একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে যা পাওয়া যায় তাই মাথাপিছু আয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিপ্রধান অর্থনীতি হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। দেশের রপ্তানি আয়ে কৃষিখাতের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। খাদ্যশস্য কৃষিখাতের অন্যতম প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রযুক্তির বিকাশকে কাজে লাগিয়ে কৃষিখাতকে উন্নত করতে পারলে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে। আর তাই আমাদের কৃষিখাতকে উন্নত করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে ব্যবসায়ী জুয়েলের কাজটি অর্থনীতির মোট জাতীয় উৎপাদনের মধ্যে পড়ে।
একটি দেশের নাগরিক নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) যেসব দ্রব ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট জাতীয় উৎপাদন। সুতরাং একটি দেশের নাগরিক নিজ দেশসহ বিশ্বের যেখানেই চাকরি বা ব্যবসা করুক না কেন যখন তাদের অর্জিত আয় দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয় তখন তা মোট জাতীয় উৎপাদন হিসাবে বিবেচিত হয়। জিএনপি হিসাব করা হয় একটি দেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক অবদান বোঝার জন্য। যেমন- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশে চাকরি বা ব্যবসা করে অর্জিত অর্থের যে পরিমাণ বৈধপথে বাংলাদেশে পাঠায় তা বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের অংশ হবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়ী জুয়েল দেশে বিদেশে ব্যবসায় পরিচালনা করে। সৌদি আরবে তার দুটি দোকান আছে। এভাবে সে অনেক টাকা উপার্জন করে। আর তার উপার্জিত টাকা দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়। তাই বলা যায়, জুয়েলের কাজটি অর্থনীতির জিএনপি সূচকের মধ্যে পড়ে।
উদ্দীপকে মহসিন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মহসিন তার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে ঈক্ষ করে তুলছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষিত করছে। যা জনগণকে মানব সম্পদে রূপান্তর করছে। রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে এমন মানুষই হলো মানব সম্পদ। শারীরিক শ্রম বা মেধা দিয়ে দেশের জন্য উৎপাদন বা সেবা দানে ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিবর্গ হলো মানবসম্পদ। তবে অদক্ষ মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলেই এ সম্পদের উন্নয়ন ঘটে। তাই অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তি সম্পন্ন বা মানব সম্পদে পরিণত করাই হচ্ছে মানব সম্পদের উন্নয়ন। উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বাসস্থান, চিকিৎসা ও খাদ্যের সংস্থানের মাধ্যমেই মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। আর মানব সম্পদের কর্মপ্রচেষ্টাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায়। মহসিন তার এলাকার মানুষের প্রশিক্ষণ দেওয়ায় তারা কাজে দক্ষ হয়ে উঠছে। আবার শিশুদেরকে শিক্ষিত করার মাধ্যমেও তারা মানবসম্পদে পরিণত হচ্ছে। তার এলাকার মানুষদের এ দক্ষতা ও শিক্ষা নিজ এলাকার পাশাপাশি পুরো দেশের উৎপাদন ও সেবা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। যা স্বাভাবিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্ব রাখে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মহসিনের কাজ অর্থাৎ মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়ে থাকে।
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছরে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মোট অর্থমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বা সামগ্রিক আয় বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) হলো একটি দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার অর্থমূল্যের যোগফল। এতে দেশের নাগরিকদের বিদেশে করা আয়ের যোগ হয় এবং বিদেশিদের দেশে করা আয় বাদ দেওয়া হয়।
মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের মোট জাতীয় আয়ের সাথে সে দেশের জনসংখ্যার ভাগফল। এটি দেশের নাগরিকদের গড় আয় বোঝায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে সাধারণত দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরিচায়ক হয়।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে শিল্প, সেবা এবং কৃষিখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়াও দারিদ্র্য দূরীকরণ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) সাধারণত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি ও আয়ের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ এবং দেশের অর্থনীতির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!