উদ্দীপকে B কোষ হলো প্রাণিকোষ। জীবে প্রাণিকোষের গুরুত্ব নিচে বর্ণনা করা হলো-
কোষ হচ্ছে টিস্যুর গঠনগত ও কার্যকরী একক। প্রাণিদেহে নানা ধরনের কোষ আছে যারা ভিন্ন ভিন্ন কাজে নিয়োজিত। যেমন-স্নায়ুকোষ দেহের যেকোনো অংশের উদ্দীপনা গ্রহণ করে আবার মস্তিষ্কের কোনো বার্তা শরীরের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছে দেয়। চোখের স্নায়ু কোষগুলো দেখতে এবং কানের স্নায়ুকোষগুলো শুনতে সাহায্য করে। প্রাণীর কাজকর্মে, হাঁটা-চলায় এবং নড়াচড়ায় পেশি কোষ। ব্যবহৃত হয়। লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা এ তিন ধরনের রক্তকোষ প্রাণীর দেহের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকে।
শরীরের ত্বকীয় কোষগুলো দেহের আবরণ দেওয়া ছাড়াও শরীরের অবস্থানভেদে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। অস্থিকোষ দেহে অস্থি অথবা কোমলাস্থি তৈরি করে দেহের দৃঢ়তা দিয়ে থাকে। তাছাড়াও দেহের আকার, গঠন, অস্থির বৃদ্ধি ইত্যাদিতে অস্থিকোষের অবদান উল্লেখযোগ্য।
প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবদেহ থেকে শুরু করে অতি বৃহদাকার ও উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের সাংগঠনিক এবং কার্যপ্রণালিতে প্রচুর মিল-অমিল রয়েছে। সকল জীবদেহের মধ্যে সাধারণ মিল বা সাদৃশ্যটি হলো যে, জীবদেহ মাত্রই কোষ দ্বারা গঠিত। বিগত কয়েকশ বছর ধরে বিজ্ঞানীগণ নিরলস প্রচেষ্টায় কোষের গঠন, আকৃতি, প্রকৃতি ও অন্যান্য বিষয়ে প্রচুর গবেষণামূলক কাজ করেছেন। একটি জীবদেহের সব কোষের গঠন প্রকৃতি এক রকম নয় বরং ভিন্ন। আমরা এ পরিচ্ছেদে কোষের গঠন বর্ণনা করব কিন্তু নিম্নে বর্ণিত সকল অঙ্গাণু এক সাথে এক কোষে পাওয়া যায় না। তাই মোটামুটি সব ধরনের কোষে যেসব ক্ষুদ্র অঙ্গাণু পরিলক্ষিত হয় সেগুলোকে বর্ণনার জন্য একটি কোষের আওতায় এনে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দিকে যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে জীববিজ্ঞানীরা কোষের যে ধারণা পেয়েছিলেন তা ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর আরও সুষ্পষ্ট ও বিস্তারিত হয়েছে। সেই আলোকে আদর্শ কোষ আলোচনা করা হলো।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- উদ্ভিদ এবং প্রাণিকোষের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
- প্রাণী এবং উদ্ভিদকোষের তুলনা করতে পারব।
- কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণুর গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার টিস্যুর কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার টিস্যুর কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allরক্ত এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্যাদি (অক্সিজেন, খাদ্য, রেচন পদার্থ) দেহের একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবাহিত হয়।
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভিতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু বলে। আমাদের ত্বকের বাইরের আবরণ, মুখগহ্বরের ভিতরের আবরণ ইত্যাদি আবরণী টিস্যু দিয়ে গঠিত। দেহের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলোও আবরণী টিস্যু দিয়ে তৈরি।
উদ্দীপকের P চিত্রটি হলো মানুষের হাত। হাতের জন্য, অস্থির গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. অস্থি দ্বারাই হাতের কাঠামো গঠিত হয়।
২. অস্থির কারণেই হাত নির্দিষ্ট আকৃতি লাভ করে।
৩. অস্থির মাধ্যমেই হাত দেহের সাথে সংযুক্ত থাকে।
৪. হাতের পেশিগুলো অস্থির সাথে যুক্ত থেকে হাত সঞ্চালনে সহায়তা করে।
৫. অস্থি হাতের ভার বহন করে।
সুতরাং P চিত্রে অর্থাৎ হাতের জন্য অস্থির গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে P চিত্র দ্বারা ঐচ্ছিক পেশি এবং Q চিত্র দ্বারা অনৈচ্ছিক পেশিকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
১. ঐচ্ছিক পেশি আমরা ইচ্ছামতো সংকুচিত ও প্রসারিত করতে পারি। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশি আমরা ইচ্ছামতো সংকুচিত করতে পারি না।
২. ঐচ্ছিক পেশির সাহায্যে আমরা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারি। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশির সাহায্যে আমরা কোনো অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারি না।
৩. ঐচ্ছিক পেশি হাড়ের সাথে লেগে থেকে আমাদের অঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশি হাড়ের সাথে লেগে থাকে না।
৪. বহিঃত্বক, হাত, পা ইত্যাদি ঐচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। অন্যদিকে পাকস্থলী, হৃৎপিন্ড, যকৃৎ ইত্যাদি অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
উদ্ভিদকোষের ক্ষেত্রে কোষঝিল্লির বাইরে জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি পুরু প্রাচীরই হলো কোষপ্রাচীর।
মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। এখানেই শ্বসনের সকল কাজ সম্পন্ন হয়। আর এ শ্বসনের মাধ্যমেই জীবদেহে শক্তি উৎপন্ন হয়ে থাকে। জীবের যাবতীয় বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তি প্রয়োজন তার একমাত্র উৎস মাইটোকন্ড্রিয়া। এ জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!