সুন্দরকে জানার যে জ্ঞান তার নাম 'নন্দনতত্ত্ব'।
প্রয়োজন আর অপ্রয়োজন মিলে মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।
মানুষ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নানা ধরনের জিনিস ব্যবহার করে। আর যেগুলো মানুষ ব্যবহার করে সেগুলো যদি প্রয়োজন মেটানোর পরে সৌন্দর্যের দিকটি প্রকাশ করে, তাহলে তা মানুষের কাছে আরও ভালো লাগার হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে সৌন্দর্যের দিকটিই তখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রয়োজন মানুষের শরীরকে তৃপ্তি দেয়, আর সৌন্দর্য মানুষের মনকে তৃপ্তি দেয়। সুতরাং প্রয়োজন আর অপ্রয়োজন মিলে মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।
উদ্দীপকের শিল্পকর্মটি 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনার শিল্পের সৌন্দর্যের দিকটি নির্দেশ করে।
সৌন্দর্য একটি আপেক্ষিক বিষয়। একজনের কাছে যে বস্তু সুন্দর, অন্যজনের কাছে তা সুন্দর নয়। সৌন্দর্য থাকে সবার মনে। আর এই জন্যেই কোনো বিষয়ে আমরা হঠাৎ করে সুন্দর-অসুন্দরের সিদ্ধান্তে আসতে পারি না।
উদ্দীপকে শিল্পী আমিনুর রহমানের শিল্প ও শিল্পের সৌন্দর্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। তার শিল্পকর্মে একসাথে ফুটে উঠেছে জাতীয় চেতনা এবং শৈল্পিক সৌন্দর্য। 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনায় শিল্প ও শিল্পের সৌন্দর্যের দিকটি বর্ণনা করা হয়েছে। সেই সাথে সৌন্দর্যের সাথে মানুষের মনের সম্পর্কের দিকটিও উপস্থাপিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিল্পকর্মটি 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনার শিল্পের সৌন্দর্যের দিকটি নির্দেশ করে।
উদ্দীপকটিতে 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনার সামগ্রিক দিক প্রতিফলিত হয়নি- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শিল্প মানুষের মনের চাহিদা পূরণ করে মানুষকে ভেতর থেকে সমৃদ্ধ করে।
উদ্দীপকে আমিনুর রহমানের তৈরি স্বাধীনতা মঞ্চের কথা বলা হয়েছে। তার নকশায় শিল্প ও স্বাধীনতার চেতনা দুই-ই প্রকাশ পেয়েছে। 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনায় শিল্পের বিভিন্ন দিক ও শ্রেণিভিত্তিক আলোচনা দেখা যায়। শিল্পের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কেও বলা হয়েছে রচনায়। এছাড়াও মানুষের মনের এবং আত্মার চাহিদার সাথে শিল্পের সম্পর্কের দিকটিও প্রকাশ পেয়েছে রচনায়।
উদ্দীপকে শুধু স্বাধীনতা মঞ্চের শৈল্পিক সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনায় শিল্পের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনার সামগ্রিক দিক প্রতিফলিত হয়নি।
Related Question
View Allমুস্তাফা মনোয়ার ঝিনাইদহ জেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রয়োজন এবং অপ্রয়োজন মিলেই সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে, মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।
আমরা আমাদের মনের চাহিদামাফিক জিনিসটি সুন্দর হিসেবেও পেতে চাই। সামান্য কাঁথা যেটি আমরা ব্যবহার করে থাকি, তা যদি নানা রকম নকশা তুলে নকশিকাঁথায় রূপান্তরিত করা হয় তখন এটির সৌন্দর্যের দিকেই আমরা বেশি মনোযোগী হই, প্রয়োজনের কথা মনেই থাকে না। প্রয়োজন শরীরকে তৃপ্ত করে, আর সৌন্দর্য তৃপ্ত করে আমাদের মনকে। এভাবেই প্রয়োজন আর অপ্রয়োজন মিলেই মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।
ক্যাম্পাসে মেহেরুন্নেসা শিল্পকলার ভাস্কর্যের দিকটি দেখছেন। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, সংগীত, নৃত্য, কবিতা সবকিছুর মধ্য দিয়েই সুন্দরকে প্রকাশ করা হয়। আর এই মাধ্যমগুলোই বিভিন্ন আঙ্গিকের শিল্পকলা।
উদ্দীপকে বর্ণিত মেহেরুন্নেসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে বান্ধবীদের সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে 'সংশপ্তক' ভাস্কর্য দেখতে পান। 'সংশপ্তক' অর্থ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে সামনে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করেই সংশপ্তক নির্মিত হয়েছে। মুস্তাফা মনোয়ার 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে এ ধরনের ভাস্কর্যের কথা বলেছেন। তিনি আমাদের দেশের বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্যের কথা বলেছেন। যেমন- শক্ত পাথর কেটে বানানো, গলিত মেলেট দিয়ে বানানো ও পোড়া মাটির ভাস্কর্য ইত্যাদি। উদ্দীপকের মেহেরুন্নেসা তেমনই একটি ভাষ্কর্য দেখেছেন, যার নাম সংশপ্তক।
"মেহেরুন্নেসার দেখা সংশপ্তকই শিল্পকলার প্রধান দিক"-মন্তব্যটি যথার্থ।
ভাস্কর্য শিল্পকলার একটি প্রধান দিক। ভাস্কর্য একটি দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে। বর্তমানে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে।
'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে লেখক মানুষের মনের সৌন্দর্য প্রকাশ করার বিভিন্ন মাধ্যমের কথা বলেছেন। এই মাধ্যমগুলোর একটি হচ্ছে ভাস্কর্য তৈরি। এক ধরনের ছাঁচ বানিয়ে গলিত মেটাল ঢেলে গড়ন বানানো, এই ধরনের কাজকে বলে ভাস্কর্য। আমাদের দেশে পোড়ামাটির ভাস্কর্য খুব প্রসিদ্ধ ছিল। সব শিল্পকলার মূল বস্তুর সমন্বয়ে তৈরি হয় এ ভাস্কর্য। এ জন্য ভাস্কর্য এত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে শিল্পকলার অন্যতম প্রধান এই দিকটিরই ইঙ্গিত করা হয়েছে। মেহেরুন্নেসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য 'সংশপ্তক' প্রত্যক্ষ করেন; যা 'শিল্পকলার নানাদিক' প্রবন্ধে বর্ণিত শিল্পকলার প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকের মেহেরুন্নেসার দেখা 'সংশপ্তক' একটি ভাস্কর্য। 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনায় যে শিল্পের কথা গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছেন লেখক। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'পুরাকাল' শব্দের অর্থ প্রাচীনকাল বা অনেক আগেকার সময়।
জগতের সৌন্দর্যের আনন্দ-ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশ ও মানুষ। সম্পর্কে জানার জন্য শিল্পকলা চর্চা সকলের পক্ষে অপরিহার্য।
ভুবনে যে আনন্দধারা প্রবাহিত হচ্ছে তাতে শিল্পকলার মূল সত্যটি প্রকাশিত। সব মানুষই জীবনের এ আনন্দকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। কারণ আনন্দ প্রকাশ মানুষের জীবনীশক্তির প্রবলতারই প্রকাশ। এছাড়াও দেশ ও দেশের মানুষকে জানা যায় শিল্পকলার চর্চা দেখে। এ বিবেচনায় শিল্পকলা চর্চা সকলের পক্ষে অপরিহার্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!