আঠারো বছর বয়স (সুকান্ত ভট্টাচার্য)

বাংলা ১ম পত্র - বাংলা - এইচএসসি | NCTB BOOK

5.8k

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ 

স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি, 

আঠারো বছর বয়সেই অহরহ 

বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি ।

[ আঠারো বছর বয়সের নেই ভয় 

পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা, 

এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়- 

আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা ।

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য 

বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে, 

প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য 

সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে ।

(আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর) * 

তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা, 

এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর

 এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা ।

আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার 

পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,

 দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার

 ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ । 

আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে 

অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো, 

এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে 

এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো 

তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি, 

এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে, 

বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী 

এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে । 

এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয় 

পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে, 

এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়— 

দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে ৷৷

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আত্মযন্ত্রণায়
শপথের কোলাহলে
সর্বনাশের অভিঘাতে
লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে
বিপদে সঠিক পথে চলা কঠিন
তরুণেরা দুর্যোগে ভয়হীন
তরুণেরা বিপদকে ভয় পায় না
দুর্যোগে দুঃসাহস বর্জনীয়
উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

আশা- সে তো মরীচিকা আমরা বলি,
ওরা বলে, আশাই জীবন, জীবনের শ্রী।

আঠারো বছর বয়স
সোনার তরী
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
তাহারেই পড়ে মনে
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...