নাগরিক হিসেবে ব্যক্তির পদমর্যাদাই হচ্ছে নাগরিকতা।
স্থানীয় নাগরিক হিসেবে আমি পরিবার, গ্রাম, ইউনিয়ন কাউন্সিল বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্য। এসব প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে আমি যেসব কার্য সম্পাদন করি তা নাগরিকতার স্থানীয় বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সে হিসেবে আমি একজন স্থানীয় নাগরিক।
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। মানবজীবনকে সমৃদ্ধ করতে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতিকল্পে জ্ঞানের সকল শাখায় অবাধ বিচরণ একান্তই আবশ্যক। পৌরনীতি
নাগরিক জীবন সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে বিধায় সভ্য সমাজের প্রত্যেক সদস্যের পৌরনীতির পাঠ গ্রহণ একান্ত অপরিহার্য।
আর সংগত কারণেই উদ্দীপকের জাহিনের বেছে নেওয়া প্রথম বিষয় তথা পৌরনীতি অধ্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ বিষয়টি অধ্যয়ন
করে একজন নাগরিক রাষ্ট্র ও সরকারের নানা দিক, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারে। পৌরনীতি অধ্যয়ন করে একজন নাগরিক রাজনৈতিক জীবন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র, সুশাসন, দেশপ্রেম, যোগ্য নেতৃত্বসহ নানা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। নাগরিক জীবনের পরিসর যত ব্যাপকতর, পৌরনীতির আলোচনা ক্ষেত্রেও তত প্রসারিত। তাছাড়া বর্তমানে নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট নব নব সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে, যার সমাধান পৌরনীতির মূলে নিহিত। একারণেই পৌরনীতির জ্ঞান ব্যতীত নাগরিক জীবন পূর্ণতা পায় না। সর্বোপরি উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পৌরনীতি বিষয়টি পাঠ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় দুটি তথা পৌরনীতি ও অর্থনীতি
পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। কেননা, পৌরনীতি ও অর্থনীতি উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। উভয়ের লক্ষ্য হলো সুখী ও সমৃদ্ধশালী নাগরিক জীবন প্রতিষ্ঠা করা। তাই এদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রতিটি রাজনৈতিক সমস্যার যেমন অর্থনৈতিক দিক রয়েছে। তেমনি প্রতিটি অর্থনৈতিক সমস্যারও রাজনৈতিক দিক রয়েছে। সম্পদ, উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা, বাজেট, অর্থনৈতিক সমস্যা ও তার সমাধান, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রভৃতি বিষয় অর্থনীতি এবং পৌরনীতি উভয় শাস্ত্রই আলোচনা করে। আধুনিককালে সকল প্রকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। এ কারণে এ দুই বিষয়ের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা। পৌরনীতি ও অর্থনীতি একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক ও সহায়ক হিসেবে কাজ করে। জনকল্যাণ প্রশ্নে পৌরনীতি ও অর্থনীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তদ্রুপ রাষ্ট্রীয় জীবনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পৌরনীতির সাথে অর্থনীতির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। এ কারণে বলা হয়, রাষ্ট্র তথা সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পৌরনীতি ও অর্থনীতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। আমি মনে করি, পৌরনীতির সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক হয়েছে।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!