কোনো কাজ করার পর দৈহিক অবসাদের ফলে যে ক্লান্তি সৃষ্টি হয় তাই শারীরিক ক্লান্তি।
দেহভঙ্গি যেকোনো কায়িক কাজের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুষ্ঠু দেহভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করলে সময় ও শক্তির অপচয় হ্রাস করা যায় এবং সহজে ক্লান্তি আসে না। আরামদায়ক সুষ্ঠু দেহভঙ্গিতে কাজ করলে পেশির ওপর চাপ কম পড়ে, অধিক সময় কাজ করা যায়। তাই সময় ও শক্তি সংরক্ষণে সুষ্ঠু দেহভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে সময় তালিকা তৈরির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও এটি সীমিত। তাই সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়। সময় তালিকা তৈরিতে জেরিনকে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে তা হলো-
- যেকোনো কাজকে গুরুত্ব অনুসারে ধারাবাহিকভাবে সাজাতে হবে।
- জেরিন যে কাজগুলো করবে তার একটি তালিকা তৈরি করতে হবে।
- তাকে কাজের মাঝে বিশ্রামের সুযোগ রাখতে হবে।
- তার সময় তালিকাটি সহজ-সরল হতে হবে।
- জেরিন সময়কে এমনভাবে বিন্যাস করবে যেন নির্ধারিত সময়ের "মধ্যে কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
- সামগ্রিক, সুষ্ঠু ও সম্পূর্ণ সময় তালিকা তৈরি করতে হবে।
- তার দৈনন্দিন ও সাপ্তাহিক কাজের একটি হিসাব রাখতে হবে।
- সময় পরিকল্পনা তৈরি করার পর জেরিনকে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
- সময় তালিকা অনুযায়ী কাজগুলো ঠিকমতো হয়েছে কি না তা মূল্যায়ন করতে হবে।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে জেরিন তার সময় তালিকা তৈরি করবে।
জেরিনের মতো যেকোনো ছাত্রীই জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারে, আমি এর সাথে একমত।
সময় অন্যতম মানবীয় সম্পদ। এ সম্পদটি সবার জন্য সমান। কোনো অবস্থায় একে বাড়ানো বা কমানো যায় না। তাই এ সীমিত সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহার করা দরকার। সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন। সময় ব্যবস্থাপনার অন্যতম একটি উপায় হলো সময় তালিকা তৈরি। জেরিন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সে একটি সময় তালিকা তৈরি করে। সময় তালিকা অনুযায়ী কাজ করলে সময়মতো কাজ করার অভ্যাস গড়ে ওঠে। ফলে জেরিনের সময় অপচয় করার প্রবণতা কমে যাবে। করণীয় কাজ সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা হবে। অর্থাৎ, কোন কাজ একান্ত প্রয়োজন, আর কোন কাজ প্রয়োজনে বাদ দেওয়া যায় তা সে বুঝতে পারবে। সময় তালিকায় কাজের সময় নির্ধারিত থাকে বলে নির্ধারিত সময়ে জেরিন তার কাজগুলো করতে পারবে। এছাড়া তার কাজে দক্ষতা ও গতিশীলতা বাড়বে। সময় তালিকায় কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম ও অবসর-বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর ফলে সে ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে কাজ করতে পারবে। কাজের প্রতি তার সচেতনতা বাড়বে। ছাত্রজীবন থেকেই সময় তালিকা অনুসরণ করার অভ্যাস করা উচিত। এতে মূল্যবান সময়ের অপচয় হবে না। যেকোনো কাজে সফলতা অর্জন করা যাবে। সুতরাং, জেরিনের মতো যেকোনো ছাত্রীই যদি সময় তালিকার মাধ্যমে কাজ করে; তাহলে সময়ের সদ্ব্যবহার করে জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারবে।
Related Question
View Allপ্রকৃত আয় পরিবারের নির্দিষ্ট সময়ে ভোগ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম দ্বারা গঠিত। প্রকৃত আয় বাড়ানোর উপায়গুলো হলো-
যখন বিভিন্ন দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হ্রাসকৃত মূল্যে দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করে তখন সেগুলো কেনা। পরিচিত ব্যক্তি যেমন- চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী ইত্যাদি পেশার ব্যক্তির কাছ থেকে পরিবার স্বল্প মূল্যে বা বিনামূল্যে সেবা লাভ করে আয় বাড়াতে পারে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেও প্রকৃত আয় বাড়ানো যায়। যেমন: সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ।
কাজ ও সময়কে ভিত্তি করে যে পরিকল্পনা করা হয় তাই সময় তালিকা।
মিতা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় প্রায়ই তার কলেজে যেতে দেরি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সে টিভি দেখে। পরীক্ষায় সে ভালো ফলাফল করতে পারে না। এই সমস্যা দূর করতে মিতার সময় তালিকা অনুসরণ করা উচিত।
মিতার জন্য কলেজ খোলার দিনের একটি সময় তালিকা উল্লেখ করা হলো-
| সময় | কার্য বিবরণী | সময়ের পরিমাণ | |
| ঘণ্টা | মিনিট | ||
| ৬.০০-৭.০০ | ঘুম থেকে ওঠা, বিছানা গোছানো, হাতমুখ ধোয়া, ধর্মীয় কাজ করা, নিজস্ব কোনো কাজ করা। | ১ | ০০ |
| ৭.০০-৭.৩০ | নাস্তা তৈরিতে সাহায্য করা, নাস্তা খাওয়া। | ০ | ৩০ |
| ৭.৩০-৯.০০ | পড়াশোনা করা | ১ | ৩০ |
| ৯.০০-১০.৩০ | টিউটর থাকলে পড়া/লেখাপড়া করা। | ১ | ৩০ |
| ১০.৩০-১১.০০ | গোসল করা, খাওয়া, কলেজের জন্য তৈরি হওয়া। | ০ | ৩০ |
| ১১.০০-০৪.৩০ | শ্রেণিকক্ষে অবস্থান, পাঠে মনোযোগ দেওয়া। | ৫ | ৩০ |
| ৪.৩০-৫.০০ | বাসায় পৌছানো, নামাজ পড়া। | ০ | ৩০ |
| সময় | কার্য বিবরণী | সময়ের পরিমাণ | |
| ঘণ্টা |
মিনিট | ||
| ৫.০০-৬.৩০ | বিশ্রাম ও হালকা নাস্তা খাওয়া, বাড়ির কাজে সাহায্য করা। | ১ | ৩০ |
| ৬.৩০-৭.০০ | নামাজ পড়া। | ০ | ৩০ |
| ৭.০০-১০.৩০ | পড়াশোনা করা। | ৩ | ৩০ |
| ১০.৩০-১১.১০ | নামাজ পড়া, খাওয়া | ০ | ৪০ |
| ১১.১০-১১.২০ | দাঁত ব্রাশ করা, ঘুমের জন্য তৈরি হওয়া। | ০ | ১০ |
| ১১.২০-৬.০০ | ঘুমানো। | ৬ | ৪০ |
| মোট সময় | ২৪ ঘণ্টা | ০০ | |
কাজ সহজকরণের উপায় হলো কাজকে সহজ উপায়ে সম্পাদন করা।
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সময় ও শক্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো কাজ সহজে সম্পন্ন করার পদ্ধতিই হলো কাজ সহজকরণ পদ্ধতি।
-সহজকরণ পদ্ধতি অবলম্বন করে কাজ করলে সমস্যায় পড়তে হয় না। যেমন- কাজের সময় দুই হাত ব্যবহার করা, সঠিক দেহভঙ্গি নিয়ে
কাজ করা, যেকোনো কাজ করার সময় কাজের ধারা সম্পর্কে ধারণা থাকা, ভারি কাজের পর হালকা কাজ করা ইত্যাদি। কাজের সরঞ্জাম সরল ও মজবুত হতে হবে। কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন এনেও কাজ সহজ করা যায়। যেমন- শাকসবজি একবারে ধুয়ে কাটার পর পাত্রে রাখা, যেন অন্য পাত্রে রাখার প্রয়োজন না হয়। উৎপাদিত দ্রব্য পরিবর্তন করেও সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। যেমন- গৃহিণী টেবিল ক্লথের পরিবর্তে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ধোয়ার জন্য সময় ও শক্তি ব্যয় হবে না। এছাড়া গৃহস্থালির কাজ সহজ ও সংক্ষেপে করার জন্য অনেক নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার হচ্ছে যা সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। যেমন- ওয়াশিং মেশিন, প্রেসার কুকার ইত্যাদি।
সুতরাং, কাজ সহজকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে সময় ও শক্তি দুটোই সংরক্ষণ সম্ভব। মিতার বাবার এই উক্তিটি যথার্থ।
কোনো একটি কাজ সম্পূর্ণভাবে করার জন্য কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনাই প্রসেস চার্ট।
কাজ সহজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়।
ব্যবহৃত দ্রব্যের পরিবর্তন করেও সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। যেমন- খাবার টেবিলে কাপড়ের টেবিল ক্লথ ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের টেবিল ক্লথের উপর টেবিল ম্যাট ব্যবহার করলে গৃহ ব্যবস্থাপকের পরিশ্রম কম হয়, সহজেই টেবিল পরিষ্কার করা যায়। এতে সময় ও শক্তি ব্যয় কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!