কোনো বস্তু বা বিষয়ের সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের সংযোগ ঘটলে স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপিত হয়, ফলে আমাদের দেহে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তাকেই আচরণ বলে।
আচরণকে সামগ্রিক ও খণ্ডিত, ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ এই কয়ভাগে ভাগ করা যায়।
যখন একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হয় তখন তাকে সামগ্রিক আচরণ বলে। যেমন- কোনো জনসভায় এক রাজনীতিবিদের ভাষণকে সামগ্রিক আচরণ হিসেবে ধরা হয় আর তার ঠোঁট নাড়া, চোখের পলক ফেলা প্রভৃতিকে খণ্ডিত বা আণবিক আচরণ বলে। আবার, ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত আচরণকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন-কথা বলা, খাবার খাওয়া ইত্যাদি। আর ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে সংঘটিত হওয়া আচরণ যেমন- শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া ইত্যাদি অনৈচ্ছিক আচরণের উদাহরণ। এছাড়াও যেসব আচরণকে বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় যেমন- কথা বলা, হাসা ইত্যাদিকে বাহ্যিক আচরণ বলে। পক্ষান্তরে, শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া যা দেখা যায় না যেমন- শারীরিক ব্যথা, চিন্তাধারা ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ আচরণের উদাহরণ।
উদ্দীপকে বিবৃত দলগত ও কৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যগুলো মনোবিজ্ঞানের 'সমাজ মনোবিজ্ঞান' শাখায় আলোচিত হয়।
মানুষের সামাজিক আচরণই সমাজ মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু। সমাজ মনোবিজ্ঞানে ব্যক্তির আচরণ পর্যালোচনা করা হলেও ব্যক্তিকে কখনোই সমাজের অন্যান্য মানুষ থেকে আলাদা করে দেখা হয় না বরং এখানে। ব্যক্তি ও তার পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়। কেননা, বাস্তবতার নিরিখে সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি, শৃঙ্খলা, আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক প্রভাবে ব্যক্তির আচরণ, চরিত্র ও মানসিকতা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে। সমাজের সাথে ব্যক্তির এরূপ সম্পর্কের দৃঢ়তা সম্পর্কে কেবল সমাজ মনোবিজ্ঞানের আলোচনার মাধ্যমেই জানা যায়।। উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে
আমরা দেখতে পাই সেখানে সমাজের মানুষ বিভিন্ন গোষ্ঠী ও কৃষ্টিতে বিভক্ত এবং তাদের মূল্যবোধ, বিশ্বাস, প্রথা, মনোভাব, পূর্ব সংস্কার ও সামাজিক আচরণ ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির। আমরা সমাজ মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়বস্তুর দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, সেখানে ব্যক্তির মনোভাব গঠনে বিভিন্ন সমাজিকরণ মাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার তথা সমাজের অন্যান্য ব্যক্তির বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ব্যক্তির মূল্যবোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে থাকে। ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত সামাজিক মূল্যবোধগুলো অন্য ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সাথে ভাব বিনিময় ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও সমাজ মনোবিজ্ঞান কী প্রক্রিয়ায় শিশুর সামাজিকীকরণ ঘটে, কীভাবে ব্যক্তির মনোভাব গড়ে ওঠে, কীভাবে মনোভাবের পরিবর্তন হয়, সমাজে গুজব কেন ছড়ায়, কীভাবে জনমত গঠিত হয় এবং সামাজিক পরিবেশ কীভাবে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে তার বিস্তারিত বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করে থাকে। সে দিক থেকে বিবেচনা করলেও প্রদত্ত উদ্দীপকে বিবৃত দলগত ও কৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যগুলো মনোবিজ্ঞানের 'সমাজ মনোবিজ্ঞান' শাখায় আলোচিত হয়-এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
উদ্দীপকের জাহিদের মনে জাগ্রত প্রশ্নটি হলো, "মানুষ কী শুধু জৈবিক ঘটনাবলি নিয়ে সৃষ্ট, নাকি সমাজের সৃষ্ট?' এক্ষেত্রে আমার মতামত হলো মানুষ জৈবিক ঘটনাবলির সাথে সাথে সমাজের সৃষ্টি।
মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া জৈবিক ঘটনাবলি যেমন- বংশগতি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলোর কার্যকারিতা প্রভৃতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক অবস্থাও যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে।
মানুষ বংশগতি সূত্রে তার পূর্বপুরুষ থেকে সম্ভাবনা প্রাপ্ত হয় এবং সে সম্ভাবনা জন্ম-পূর্ব পরিবেশ এবং জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ দ্বারা সত্যিকার রূপে বিকশিত হয়। জন্ম-পরবর্তী পরিবেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ ব্যক্তির আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মানুষের বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রভাববিস্তারকারী জৈবিক ঘটনাবলি হচ্ছে মস্তিষ্ক এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যাবলি। অপরদিকে মানুষ যে সমাজে বাস করে তার ব্যক্তিত্ব ও আচরণ সেই সমাজের প্রথা, রীতিনীতি, কৃষ্টি প্রভৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, জাহিদের মনে জাগরিত প্রশ্নটির উত্তর হবে এই যে, মানুষ জৈবিক ও সামাজিক ঘটনাবলির দ্বারা প্রভাবিত এক অনন্য সৃষ্টি।
উদ্দীপকের জয়ার বয়স ৬ বছর হওয়ায় সে তার শৈশবের প্রথম পর্যায়ে অর্জিত জীবন-মৃত্যু, সৌন্দর্য, সংখ্যা, স্থান, সময় প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণাসমূহের অনেক নতুন অর্থ খুঁজে পায়। এক্ষেত্রে তার স্কুলের পড়ালেখা, সমবয়সিদের আচরণ প্রভৃতি ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allযে সকল মানব শিশু আজন্ম মানব সমাজের সংস্পর্শের বাইরে থেকে তথা বন্য পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছে তাদের ফেরেল মানব বলে
X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু যদি 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে কন্যা শিশুর লিজা নির্ধারিত হয়। কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হবে তার ওপর নির্ভর করে সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে হবে। পরিপক্ক ডিম্বাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোজোম ও একটি × অথবা একটি 'Y' ক্রোমোজোম থাকে। এই 'X' এবং 'Y' ক্রোমোজোমগুলোই শিশুর লিজা নির্ধারণ করে। 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু 'Y' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে সন্তান ছেলে হয়। পক্ষান্তরে, 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে শিশু মেয়ে হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ রোমেলের ক্ষেত্রে জন্মপরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যক্তির পরিবেশকে জন্ম-পূর্ব পরিবেশ ও জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ এ দুভাগে ভাগ করা যায়। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত যে সব উপাদান ব্যক্তির জীবনকে প্রভাবিত করে তাই হলো তার জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ। ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু, আলো-বাতাস, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা প্রভৃতি জন্ম-পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান। যেমন- সমতলভূমিতে বেড়ে ওঠা ব্যক্তির জীবনপ্রণালি পাহাড়ি এলাকায় বেড়ে ওঠা ব্যক্তি থেকে আলাদা, আবার শীতপ্রধান অঞ্চলের লোকের সাথে গরম প্রধান অঞ্চলের লোকের তুলনা করলে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের মধ্যে দৈহিক গড়ন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই যে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র রোমেল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় জন্মগ্রহণ করে। উপকূলীয় জীবনযাত্রার খোলা আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠায় সে সুঠামদেহী, প্রচণ্ড সাহসী ও পরিশ্রমী। তাহলে দেখা যায়, উপকূলীয় খোলা আবহাওয়া তার জীবন ও শারীরিক গঠনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই উপকূলীয় এলাকা তথা কক্সবাজারের কুতুবদিয়া প্রাকৃতিক পরিবেশেরই অংশ। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত রোমেলের ক্ষেত্রে জন্ম-পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর প্রথমাংশে মানুষের আচরণের ইতিবাচক দিক তথা সামাজিক বিকাশ এবং দ্বিতীয়াংশে আচরণের নেতিবাচক তথা খারাপ দিক অর্থাৎ দুর্নীতির উল্লেখ করা হয়েছে।
মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে তাকে সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য আচরণ করতে হয়। সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য আচরণ শেখার জন্য সামাজিক বিকাশ প্রয়োজন। সামাজিক বিকাশ বলতে বোঝায় সামাজিক প্রবণতার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের ক্ষমতা অর্জন। এ ধরনের বিকাশের কারণে শিশু সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ-খাওয়াতে শিখে এবং সে অনুযায়ী আচরণ করে। জীবনে চলার পথে পরিবার ও সমাজে মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ সকল সমস্যা সমাধান করা কোনো মানুষের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মানুষ একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য সহযোগিতা করে। একে অপরের খোঁজ-খবর নেয়। এভাবে মানুষের মাঝে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার মূলেই রয়েছে সামাজিক বিকাশ।
প্রদত্ত দৃশ্যকল্প-২ এর দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, সেখানে বলা হয়েছে
সমাজের কিছু মানুষ সর্বক্ষণ মানুষের ক্ষতি, ঘুষ ও দুর্নীতি করে মানুষের ক্ষতিসাধন করে থাকে। মূলত সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব; ক্রমবর্ধমান ভোগবাদী প্রবণতা এবং তথ্য অধিকারের অভাব দুর্নীতির অন্যতম কারণ। দুর্নীতি একই সাথে পারিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধক। দুর্নীতির ফলে এক শ্রেণির মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে, ফলে সমাজে ধনী ও দরিদ্রের আয়ের বৈষম্য বেড়ে যায়। দুর্নীতির ফলে মানব উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যাহত হয় এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। বৃহৎ ভাবে বলতে গেলে দুর্নীতির কারণে একটি দেশে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নীতি নির্ধারণ পদ্ধতিতে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় না। ফলে মৌলিক অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব ও আয় বৈষম্য দেখা দেয়। এককথায় বলতে গেলে দুর্নীতি সকল উন্নতির অন্তরায়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সামাজিক বিকাশ যেমন সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য পূর্বশর্ত তেমনি দুর্নীতি সমাজের জন্য অভিশাপস্বরূপ। তাই সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের জন্য সরকারের সাথে সাথে আমাদের সকলেরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এগিয়ে আসা জরুরি।
বংশগতি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব তার আকার-আকৃতি, চেহারা, বর্ণ ইত্যাদি তার বংশধরদের মধ্যে সঞ্চালিত করে।
গর্ভজাত সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, তা মূলত ক্রোমোসোমের ওপর নির্ভর করে
একটি পরিপক্ক ডিম্বাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোসোম এবং একটি 'X' ক্রোমোসোম থাকে। অপরদিকে, একটি পরিপক্ক শুক্রাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোসোম এবং একটি 'X' অথবা 'Y' ক্রোমোসোম থাকে। সমরূপী ক্রোমোসোমকে অটোসম এবং 'X' এবং 'Y' কে যৌন ক্রোমোসোম বলে। 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু যদি 'Y ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয় তাহলে সন্তানটি হবে 'XY' বা ছেলে। আর যদি 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু, 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয়, তবে সন্তানটি হবে 'XX' বা মেয়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!