হযরত আবদুল কাদির জিলানি (র.) 'বড়পীর'।
দেহ ও অন্তরকে পবিত্র করার সাধনাই তাসাউফ। তাসাউফ تُصَوُّف শব্দটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল। সাধারণত এটিকে صُونٌ (সুফ) মূলধাতু থেকে উদ্ভূত। 'সুফ' অর্থ পশম বা Wool। কাজেই তাসাউফর শাব্দিক অর্থ হলো অভ্যস্থরূপে পশমি পোশাক পরিধান করা। যারা পশমি পোশাক পরিধান করেন তাদের বলা হয় সুফি। ইমাম গাযযালি (র)-এর মতে আল্লাহ ছাড়া অপর মন্দ সবকিছু থেকে আত্মাকে পবিত্র করে সর্বদা আল্লাহর আরাধনায়, নিমজ্জিত থাকা এবং সম্পূর্ণরূপে আল্লাহতে নিমগ্ন হওয়ার নামই তাসাউফ।
জয়নাল সাহেব তাসাউফের মাধ্যমে তার আত্মাকে পূত-পবিত্র রাখতে পারেন। তাসাউফ শব্দের অর্থ অভ্যস্থরূপে পশমি পোশাক পরিধান করা। মানুষের অন্তরে বিদ্যমান বিভিন্ন পাশবিক প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করে আত্মাকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করে তোলার সাধনা হলো তাসাউফ। উদ্দীপকে এরই প্রতিফলন লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের জয়নাল সাহেব আত্মাকে যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে পূত পবিত্র ও কলুষমুক্ত রাখার শিক্ষা অর্জন করেন। বস্তুত তাসাউফ ইসলামি শরিয়তের অভ্যন্তরীণ দিক। সব নবি-রাসুল তাসাউফের চর্চা করেছেন। আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। এরপর তার সাহাবিগণও গভীর রাতে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন হয়ে তার প্রেমাচ্ছানে ব্রতী হতেন। তাসাউফ অর্থ শুধু ধ্যানে নিমগ্ন থাকা নয়। এটি মূলত আত্মশুদ্ধি অর্জনের পথ বা সোপান। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আধ্যাত্মিক ধ্যান ও জ্ঞানের মাধ্যমে জানার প্রচেষ্টা এবং নিজেকে যাবতীয় পাপাচার থেকে পূত পবিত্র রাখার নামই তাসাউফ। আর জয়নাল সাহেব এর মাধ্যমেই আত্মাকে পূত পবিত্র রাখতে পারেন।
সুফি সাধনা ইসলামি শরিয়তেরই একটা অংশ জয়নাল সাহেবের এমন অনুধাবন যথার্থ। ইসলামের প্রতিটি বিধানের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে। ইসলামের বাহ্যিক দিক হচ্ছে শরিয়ত এবং অভ্যন্তরীণ দিক হচ্ছে তাসাউফ। সব নবি-রাসুল দিনের বেলায় ইসলাম প্রচার করতেন এবং গভীর রাতে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হতেন। আল্লাহর প্রেমে বিলীন হয়ে পরম প্রশান্তি লাভ করার চেষ্টা করতেন। উদ্দীপকে এ দুটি দিকের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে জয়নাল সাহেব সুফি সাধনা যে ইসলামি শরিয়তের অংশ এ বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। বস্তুত ইসলাম মানবজীবনের সব দিক ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। সেজন্য ইসলামের সব বিধিবিধানও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাসাউফ ও শরিয়ত ইসলামি বিধানাবলির প্রধান দুটি দিক। তাসাউফ মানুষের আত্মা পরিশোধনের বিধান। শরিয়ত নিয়ন্ত্রণ করে তাদের বাহ্যিক দিক। শরিয়ত অর্থ বিধান, চলার পথ, জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়কালে আল্লাহ তায়ালা অবশ্য পালনীয় যে বিধানাবলি দিয়েছেন তাই শরিয়ত। শরিয়ত ও তাসাউফ মূলত একই বিধানের দুটি ধারী। ইসলামি বিধানের এটা হলো দুটি পর্যায়। এ হিসেবে শরিয়ত ও তাসাউফের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। হযরত হাসান বসরি (র) শরিয়ত ও তাসাউফকে জ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন দুটো ধারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, 'ইলম দু প্রকার: এক প্রকার হলো অন্তরের ইলম। এ ইলম মহা উপকারী।
আর দ্বিতীয় প্রকার ইলম হলো মৌখিক। এ প্রকার ইলম মানবজাতির জন্য আল্লাহর দলিল।' এখানে হযরত হাসান বসরি (র)-এর বিবেচনায় তাসাউফ অন্তরের এবং শরিয়ত মৌখিক জ্ঞান হিসেবে অভিহিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, তাসাউফের যাত্রা শরিয়তের সাথে। এটি ইসলামের অবিভাজ্য দিক। একদিকে বাদ দিয়ে অপরটিকে কল্পনা করা যায় না।
Related Question
View Allঅর্থের সাথে সম্পর্ক থাকায় হজ সর্বজনীন ইবাদত নয়। হজ একটি দৈহিক, আত্মিক ও আর্থিক ইবাদত। নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষেই কেবল হজ কোনো ব্যক্তির ওপর ফরজ হয়। এক্ষেত্রে দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য প্রধান দুটি শর্ত। কিন্তু এই পৃথিবীতে সবার একই সাথে দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য না থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই যাদের ক্ষেত্রে এ দুটি শর্ত পূরণ হয় কেবল তাদের জন্যই হজ ফরজ।
জাউদ্দীপকে সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সালাত একটি আনুষ্ঠানিক ও দৈহিক ইবাদত। তবে সালাতের মূল আবেদন আত্মিক ইবাদত হিসেবে। সালাত মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টি করে। এটি সালাতের আধ্যাত্মিক গুরত্বেরই প্রতিফলন। উদ্দীপকেও রবিউল আলম সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের ফলভোগী হয়েছেন।
রবিউল আলম কিছুদিন পূর্বেও ধর্ম-কর্মে মনোযোগী ছিলেন না। তার আত্মা ছিল কলুষিত। কিন্তু সালাত আদায় করার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সালাতের মাধ্যমে মানবাত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে। কাঙ্ক্ষিত প্রিয় সত্তার সান্নিধ্য লাভ করায় আত্মার উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা দূর হয়ে যায়। তার মধ্যে প্রশান্তি বিরাজ করে। ফলে আত্মার সার্বিক অবস্থানে স্থিরতা ও তৃপ্তি নেমে আসে। উদ্দীপকের রবিউল আলমের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে। সালাত আদায়ের মাধ্যমে তার কলুষিত আত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করেছে। সুতরাং দেখা যায়, রবিউল আলমের আত্মিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সালাতের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যই প্রতিফলিত হয়েছে।
রবিউল আলম আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সালাত আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহর জিকর, তাবলিগ, সৎ গুণাবলির অনুসরণ, তওবা ও মাগফিরাত কামনা করতে পারেন।
মানুষের চালিকাশক্তি ও জীবনীশক্তি হলো আত্মা। আত্মা সুস্থ থাকলে মানুষও সুস্থ থাকে। আর আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও সুস্থ রাখার জন্য তাসাউফের অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকের রবিউল আলমও তাসাউফের চর্চা সাধানার মাধ্যমে পরিপূর্ণ আত্মিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন।
রবিউল আলম নিয়মিত সালাত আদায় করেন। আত্মাকে সুস্থ রাখতে তিনি সালাত আদায়ের সাথে সাথে বেশি করে আল্লাহর জিকর করতে পারেন। আবার নিজে সৎ পথে চলার পাশাপাশি তিনি অন্যকেও সৎ কাজের জন্য উৎসাহিত করতে পারেন। এর ফলে তার আত্মা সুস্থ ও পবিত্র থাকবে। তাছাড়া তিনি রাসুলুল্লাহ (স) ও তার সাহাবি (রা) গণের জীবনের সৎগুণাবলির অনুসরণের মাধ্যমেও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন। তবে তিনি যেহেতু পূর্বে অনেক অন্যায় করেছেন, সেহেতু সব সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। তওবার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যায় না করার দৃঢ় প্রত্যয় জ্ঞাপন করলে তার আত্মা আরও প্রশান্তি লাভ করবে।
এভাবে ওপরের কাজগুলোর মাধ্যমে তিনি আত্মিকভাবে লাভবান হতে পারেন। পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত বিষয়গুলো তাসাউফ চর্চারই নামান্তর। তাই তাসাউফ চর্চা ও সাধনার মাধ্যমেই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব।
হযরত উমর (রা) এর মৃত্যুর পর তার কন্যা হযরত হাফসা (রা)-এর কাছে আল কুরআন সংরক্ষিত ছিল।
পরকালীন জীবনের মতো পার্থিব জীবনের ওপরও আল কুরআন গুরুত্বারোপ করেছে। মহানবি (স) বলেছেন, 'দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র'। অর্থাৎ পার্থিব জীবনের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই পরকালীন সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে। তাই কুরআন মানুষকে পার্থিব সাফল্য ও কল্যাণ লাভের নির্দেশ প্রদান করেছে। সুরা বাকারার ২০১নং আয়াতে বলা হয়েছে- হে আমাদের প্রভু। আমাদেরকে পৃথিবীতে কল্যাণ দিন। আখিরাতে কল্যাণ দিন।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!