আঠারো বছর বয়সে বিরাট দুঃসাহসেরা উঁকি দেয়।
প্রশ্নোক্ত চরণের দ্বারা কবি তরুণদের স্বপ্ন দেখা ও তা বাস্তবায়নের জন্য শত বাধা অতিক্রমের মনোভাবকে বুঝিয়েছেন।
তরুণ বয়সেই মানুষ নিজেকে নতুন রূপে গড়তে চায় সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিজেকে নিয়ে অসংখ্য স্বপ্ন দেখে, যে স্বপ্ন তাকে দিয়ে শপথ গ্রহণ করায়। তারুণ্যও সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে শপথের কোলাহলে নিজেকে সঁপে দিয়ে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। এই শপথই তাকে দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করায়।
দুঃসাহসে সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রত্যয়ের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়েছে তারুণ্যের অদম্য জীবনীশক্তি। এ বয়সি তরুণ অদম্য দুঃসাহসে সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। এ বয়স অন্যায়ের সামনে মাথা নত করে না'। এ বয়সে তরুণরা আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সংঘাতে অংশগ্রহণ করে। এ বয়সের আছে দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলার অদম্য প্রাণশক্তি।
উদ্দীপকে এমন মানুষের জয়গান গাওয়া হয়েছে যারা নির্দ্বিধায় নিজেকে বলি দেওয়ার সাহস রাখে। যারা আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত দারুণ সাহসে বিষের পেয়ালা পান করে, বর্শার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। যারা এমনকি বর্ষার পিচ্ছিল পাহাড় বেয়ে উঠতেও ভয় করে না কবি তাদের জয়গান গেয়েছেন। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাতেও কবি এমন মানুয়ের জয়গান গেয়েছেন, যারা প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় আঠারো বছর বয়সি তারুণ্যশক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই তুলে ধরা হয়েছে। এ বয়স যেমন আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আত্মাকে শপথের কোলাহলে সঁপে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, অদম্য প্রাণশক্তি ধারণ করতে পারে তেমনি এ বয়স লক্ষ-দীর্ঘশ্বাসে কালোও হতে পারে। সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতে এ বয়স হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর।
উদ্দীপকে সাহসী মানুষের কথা বলা হয়েছে। যারা আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে হাসিমুখে বিষের পেয়ালা পান করে, নিজের বুকে বশা হানতে দেয়। মানুষ তাদেরকে অসংযমী ক্ষুদ্রমনা, কূপমণ্ডুক আখ্যা দিলেও কবি তাদের তরেই গান রচনা করেছেন, তাদেরই বন্দনা করেছেন। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় আঠারো বছর বয়সি তরুণদের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়স যেমন উত্তেজনার, প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার উপযোগী, তেমনি এ বয়সটি অজস্র ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাসে জীবনের এক কালো নেতিবাচক অধ্যায়ও হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, উদ্দীপকে নির্দিষ্ট কোনো বয়স উল্লেখ না করে এক শ্রেণির মানুষের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে কবি কেবল তাদের চরিত্রের ইতিবাচক দিকগুলোই তুলে ধরেছেন ফলে উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!