জীবদেহের গঠন ও কাজের একক হলো কোষ।
প্লাস্টিড উদ্ভিদের এমন একটি উপাদান যা শুধু উদ্ভিদকে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য করে না এটি সব উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই প্লাস্টিডকে উদ্ভিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য বলা হয়।
উদ্দীপকের A হলো উদ্ভিদকোষ এবং B হলো প্রাণিকোষ। উদ্ভিদকোষ প্রাণিকোষ থেকে বেশ আলাদা। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্ভিদকোষে পুরু কোষপ্রাচীর থাকে কিন্তু প্রাণিকোষে কোনো কোষপ্রাচীর থাকে না। উদ্ভিদকোষে কোষ গহ্বর বিদ্যমান যা প্রাণিকোষে থাকে না। উদ্ভিদকোষে বিভিন্ন প্রকার প্লাস্টিড থাকে কিন্তু প্রাণিকোষে কোনো প্লাস্টিড থাকে না। সাধারণত উদ্ভিদকোষে সেন্ট্রোসোম থাকে না কিন্তু প্রাণিকোষে সর্বদা সেন্ট্রোসোম থাকে। অণুবীক্ষণযন্ত্রে গলজি বস্তুর উপস্থিতি কম দেখা গেলেও প্রাণিকোষে প্রায় গলজি বস্তু দেখা যায়। উদ্ভিদকোষের সঞ্চিত খাদ্য শ্বেতসার অপরদিকে প্রাণিকোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।
সুতরাং উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য উদ্ভিদকোষ প্রাণিকোষ থেকে বেশ আলাদা।
উদ্দীপকে B কোষ হলো প্রাণিকোষ। জীবে প্রাণিকোষের গুরুত্ব নিচে বর্ণনা করা হলো-
কোষ হচ্ছে টিস্যুর গঠনগত ও কার্যকরী একক। প্রাণিদেহে নানা ধরনের কোষ আছে যারা ভিন্ন ভিন্ন কাজে নিয়োজিত। যেমন-স্নায়ুকোষ দেহের যেকোনো অংশের উদ্দীপনা গ্রহণ করে আবার মস্তিষ্কের কোনো বার্তা শরীরের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছে দেয়। চোখের স্নায়ু কোষগুলো দেখতে এবং কানের স্নায়ুকোষগুলো শুনতে সাহায্য করে। প্রাণীর কাজকর্মে, হাঁটা-চলায় এবং নড়াচড়ায় পেশি কোষ। ব্যবহৃত হয়। লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা এ তিন ধরনের রক্তকোষ প্রাণীর দেহের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকে।
শরীরের ত্বকীয় কোষগুলো দেহের আবরণ দেওয়া ছাড়াও শরীরের অবস্থানভেদে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। অস্থিকোষ দেহে অস্থি অথবা কোমলাস্থি তৈরি করে দেহের দৃঢ়তা দিয়ে থাকে। তাছাড়াও দেহের আকার, গঠন, অস্থির বৃদ্ধি ইত্যাদিতে অস্থিকোষের অবদান উল্লেখযোগ্য।
Related Question
View Allরক্ত এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্যাদি (অক্সিজেন, খাদ্য, রেচন পদার্থ) দেহের একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবাহিত হয়।
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভিতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু বলে। আমাদের ত্বকের বাইরের আবরণ, মুখগহ্বরের ভিতরের আবরণ ইত্যাদি আবরণী টিস্যু দিয়ে গঠিত। দেহের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলোও আবরণী টিস্যু দিয়ে তৈরি।
উদ্দীপকের P চিত্রটি হলো মানুষের হাত। হাতের জন্য, অস্থির গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. অস্থি দ্বারাই হাতের কাঠামো গঠিত হয়।
২. অস্থির কারণেই হাত নির্দিষ্ট আকৃতি লাভ করে।
৩. অস্থির মাধ্যমেই হাত দেহের সাথে সংযুক্ত থাকে।
৪. হাতের পেশিগুলো অস্থির সাথে যুক্ত থেকে হাত সঞ্চালনে সহায়তা করে।
৫. অস্থি হাতের ভার বহন করে।
সুতরাং P চিত্রে অর্থাৎ হাতের জন্য অস্থির গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে P চিত্র দ্বারা ঐচ্ছিক পেশি এবং Q চিত্র দ্বারা অনৈচ্ছিক পেশিকে বুঝানো হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
১. ঐচ্ছিক পেশি আমরা ইচ্ছামতো সংকুচিত ও প্রসারিত করতে পারি। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশি আমরা ইচ্ছামতো সংকুচিত করতে পারি না।
২. ঐচ্ছিক পেশির সাহায্যে আমরা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারি। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশির সাহায্যে আমরা কোনো অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারি না।
৩. ঐচ্ছিক পেশি হাড়ের সাথে লেগে থেকে আমাদের অঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশি হাড়ের সাথে লেগে থাকে না।
৪. বহিঃত্বক, হাত, পা ইত্যাদি ঐচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। অন্যদিকে পাকস্থলী, হৃৎপিন্ড, যকৃৎ ইত্যাদি অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
উদ্ভিদকোষের ক্ষেত্রে কোষঝিল্লির বাইরে জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি পুরু প্রাচীরই হলো কোষপ্রাচীর।
মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। এখানেই শ্বসনের সকল কাজ সম্পন্ন হয়। আর এ শ্বসনের মাধ্যমেই জীবদেহে শক্তি উৎপন্ন হয়ে থাকে। জীবের যাবতীয় বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তি প্রয়োজন তার একমাত্র উৎস মাইটোকন্ড্রিয়া। এ জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!