GSP (Generalised System of Preferences) একটি বাণিজ্য সুবিধা। এটি উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দেয়, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য GSP কেন গুরুত্বপূর্ণ:
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্য উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি করতে এটি একটি বড় সুযোগ করে দেয়। GSP-এর মাধ্যমে শুল্ক কম থাকলে বাংলাদেশের পণ্যগুলো প্রতিযোগিতামূলক হয় এবং রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
GSP প্লাস কী:
GSP+ হলো GSP-এর একটি বর্ধিত সংস্করণ, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণকারী উন্নয়নশীল দেশগুলোকে GSP-এর চেয়েও বেশি শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়। এই অতিরিক্ত সুবিধাগুলো টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার ও সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করে।
Related Question
View Allবাণিজ্য যুদ্ধ হলো দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ, যেখানে এক দেশ আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক বা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা আরোপ করে এবং অপর দেশ পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে উভয় দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক খারাপ হয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের বিবরণ
২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এ সংঘাত শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে যে-
- চীন অবৈধভাবে মেধাস্বত্ব ব্যবহার করছে।
- চীন কৃত্রিমভাবে মুদ্রার মান নিয়ন্ত্রণ করছে।
- আমেরিকান পণ্যের বাজারে প্রবেশে চীন নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে
- এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে আমদানি করা শত শত বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ২৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজ পণ্য, গাড়ি ও অন্যান্য শিল্পপণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে।
ফলাফল
- দুই দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত: মার্কিন ভোক্তাদের পণ্যের দাম বেড়ে যায়, আবার আমেরিকান কৃষক ও শিল্পপতিরা চীনা বাজার হারায়।
- বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব: বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয় এবং অনেক দেশ পরোক্ষভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- চীনের বাজার সম্প্রসারণ: চীন বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ায়।
- উন্নয়নশীল দেশের জন্য সুযোগ: বাংলাদেশসহ কিছু দেশ পোশাক ও অন্যান্য শিল্পপণ্য রপ্তানিতে সুযোগ পায়, কারণ মার্কিন আমদানিকারকরা বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করে।
- রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি: দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র হয়।
ASEAN এর পূর্ণরূপ Association of Southeast Asian Nations (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দেশগুলির সংস্থা)।
ASEAN এর কার্যক্রম:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অগ্রগতি এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সহায়তা করা।
বর্তমান সদস্য দেশ :
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশ এর সদস্য। এর মধ্যে রয়েছে: ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, এবং ভিয়েতনাম।
বাংলাদেশ সদস্য হলে সুবিধা :
- অর্থনৈতিক সুবিধা : ASEAN-এর সাথে বাণিজ্য ও বিনিযোগ বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনবে এবং নতুন বাজার উন্মোচন করবে।
- প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় : সদস্য দেশগুলোর সাথে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
- আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা : এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!