ফররুখ আহমদ দর্শন ও ইংরেজি এই দুই বিষয়ে অনার্সের ছাত্র ছিলেন।
বর্ষার প্লাবনে ফসল ফলানোর মাধ্যমে বন্যা নদীর ফাটলে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আনে।
গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে ফেটে খন্ড-বিখন্ড হয়ে যায়। এরপর প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসে বর্ষা। নববর্ষার জলে নদীতে আসে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার। নদীর পলিবাহিত মাটিতে উর্বরাশক্তি পুনরায় ফিরে পায় ধানি জমিগুলো। জমিগুলো তখন আবার ফসলে পূর্ণ হয়ে ওঠে। এভাবেই নদীর ফাটলে বন্যা পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আনে।
'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টি আশীর্বাদস্বরূপ আর উদ্দীপকে দুর্ভোগ- এটিই পার্থক্য।
প্রকৃতি যে সব সময় মানুষের আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে, তা নয়। প্রকৃতির বিরূপ প্রতিক্রিয়া কখনো কখনো মানুষের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তীব্র রোদ কিংবা ভারী বর্ষণ তার অন্যতম উদাহরণ।
'বৃষ্টি' কবিতায়' দেখা যায়, প্রকৃতিতে বর্ষা নতুন জীবনের স্পর্শ নিয়ে আসে। বর্ষা ঋতুর প্রথম থেকেই শুরু হয় বৃষ্টি। বর্ষায় পদ্মা-মেঘনার দুপাশের জমি প্লাবিত হয়। ফলে পলি সঞ্চিত হয়ে জমি আরও উর্বরা হয়। তাই বৃষ্টি এখানে আশীর্বাদরূপে ধরা দিয়েছে। উদ্দীপকে বৃষ্টির কারণে শহরের সব রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। রাস্তায় চেহারা হয়েছে নদীর মতো। ব্যস্ত নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে টানা বৃষ্টিতে। রিকশা ও অটোরিকশাওয়ালারা জীবিকার তাগিদে কষ্ট সহ্য করছেন। তাই বলা যায়, কবিতায় বৃষ্টি আশীর্বাদ হলেও উদ্দীপকে তার রয়েছে বিপরীত চিত্র।
"প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে দুর্ভোগ তার জন্য দায়ী মানুষ, প্রকৃতি নয়।" এ সত্যটা উদ্দীপক ও 'বৃষ্টি' কবিতায় সুপ্তাকারে বিরাজিত- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রকৃতির পরিক্রমায় বর্ষা ঋতুর আবির্ভাব। অধিক বৃষ্টিপাত এ ঋতুর বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতিতে প্রাণসঞ্চারের জন্য এ সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতি বৃষ্টিহীন হলে জমিতে ফসল জন্মানো বন্ধ হয়ে যাবে। উর্বরা পৃথিবী রূপ নেবে বন্ধ্যা পৃথিবীতে।
উদ্দীপকে চট্টগ্রাম নগরের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। অধিক বৃষ্টি শহরের বুকে সৃষ্টি করেছে জলাবদ্ধতা। এর প্রধান কারণ অপরিকল্পিত নগরব্যবস্থা। শহরের জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলে তৈরি করা হয়েছে বাড়ি-ঘর, মার্কেট, শপিং মল। পানি নিষ্কাশনের জন্য জায়গাই রাখা হয়নি। এজন্য সৃষ্টি হয়েছে এই দুর্ভোগ। 'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায়, বর্ষা ঋতু শুধু প্রকৃতিতে দোলা দেয় না, সাথে সাথে মানুষের মনেও দোলা দেয়। কারণ সেখানে প্রকৃতি নিজের নিয়মে চলেছে। কিন্তু উদ্দীপকে প্রকৃতিকে ব্যবহার ও উপভোগ করার জন্য কোনো পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ দুর্ভোগের জন্য বৃষ্টির চেয়ে মানুষই বেশি দায়ী।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু সেই দুর্ভোগের জন্য মানুষই দায়ী। মানবসভ্যতাকে পরিকল্পিত না করলে তা 'বৃষ্টি' কবিতার মতো প্রতীক্ষিত নয়, অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠবে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View AllAnswer
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!