উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সম্পাদিত সকল কাজকে সমজাতীয়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হলে তাকে শ্রমবিভাগ বলে।
মূলধন সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ Bohm Bawerk (বম বয়ার্ক) বলেছেন, "Capital is the produced means of production." অর্থাৎ, মূলধন হলো উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান।
উৎপাদনের উপকরণগুলোর মধ্যে শ্রম এবং সংগঠন মানুষ সৃষ্ট। মানুষ শ্রমের দ্বারা যা উপার্জন করে তা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করে। তবে মোট উপার্জনের সবটুকু পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যয় নাও হতে পারে। মোট উপার্জনের যে | অংশ ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট থাকে তা সঞ্চয় হিসেবে গণ্য হয় এবং অধিক উৎপাদনের আশায় তা পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়। এরূপ বিনিয়োগের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। মানুষ তার শ্রম দ্বারা যা উৎপাদন করে তাই হলো তার উপার্জন। এ উপার্জন হতে সঞ্চয়ের মাধ্যমে মূলধনের সৃষ্টি হয়। তাই মূলধনকে উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারি সংগঠন।
একাধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় সংগঠন গঠন করে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন বলে। বাংলাদেশে বিদ্যমান ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী এ ব্যবসায়ে কমপক্ষে ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন সদস্য থাকতে পারে। তবে আর্থিক ও ব্যাংক ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সদস্যের সর্বোচ্চ সীমা ১০০ জন হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব সুমন ও তার বন্ধু সুজন কুমিল্লা শহরে শতরূপা নামে একটি তৈরি পোশাকের দোকান চালু করেন এবং অর্জিত মুনাফা সমানভাবে ভাগ করে নেন। এখানে লক্ষণীয়, দোকানটির সদস্য সংখ্যা ২ জন যা অংশীদারি ব্যবসায়ের সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা। আবার অর্জিত মুনাফা সমানভাবে ভাগ করার মধ্য • দিয়ে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ পায় যা অংশীদারি ব্যবসায়ের অন্যতম প্রধান একটি বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অংশীদারি ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
জনাব সুমন ও তার বন্ধু সুজনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
কোনো ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। মুনাফা অর্জন পর্যাপ্ত পরিমাণে হলে বাজারে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য ব্যবসায় সম্প্রসারণের প্রয়োজন হয়। ব্যবসায় সম্প্রসারিত হলে বা ব্যবসায়ের আয়তন বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন ও বিক্রয় বৃদ্ধি পায়। ফলে অধিক মুনাফা অর্জনের ক্ষমতা তৈরি হয়।
উদ্দীপকে জনাব সুমন ও সুজন নামে দুই বন্ধু কুমিল্লা শহরে শতরূপা নামে একটি তৈরি পোশাকের দোকান চালু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তারা ব্যবসায়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। সম্প্রতি তারা 'রিয়া আর্মেন্টস লি.' নামে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অর্থাৎ তাদের ব্যবসায়টি সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর ফলে বাজারে তাদের সাফল্যের অবস্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হবে। ব্যবসায় সম্প্রসারণ হলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে বিক্রয় ও। মুনাফার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে অন্যান্য মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। এভাবে প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
সুতরাং বলা যায়, জনাব সুমন ও তার বন্ধু সুজনের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণের। বিষয়টি যথার্থ ও যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allকদ্রব্যের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রেখে কোনো সময়ে একজন শ্রমিকের অধিক উৎপাদন করার সক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলে।
না, সকল অর্থই মূলধন নয়।
যে বস্তু লেনদেন সম্পাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে অর্থ বলে।
অপরদিকে যে সম্পদ কোনো আয় সৃষ্টি করে অথবা উপার্জনে সহায়তা করে তাকে মূলধন বলে। অর্থ মূলধন কিনা তা নির্ভর করে এর ব্যবহারের ওপর। অর্থকে যদি আয় উপার্জনের কাজে ব্যবহার করা হয় তবে অর্থকে মূলধন বলা যায়। কিন্তু অর্থকে যদি আয় উপার্জন ছাড়া অন্য কোনো কাজে যেমন- পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা, কাউকে দান করা ইত্যাদি কাজে ব্যয় করা হয় তবে অর্থকে মূলধন বলা যাবে না।
আলম সাহেবের কাজটি উৎপাদনের সংগঠন উপকরণের অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য উৎপাদনের উপকরণগুলোকে (যেমন- ভূমি, শ্রম ও মূলধন) একত্রিত করে এদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করার কার্যকে সংগঠন বলে। সংগঠন কাঠামো, এমন হতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন হয়।
উদ্দীপকে জনাব আলমের একটি ডালের মিল আছে। তিনি দেশের | বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহকারীর মাধ্যমে ডাল সংগ্রহ করে নিজের । মিলে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ও বিক্রয় করেন। কয়েক ! বছরের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিক্রয় বৃদ্ধি পায়। ফলে তিনি উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অধিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মেশিন ক্রয় করেন। এর পাশাপাশি তিনি কিছু শ্রমিকও তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন। তার এ কাজ উৎপাদনের উপকরণ সংগঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আলম সাহেবের কাজটি উৎপাদনের সংগঠন উপকরণের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে জনাব আলমের শ্রম হলো মানসিক এবং কর্মীদের শ্রম হলো শারীরিক শ্রম। তাই শ্রম দিলেও আলমের কাজ ও কর্মীদের কাজ এক নয়- উক্তিটি যৌক্তিক।
অর্থ উপার্জন অথবা কোনো সুবিধা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি তার মানসিক প্রচেষ্টাকে কোনো কাজে নিয়োজিত করলে তাকে মানসিক শ্রম বলে। যেমন, একজন ব্যবস্থাপকের কাজ মানসিক শ্রম অর্থ উপার্জন অথবা কোনো সুবিধাপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি যে দৈহিক বা কায়িক শ্রম প্রদান করে তাকে শারীরিক শ্রম বলে। যেমন, একজন কুলির কাজ শারীরিক শ্রম।
উদ্দীপকে জনাব আলমের একটি ডালের মিল আছে। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহকারীর মাধ্যমে ডাল সংগ্রহ করে নিজের | মিলে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ও বিক্রয় করেন। কয়েক বছরের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিক্রয় বৃদ্ধি পায় ফলে তিনি • উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অধিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মেশিন ক্রয় করেন। এর পাশাপাশি তিনি কিছু শ্রমিকও তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন
শ্রম দুই প্রকার যথা: শারীরিক শ্রম এবং মানসিক শ্রম। প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের কাজগুলো মানসিক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিন্তা-ভাবনা করে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর এই চিন্তার বিষয়টি মানসিক শ্রম। অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মীদের কাজ শারীরিক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ শ্রমিক-কর্মীরাই প্রতিষ্ঠানের কাজ বাস্তবায়নের সাথে জড়িত। আর এই কাজ বাস্তবায়ন - সম্পর্কিত বিষয়টি হচ্ছে শারীরিক শ্রম। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব
ভূমি হলো প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ যা উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়।
উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের কায়িক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলে।
শ্রম একটি পচনশীল উপাদান। একে জমিয়ে বা সঞ্চয় করে রাখা যায় না। কোনো শ্রমিক যদি কোনো একদিন কাজ না করে তবে উক্ত সময়ের শ্রমকে সে সঞ্চয় করে পরে তা ব্যবহার করতে পারবে না; বরং তার শ্রম সময়ের সাথে সাথেই নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাই বলা যায়, শ্রম একটি পচনশীল পণ্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!