যারা শ্রম বা মেধা দিয়ে দেশের কৃষি, শিল্প, সেবাসহ অর্থনীতির যেকোনো খাতে অবদান রাখে তাদেরকে দেশের মানবসম্পদ বলে।
কোনো দেশের জনপ্রতি বার্ষিক আয়কে মাথাপিছু আয় বলে। যা মানুষের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করে। একটি দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় যত বেশি হবে তার জীবনযাত্রার মান তত উন্নত হবে। আর মাথাপিছু আয় কম হলে জীবনযাত্রার মান কম হবে। মাথাপিছু আয় বলতে ক্রয়ক্ষমতা ও ভোগের ক্ষমতাকে বোঝায়। সুতরাং, মাছাপিছু আয়ই জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করে।
জামাল সাহেবের কাজটি জাতীয় আয়ের কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকের জামাল সাহেব তার জমিতে ধান ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ফলান। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফসল তিনি বাজারে বিক্রি করে থাকেন। অর্থাৎ জামাল সাহেব কৃষি খাতের সাথে জড়িত যা বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাতীয় আয়ে কৃষি খাতের অবদান অপরিসীম। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ছিল ১৩.১৪ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৫৪ শতাংশ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ছিল ১১.০২ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.২১ শতাংশ।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাতীয় আয়ে কৃষি খাতের অবদান অপরিসীম।
রোমেলের প্রেরিত অর্থ অর্থাৎ রেমিটেন্স দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানকেও দারুণভাবে প্রভাবিত করছে।
বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল ১১.৩৮ লক্ষ এবং তাদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ছিল ২১,৬১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে ২০০৮ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রাপ্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। ২০০৯ সালে তা ৮ম স্থানে উন্নীত হয়। এসময় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে স্থান ছিল দ্বিতীয়।
বিশ্ব মন্দা পরিস্থিতি সত্ত্বেও ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের কোনো সংকটের মধ্যে না পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের রেমিটেন্স। অর্থাৎ উদ্দীপকের রোমেলও একজন প্রবাসী এবং তার প্রেরিত অর্থ রেমিটেন্স হিসেবে গণ্য হবে। তার প্রেরিত এ অর্থ দেশের মানুষের জীবনমাত্রার মানকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি 'করছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নের উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়ে থাকে।
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছরে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মোট অর্থমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বা সামগ্রিক আয় বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) হলো একটি দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার অর্থমূল্যের যোগফল। এতে দেশের নাগরিকদের বিদেশে করা আয়ের যোগ হয় এবং বিদেশিদের দেশে করা আয় বাদ দেওয়া হয়।
মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের মোট জাতীয় আয়ের সাথে সে দেশের জনসংখ্যার ভাগফল। এটি দেশের নাগরিকদের গড় আয় বোঝায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে সাধারণত দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরিচায়ক হয়।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে শিল্প, সেবা এবং কৃষিখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়াও দারিদ্র্য দূরীকরণ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) সাধারণত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি ও আয়ের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ এবং দেশের অর্থনীতির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!