মাটির বুনট যদি বেলে প্রকৃতির হয় তবে চীনা, কাউন, ফুটি, আলু, তরমুজ ভালো হবে। মাটির বুনটের অর্ধেক যদি বালিকণা এবং বাকি অর্ধেক পলি ও কর্দম কণার হয় তবে সে মাটিতে সব ধরনের ফসল ভালো জন্মাবে। আবার যে মাটিতে কর্দম কণা বেশি থাকে সে মাটিতে ধান, পাট, আখ ও শাকসবজি ভালো জন্মাবে। সুতরাং জমিতে ফসল উৎপাদন বুনটের উপর নির্ভরশীল।
Related Question
View Allজীবজন্তুর মৃতদেহ, বাড়ির গাছপালা, শাকসবজির অবশিষ্টাংশ, লতাপাতা, খড়কুটা, প্রাণীর মলমূত্র প্রভৃতি মাটিতে পচে যে পদার্থের সৃষ্টি হয় তাকে জৈব পদার্থ বলে।
মজিদের বাড়ির আবর্জনাগুলোকে সদ্ব্যবহারের সর্বোত্তম উপায় হলো এগুলো দিয়ে জৈব সার তৈরি করে জমিতে প্রয়োগ করা। জৈব সার তৈরির জন্য তাকে এমন একটি উঁচু জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমে না। এরপর উক্ত স্থানে আবর্জনাগুলো নিয়মিত জমাতে হবে। মাঝে মাঝে জমানো স্তরগুলো ওলটপালট করে দিতে। হবে। এতে করে অণুজীবের ক্রিয়ায় আবর্জনাগুলো পচে জৈব সার তৈরি হবে। তৈরিকৃত এ জৈব সার সে প্রয়োজনানুযায়ী তার ফসলের জমিতে প্রয়োগ করবে।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে মজিদ বাড়ির আঙিনার আবর্জনাগুলোকে জৈব সারে রূপান্তরের 'সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের ফলে মজিদ যেসব সুবিধা পাবে তা হলো—
১. জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।
২. রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে যাবে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাবে। ফলে উৎপাদন
৩. জমির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ কম লাগবে।
৪. ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
৫. বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে।
এসব সুবিধা প্রাপ্তির কারণে মজিদের কৃষি কাজ অনেক সহজ ও লাভজনক হবে। সহজেই সে তার উৎপাদনকালীন কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবে।
পৃথিবীর নরম উপরিভাগকে সাধারণভাবে মাটি বলে। কিন্তু মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের মতে ভূপৃষ্ঠের যে নরম স্তরে গাছপালা জন্মে ও গাছ পুষ্টি শোষণ করে বড় হয় তাকে মাটি বলে।
জৈব পদার্থকে মাটির জীবন বলার কারণসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো ;
১. জৈব পদার্থের উপস্থিতি মাটিস্থ অণুজীবগুলোকে ক্রিয়াশীল করে। ফলে মাটিস্থ খাদ্য উপাদান গাছের গ্রহণ উপযোগী হয়।
২. জৈব পদার্থ মাটিতে হিউমাস সৃষ্টি করে, যা মাটির উর্বরতার জন্য খুবই দরকারী।
৩. জৈব পদার্থ মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
৪. জৈব পদার্থ মাটির গঠনকে উন্নত করে।
ছকের গ্রুপ- গ এর মাটি বেলে প্রকৃতির। এ মাটিকে ধান চাষের উপযোগী করতে চাইলে এর বুনটের পরিবর্তন করে দোআঁশ প্রকৃতিতে আনতে হবে। যদিও কাজটি খুবই কষ্টসাধ্য। তথাপি নিচের কাজগুলো করে বেলে প্রকৃতির মাটিতেও ধান চাষ করা যায়।
১. মাটিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব সার যেমন- গোবর সার, সবুজ সার, কম্পোস্ট সার ও অন্যান্য জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।
২. জমির মাটির সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে এঁটেল মাটি মিশাতে হবে।
৩. জমিটিতে প্রচুর পরিমাণে সেচ প্রয়োগের পর আইল বেঁধে পানি জমা রেখে মাটির গুণাগুণ উন্নত করতে হবে।
৪. বৃষ্টিপাতের সময় পানিতে বাহিত হয়ে যে পলিমাটি গড়িয়ে আসবে তা জমিতে আটকে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
উল্লিখিত কাজগুলো যথাযথভাবে করতে পারলেই মাটির বুনট পরিবর্তনের মাধ্যমে মাঠ ফসল চাষের উপযোগী করে তুলতে পারব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
