জমি বরাদ্দ করা হতো ধর্মপরায়ণ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য। সমাজে তাদের যথেষ্ট প্রভাব ও শ্রদ্ধা ছিল। শুধু জনসাধারণ নয়, শাসকগণও তাদেরকে বিশেষ শ্রদ্ধা করতেন। ধর্মপরায়ণ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে তাদের ভাতা ও জমি বরাদ্দ দেওয়া হতো।
Related Question
View Allমধ্যযুগ বলতে মূলত মুসলিম শাসন আমলকে বোঝানো হয়। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত বাংলায় প্রাচীন যুগ ছিল। তার বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে মধ্যযুগের সূচনা হয় এবং ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে মধ্যযুগ বলে অভিহিত করা হয়। এরপর শুরু হয় আধুনিক যুগ।
বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর সুফি সাধকগণ ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য বাংলায় আসতে থাকেন। বাংলার সাধারণ মানুষ এ সময় ধর্মান্তরিত হওয়া শুরু করে। এভাবে বাংলায় একটি রূপান্তরিত! সমাজকাঠামো গড়ে ওঠে। এ যুগে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও আন্যান্য ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করায় তাদের মধ্যে চিন্তার মিশ্রণ ঘটতে থাকে।
মূলত ইসলাম ও সনাতন ধর্মকে কেন্দ্র করেই মধ্যযুগে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতি-নীতি গড়ে ওঠেছিল। এ সময় একই সঙ্গে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য লোকধর্মানুসারী মানুষেরা বসবাস করতেন। ফলে সমাজ-সংস্কৃতিতে তাদের চিন্তাধারার মিশ্রণ ঘটে।
বাংলায় মুসলমান শাসনামলে সুলতানগণ ছিলেন সমাজ জীবনে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। জুমা ও ঈদের নামাজে খুতবা পাঠ মুসলমান শাসকের বিশেষ, দায়িত্ব ছিল। মুসলমান সমাজের নেতা হিসেবে শাসককে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হতো।
মুসলমান শাসকরা অভিজাত সম্প্রদায়ভুক্ত এবং জমকালো প্রাসাদে বাস করতেন। তাঁদের রাজধানীও নানারকম মনোমুগ্ধকর অট্টালিকায়, সুসজ্জিত থাকত। ঐশ্বর্য ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও ব্রাজদরবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিদের সমাবেশ। শাসকগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সংস্কৃতির উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
মধ্যযুগে বাংলায় মুসলমান সমাজব্যবস্থায় উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন-এই তিনটি পৃথক শ্রেণির অস্তিত্ব ছিল। তবে তাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য ছিল না। নিম্নশ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে মধ্যবিত্ত এবং কৃষক, তাঁতি ও অন্যান্য শ্রেণি নিয়ে তৃতীয় শ্রেণি গঠিত ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!