তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায় বিশ্বের প্রতিটি দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ইত্যাদির মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিপর্যয়ের ফলে মানুষের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বৃক্ষনিধন, শিল্পকারখানা স্থাপন, দূষণ ও নগরায়ণের ফলে আবহাওয়ায় একটি দীর্ঘস্থায়ী বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এটিই জলবায়ু পরিবর্তন। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিজ্ঞানীদের মতে, গত দশ বছরে যেসব ঝড়, বন্যা ও দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে তা এ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রত্যক্ষ ফল। অথচ পরিবেশের উপর মানুষের প্রভাববিস্তার বেড়েই চলেছে। একদিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গমন ক্রমাগত বাড়ছে, অন্যদিকে 'উন্নয়ন'-এর নামে প্রতিনিয়ত বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বনসহ আরও কিছু মারাত্মক ক্ষতিকর গ্যাস মজুত হয়ে গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করছে। এসব গ্যাসের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের বাইরের দিকে যে ওজোন গ্যাসের আবরণ আছে, তা ক্রমেই ক্ষয় হচ্ছে। এ কারণে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির আগমন আগের মতো আটকানো যাচ্ছে না। ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়ছে। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ বাড়বে, সমুদ্রের পানিতে প্লাবিত হতে থাকবে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বাংলাদেশেরও একদিকে মরুকরণ, অন্যদিকে বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতির জন্যে জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলের যেমন নজর দেওয়া উচিত, তেমনিভাবে আমাদেরও উচিত নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের করালগ্রাস থেকে মুক্তির উপায় বের করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!