শক্তির সাথে কাজের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
কাজের জন্য নির্ধারিত সঠিক স্থানে কাজ করলে কম শক্তি ব্যয় করে কাজ করা যায়।
কিছু সুবিধাজনক ব্যবস্থা হলো- খাবার ঘরে খাওয়ার কাজ সম্পন্ন করা, ধোয়ার স্থানে ধোয়া ইত্যাদি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো কাজের স্থানে থাকলে অযথা হাঁটাহাঁটিতে শক্তির অপচয় হয় না।
মানবীয় সম্পদগুলোর মধ্যে সময় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
সময়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সীমাবদ্ধতা। তাই সময়ের সদ্ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জান্নাত একটি চার্টের মাধ্যমে সময় তালিকার সুবিধাগুলো তুলে ধরে। সময় সবচেয়ে সীমিত সম্পদ যা কোনো অবস্থাতেই বাড়ানো বা কমানো যায় না। সময় তালিকা অনুসরণ করে কাজ করলে জান্নাত কতগুলো সুবিধা ভোগ করতে পারবে। সময় তালিকার মাধ্যমে জান্নাত তার করণীয় কাজ সম্পর্কে ধারণা পাবে। সময় তালিকায় দৈনন্দিন কাজগুলোকে সময় অনুযায়ী লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে করণীয় কাজগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। কোন কাজ একান্ত প্রয়োজন, কোন কাজ করলে ভালো হয় ও কোন কাজগুলো প্রয়োজনে রদবদল করা যায় সে বিষয়ে ধারণা জন্মে। তাই এসব কিছু বিবেচনা করে সময় তালিকা করা হয়। এভাবেই জান্নাত সময় তালিকার মাধ্যমে তার করণীয় কাজ সম্পর্কে ধারণা পাবে।
সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ তার সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারে।
কাজ ও সময়কে ভিত্তি করে যে পরিকল্পনা করা হয় তাকে সময় তালিকা বলে। সময় তালিকায় সময় উল্লেখ করে কোন কাজের পর কোন কাজ করা হবে তার ধারাবাহিক বিবরণ থাকে।
সময় তালিকা জান্নাতের কাজে দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে। জান্নাত সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। জান্নাত সময় তালিকার মাধ্যমে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারবে। সময় তালিকায় করণীয় কাজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হয়। কোন কাজ করলে ভালো হয়, কোন কাজ প্রয়োজনে বাদ দেওয়া যায় এসব কিছু বিবেচনা করে সময় তালিকা করা হয়। কাজের সময় নির্ধারিত থাকে বলে নির্ধারিত সময়েই কাজ সম্পন্ন করার প্রবণতা থাকে। সময় তালিকায় কোন কাজে কতটুকু সময় বরাদ্দ দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট থাকে।
সময় তালিকা করলে রুটিনমাফিক কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে অভ্যাসের কারণে কাজে দক্ষতা ও গতিশীলতা বাড়ে। সৃজনশীল কাজ করার সময় ও সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন রকম কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, সময় তালিকা জান্নাতের কাজে দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করে।
Related Question
View Allপ্রকৃত আয় পরিবারের নির্দিষ্ট সময়ে ভোগ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম দ্বারা গঠিত। প্রকৃত আয় বাড়ানোর উপায়গুলো হলো-
যখন বিভিন্ন দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হ্রাসকৃত মূল্যে দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করে তখন সেগুলো কেনা। পরিচিত ব্যক্তি যেমন- চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী ইত্যাদি পেশার ব্যক্তির কাছ থেকে পরিবার স্বল্প মূল্যে বা বিনামূল্যে সেবা লাভ করে আয় বাড়াতে পারে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেও প্রকৃত আয় বাড়ানো যায়। যেমন: সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ।
কাজ ও সময়কে ভিত্তি করে যে পরিকল্পনা করা হয় তাই সময় তালিকা।
মিতা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় প্রায়ই তার কলেজে যেতে দেরি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সে টিভি দেখে। পরীক্ষায় সে ভালো ফলাফল করতে পারে না। এই সমস্যা দূর করতে মিতার সময় তালিকা অনুসরণ করা উচিত।
মিতার জন্য কলেজ খোলার দিনের একটি সময় তালিকা উল্লেখ করা হলো-
| সময় | কার্য বিবরণী | সময়ের পরিমাণ | |
| ঘণ্টা | মিনিট | ||
| ৬.০০-৭.০০ | ঘুম থেকে ওঠা, বিছানা গোছানো, হাতমুখ ধোয়া, ধর্মীয় কাজ করা, নিজস্ব কোনো কাজ করা। | ১ | ০০ |
| ৭.০০-৭.৩০ | নাস্তা তৈরিতে সাহায্য করা, নাস্তা খাওয়া। | ০ | ৩০ |
| ৭.৩০-৯.০০ | পড়াশোনা করা | ১ | ৩০ |
| ৯.০০-১০.৩০ | টিউটর থাকলে পড়া/লেখাপড়া করা। | ১ | ৩০ |
| ১০.৩০-১১.০০ | গোসল করা, খাওয়া, কলেজের জন্য তৈরি হওয়া। | ০ | ৩০ |
| ১১.০০-০৪.৩০ | শ্রেণিকক্ষে অবস্থান, পাঠে মনোযোগ দেওয়া। | ৫ | ৩০ |
| ৪.৩০-৫.০০ | বাসায় পৌছানো, নামাজ পড়া। | ০ | ৩০ |
| সময় | কার্য বিবরণী | সময়ের পরিমাণ | |
| ঘণ্টা |
মিনিট | ||
| ৫.০০-৬.৩০ | বিশ্রাম ও হালকা নাস্তা খাওয়া, বাড়ির কাজে সাহায্য করা। | ১ | ৩০ |
| ৬.৩০-৭.০০ | নামাজ পড়া। | ০ | ৩০ |
| ৭.০০-১০.৩০ | পড়াশোনা করা। | ৩ | ৩০ |
| ১০.৩০-১১.১০ | নামাজ পড়া, খাওয়া | ০ | ৪০ |
| ১১.১০-১১.২০ | দাঁত ব্রাশ করা, ঘুমের জন্য তৈরি হওয়া। | ০ | ১০ |
| ১১.২০-৬.০০ | ঘুমানো। | ৬ | ৪০ |
| মোট সময় | ২৪ ঘণ্টা | ০০ | |
কাজ সহজকরণের উপায় হলো কাজকে সহজ উপায়ে সম্পাদন করা।
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সময় ও শক্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো কাজ সহজে সম্পন্ন করার পদ্ধতিই হলো কাজ সহজকরণ পদ্ধতি।
-সহজকরণ পদ্ধতি অবলম্বন করে কাজ করলে সমস্যায় পড়তে হয় না। যেমন- কাজের সময় দুই হাত ব্যবহার করা, সঠিক দেহভঙ্গি নিয়ে
কাজ করা, যেকোনো কাজ করার সময় কাজের ধারা সম্পর্কে ধারণা থাকা, ভারি কাজের পর হালকা কাজ করা ইত্যাদি। কাজের সরঞ্জাম সরল ও মজবুত হতে হবে। কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন এনেও কাজ সহজ করা যায়। যেমন- শাকসবজি একবারে ধুয়ে কাটার পর পাত্রে রাখা, যেন অন্য পাত্রে রাখার প্রয়োজন না হয়। উৎপাদিত দ্রব্য পরিবর্তন করেও সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। যেমন- গৃহিণী টেবিল ক্লথের পরিবর্তে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ধোয়ার জন্য সময় ও শক্তি ব্যয় হবে না। এছাড়া গৃহস্থালির কাজ সহজ ও সংক্ষেপে করার জন্য অনেক নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার হচ্ছে যা সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। যেমন- ওয়াশিং মেশিন, প্রেসার কুকার ইত্যাদি।
সুতরাং, কাজ সহজকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে সময় ও শক্তি দুটোই সংরক্ষণ সম্ভব। মিতার বাবার এই উক্তিটি যথার্থ।
কোনো একটি কাজ সম্পূর্ণভাবে করার জন্য কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনাই প্রসেস চার্ট।
কাজ সহজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়।
ব্যবহৃত দ্রব্যের পরিবর্তন করেও সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। যেমন- খাবার টেবিলে কাপড়ের টেবিল ক্লথ ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের টেবিল ক্লথের উপর টেবিল ম্যাট ব্যবহার করলে গৃহ ব্যবস্থাপকের পরিশ্রম কম হয়, সহজেই টেবিল পরিষ্কার করা যায়। এতে সময় ও শক্তি ব্যয় কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!