য যে মূলধনের প্রয়োজন হয় তাকে কার্যকরী মূলধন বলে।
চলতি সম্পদ ও চলতি দায় নিয়ে কার্যকরী মূলধন গঠিত। কার্যকরী মূলধনকে ব্যবসায়ের জীবনীশক্তি বলা হয়। কারণ এটা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে কোম্পানির উৎপাদন ও বিক্রয়কার্য পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
A বন্ডের চলতি আয়ের হার নির্ণয় :
এখানে,
অভিহিত মূল্য (FV) = ১,০০০ টাকা
বাজারমূল্য (SV) = ১১০০ টাকা
সুদের পরিমাণ (I)= ১০০০ ১২ % = ১২০ টাকা
আমরা জানি,
চলতি আয়ের হার
=
= ১০.৯১%
সুতরাং A বন্ডের চলতি আয়ের হার ১০.৯১%।
A বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
এখানে,
অভিহিত মূল্য (FV) = ১,০০০ টাকা
বাজারমূল্য (SV) = ১,১০০ টাকা
প্রত্যাশিত আয়ের হার (Kd) = ১০%
সুদের পরিমাণ (I) = ১,০০০ × ১২% = ১২০ টাকা
আমরা জানি,
অপরিশোধযোগ্য বন্ডের বর্তমান মূল্য,
= ১,২০০ টাকা
B বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
এখানে,
পরিপক্ক মূল্য (MV) = ১,৫০০ টাকা
বাজারমূল্য (SV) = ৬০০ টাকা
মেয়াদকাল (n) = ১২ বছর
প্রত্যাশিত আয়ের হার (Kd) = ১০% বা, ০.১০
আমরা জানি ,
জিরো কুপন বন্ডের মূল্য
=
=
=
= ৪৭৭.৯৫ টাকা
লক্ষণীয় যে, A বন্ডের বাজারমূল্য ১,১০০ টাকা যা বন্ডের বর্তমান মূল্য ১,২০০ টাকা হতে কম। এ বন্ডে বিনিয়োগ করলে লাভ হবে (১,২০০ - ১,১০০) = ১০০ টাকা। অপরপক্ষে, B বন্ডের বাজারমূল্য ৬০০ টাকা যা বন্ডের বর্তমান মূল্য ৪৭৭.৯৫ টাকা হতে বেশি। এ বন্ডে বিনিয়োগ করলে ক্ষতি হবে (৬০০ – ৪৭৭.৯৫) = ১২২.০৫ টাকা। এমতাবস্থায় জনাব স্বপনের A বন্ডে বিনিয়োগ করা উত্তম হবে।
৫ বছরের অধিক সময়ের জন্য যে অর্থায়ন করা হয় তাকে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে।
যে শেয়ারহোল্ডারগণ লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে ও মূলধন প্রত্যাবর্তনে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে অগ্রাধিকার পায় তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।
যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে নির্দিষ্ট হারে আয় প্রত্যাশা করে, তাদের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার একটি ভালো বিনিয়োগ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক অগ্রাধিকার শেয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের বিকল্প সুযোগ থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!