নায়লার বান্ধবী জুলি ভোক্তা হিসেবে স্বার্থ রক্ষার জন্য ভোক্তার শিক্ষালাভের অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন যা যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করি।
প্রায়ই দেখা যায়, ক্রেতা বা ভোক্তারা নানাভাবে বিক্রেতার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। বেশিরভাগ বিক্রেতা ও উৎপাদনকারীরা জিনিসপত্রের বেশি ও অযৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করে এবং ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করে ভোক্তাদের প্রতারিত করছে।
ভোক্তা হিসেবে আমরা যেন স্বার্থ রক্ষা করতে পারি এবং প্রতারিত না হই সেজন্য আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। অর্থকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজন ভোক্তার শিক্ষালাভের অধিকার। ভোস্তার শিক্ষার অর্থ হলো সেই শিক্ষা যা ভোক্তাদের সঠিক দ্রব্যসামগ্রী বেছে নিতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। উন্নত অনেক দেশে ভোক্তার শিক্ষালাভে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে।
বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম যেমন- রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা ইত্যাদির মাধ্যমে ভোক্তাকে ঠকানোর বিষয়টি জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা যায়। দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দ্রব্যের গুণ ও মানের, তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ করে তার ফলাফল ভোক্তাদের জানাতে পারে। এভাবে ভোক্তা শিক্ষালাভ করে সচেতন হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
Related Question
View Allভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সাতটি মৌলিক অধিকার রয়েছে।
গৃহসামগ্রী ক্রয়ের আগে পরিকল্পনা করে না কিনলে বেশির ভাগ চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়।
কোন সামগ্রী কখন, কোন কাজের জন্য ও কোথা থেকে কেনা হবে, কেনার সামর্থ্য আছে কি না ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় এনে পরিকল্পনা করে কিনলে লাভবান হওয়া যায়।
জুস ক্রয়ে মুবীনা তার জানার অধিকার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারটি প্রয়োগ করেননি।
যেসব দ্রব্য ভোক্তা ক্রয় করে সেগুলোর সঠিক মূল্য কত, গুণগত মান কেমন, কী উপাদান দ্বারা তৈরি, ব্যবহারের নিয়ম, মেয়াদকাল ইত্যাদি সম্পর্কে তার জানার অধিকার থাকবে। এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রব্যের মোড়কের লেবেলে সব তথ্য থাকলে ভোক্তারা পণ্য যাচাই করে কিনতে পারে। মুবীনা মেয়াদকাল না দেখে জুসের প্যাকেট ক্রয় করেছেন। দ্রব্য ক্রয় করতে যে জানার অধিকার আছে তা তিনি প্রয়োগ করেননি। মুবীনা যদি জুসের মোড়কের লেবেল পড়ে দেখতেন তাহলে মেয়াদ উত্তীর্ণ জুস কিনতেন না। আবার কোনো দ্রব্য ও সেবা ব্যবহারে ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা দ্রব্যের মান সঠিক না হলে বিক্রেতা তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
এই অধিকারটিও মুবিনা প্রয়োগ করেননি।
ভোক্তা হিসেবে মুবীনা তার স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি। তাই বলা যায়, ভোক্তা হিসেবে তিনি নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়।
মুবীনা ক্যাশমেমো ছাড়া একটি ইস্ত্রি কেনেন এবং লেবেল না দেখে মেয়ের জন্য এক প্যাকেট জুস কেনেন। পরবর্তীতে দেখা যায় জুসের মেয়াদ পার হয়ে গেছে আর ইস্ত্রিটিও চালু হচ্ছে না।
মুবীনা ইস্ত্রিটি দোকানে নিয়ে গেলেন। কিন্তু দোকানদার ইস্ত্রিটি অন্য দোকান থেকে কেনা হয়েছে বলে সন্দেহ পোষণ করেন। মুবীনার মতো ক্রেতাদের অসচেতনতার সুযোগে বিক্রেতারা নানাভাবে তাদের প্রতারিত করে। এ ধরনের ক্রেতারা দ্রব্যের ভালো-মন্দ সম্পর্কে যেমন জানতে চান না তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তীতে বিক্রেতার নিকট থেকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায় সে সম্পর্কেও অসচেতন। কোনো দ্রব্য কেনার আগে যাচাই করতে হবে, মেয়াদকাল দেখতে হবে, ক্যাশমেমো সংগ্রহ করতে হবে। দ্রব্য ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে। তাহলেই ভোক্তা ও ক্রেতারা তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, মুবীনার মতো ভোক্তাদের অবশ্যই নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে পণ্য ক্রয় করা উচিত।
অর্থের বিনিময়ে গৃহসামগ্রী কেনা হয়।
ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার বলতে বোঝায় কোনো দ্রব্য বা সেবা ব্যবহারে ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা দ্রব্যের মান সঠিক না হলে বিক্রেতা তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। এজন্য ভোক্তাকে সচেতনভাবে ক্যাশমেমো সংগ্রহ করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!