কবি জসীমউদ্দীন ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
গ্রামবাংলার ঐশ্বর্যকে তুলে ধরতেই কবি তাঁর বন্ধুকে তাঁর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গ্রামবাংলার প্রকৃতি অপরূপ সৌন্দর্যের আধার। সেখানকার মানুষের সহজসরল জীবনযাপন ও আন্তরিকতা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। অতিথি আপ্যায়নেও তাদের জুড়ি মেলা ভার। কবির বিশ্বাস, সেখানকার সবুজ-শ্যামল-নির্মল পরিবেশ প্রাণ জুড়ায়। পল্লিগ্রামের এই ঐশ্বর্যকে দেখার জন্যই কবি তাঁর বন্ধুকে তাঁর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উদ্দীপকটি 'আমার বাড়ি' কবিতার অতিথি আপ্যায়নের দিকটিকে সমর্থন করে।
'আমার বাড়ি' কবিতায় কবি গ্রামবাংলার অতিথি আপ্যায়নের দিকটির অবতারণা করেছেন। এরই সূত্র ধরে তিনি তাঁর বন্ধুকে ভ্রমর সম্বোধন করে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এ কবিতায় কবি অভিনব পন্থায় তাঁর অতিথিকে আপ্যায়ন করতে চান।
উদ্দীপকের কবিতাংশে আলোচ্য কবিতার মতোই অতিথি আপ্যায়নের প্রসঙ্গটি উপস্থাপিত হয়েছে। সেখানেও কবি নানা অভিনব উপায়ে তাঁর অতিথিকে আপ্যায়ন করতে চান। আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপক উভয় স্থলেই দেখা যায়, প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ অতিথিসেবায় নিয়োজিত হবে। কবিতায় যেখানে শালি ধানের চিড়া, বিন্নি ধানের খই, কবরী কলা ও গামছা-বাঁধা দই দিয়ে আপ্যায়নের কথা বলা হয়েছে, সেখানে উদ্দীপকটিতে নাশতা শেষে মিষ্টি, সাঁচি পান, সরষে ফুলের মধু দিয়ে আপ্যায়নের কথা বলা হয়েছে। কবিতায় অতিথির ঘুম ভাঙবে গাই দোহনের শব্দ শুনে। উদ্দীপকেও পাখির কলতানমুখর সকালের উল্লেখ রয়েছে। এভাবে উদ্দীপকটি 'আমার বাড়ি' কবিতার নৈসর্গিক পরিবেশে অতিথি আপ্যায়নের বক্তব্যকে সমর্থন করে।
আলোচ্য কবিতায় অতিথি আপ্যায়নের উদ্দেশ্য ও উপকরণগত নানা দিক উদ্দীপকটিতে অনুপস্থিত।
'আমার বাড়ি' কবিতায় কবি তাঁর বন্ধুকে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়াতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রাম বাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে কবি তাঁর অতিথিকে আপ্যায়ন করতে চান। কবি মনে করেন, গ্রামীণ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য অতিথিকে বিমোহিত করবে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, গ্রাম বাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও নানা উপকরণ অতিথিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। উদ্দীপকের কবি অতিথিকে জোছনামাখা রাত, স্বপ্নভরা ঘুমের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, রোদ্রোজ্জ্বল সোনামোড়া সকাল ও পাখির কলতান তাঁর প্রিয়জনকে মুগ্ধ করবে। তাকে নাশতা, মিষ্টি সাঁচি পান ও সরষে ফুলের মধু দিয়ে আপ্যায়নের জন্য তিনি অপেক্ষমাণ।
'আমার বাড়ি' কবিতায় কবি গ্রাম বাংলার অপার সৌন্দর্য, সহজসরল জীবনযাপন এবং অতিথি আপ্যায়নের ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন। এর সূত্র ধরে তিনি তাঁর অতিথিকে আপ্যায়ন করতে চান শালি ধানের চিড়া, বিরি ধানের খই, কবরী কলা এবং গামছা-বাঁধা দই দিয়ে। কবি মনে করেন, অতিথি আপ্যায়নের এ আয়োজনে মানুষের পাশাপাশি সমগ্র প্রকৃতিও তাতে শামিল হবে। গ্রাম বাংলার মৌরি ফুলের সুবাস, ডালিম ফুলের হাসি, চাঁদের আভা, ফুলের মালা সবকিছুই অতিথিকে সম্ভাষণ জানাতে উদ্গ্রীব হয়ে আছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে এসব দিক অনুপস্থিত।
Related Question
View All'আমার বাড়ি' কবিতায় কাজলা দিঘির কাজল জলে হাঁস ভাসে।
'আমার বাড়ি' কবিতার কবি তাঁর বাড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ ও আন্তরিক আপ্যায়ন গ্রহণের জন্য বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
কবির বাড়ির চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। এখানে বেড়াতে এলে তা দেখে কবির বন্ধুর প্রাণ জুড়াবে। এর পাশাপাশি কবি তাঁর বন্ধুকে নানাভাবে আপ্যায়ন করবেন। এই নিবিড় আতিথেয়তা গ্রহণের জন্যই কবি তাঁর বন্ধুকে বাড়িতে আসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
উদ্দীপকের প্রথম চরণের সাথে 'আমার বাড়ি' কবিতায় উল্লিখিত নিজ বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টির মিল রয়েছে।
পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত 'আমার বাড়ি' কবিতার প্রথম অংশে কবি তাঁর নিজের বাড়িতে বেড়াতে আসার জন্য কোনো এক বন্ধুর প্রতি উদার আহ্বান জানিয়েছেন। কবি বন্ধুকে আন্তরিকতার সাথে আপ্যায়ন করতে চান। সেই সাথে তাঁর গাঁয়ের মায়াভরা প্রকৃতির শোভা উপভোগের মধ্য দিয়ে আনন্দ দিতে চান।
উদ্দীপকের কবিতাংশের প্রথম চরণে কবি আগ্রহভরে তাঁর বন্ধুকে একটি প্রশ্ন করেছেন। তিনি জানতে চান বন্ধু তাঁর গাঁয়ে বেড়াতে যাবেন কি না। 'আমার বাড়ি' কবিতার কবিও তাঁর বন্ধুকে নিজের গ্রামের বাড়িতে আসার কথা বলেছেন। অর্থাৎ কবিতায় কবি তাঁর বন্ধুকে নিমন্ত্রণ জানানো অংশের সাথে উদ্দীপকের মিল রয়েছে।
অতিথিকে ভালোবাসার মাধ্যমে সৌজন্য, শিষ্টাচার ও মানবপ্রেমের বহিঃপ্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'আমার বাড়ি' কবিতার ভাবার্থ এক।
'আমার বাড়ি' কবিতায় কবি তাঁর বাড়ি আসার জন্য প্রিয় বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বন্ধু এলে তার জন্য তিনি নানা ধরনের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করবেন। বন্ধুর কাছে তিনি তাঁর বাড়ির চারপাশের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চিত্র তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে বন্ধুকে তিনি তাঁর বাড়িতে বেড়াতে আসার ব্যাপারে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি তাঁর বন্ধুকে নিজ গাঁয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বন্ধুকে বেড়াতে আসার ব্যাপারে উৎসাহী করতে গ্রামের মায়াভরা প্রকৃতির কথা তুলে ধরেছেন। সেই সাথে গ্রামের মানুষের সহজসরল জীবনযাপন ও ভালোবাসার আধিক্যের কথাও বলেছেন। এর মাধ্যমে বন্ধুকে তার গাঁয়ে ভ্রমণের প্রতি আকৃষ্ট করতে চেয়েছেন।
আপনজনকে নিজ বাসস্থানে আমন্ত্রণ জানানোর আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে 'আমার বাড়ি' কবিতা ও উদ্দীপকের কবিতাংশে। উভয়ক্ষেত্রেই বন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বন্ধু যেন অতিথি হয়ে আসে সেটি নিশ্চিত করতে দুজনই সচেষ্ট। বাঙালি বরাবরই অতিথিপরায়ণ। এ দিকটির বিবেচনায় আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপকের কবিতাংশের ভাবার্থ এক ও অভিন্ন।
'আমার বাড়ি' কবিতাটি 'হাসু' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
কবি আন্তরিকতার সাথে অতিথিকে আপ্যায়ন করতে চান।
কবি তাঁর প্রিয়জন বা বন্ধুকে গ্রামের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছেন। তিনি হেমন্তকালে উৎপন্ন শালি ধানের চিড়া দিয়ে অতিথিকে আপ্যায়ন করতে চান। বিন্নি ধানের খই খাওয়াতে চান। স্বাদের জন্য বিখ্যাত কবরী কলা, গামছা-বাঁধা দই দিয়ে অতিথির মুখরঞ্জন করতে চান। অতিথির বিশ্রাম ও আনন্দের জন্যও কবির আন্তরিক প্রয়াস আমরা অবলোকন করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

