জয়িতা শবাসন অনুশীলনের মাধ্যমে পড়ালেখায় মনোযোগী হয়েছে।
শবাসন অনুশীলন পদ্ধতিতে প্রথমে মাটিতে চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি লম্বা করে দিতে হবে। পা দুটোর মধ্যে প্রায় এক ফুটের মতো ফাঁকা থাকবে। এবং হাত দুটোকে লম্বালম্বিভাবে শরীরের দু পাশে উরু থেকে একটু দূরে রাখতে হবে। হাতের পাতা উপরের দিকে খোলা থাকবে। চোখ বন্ধ, ঘাড় সোজা, গোটা শরীর শিথিল অবস্থায় থাকবে। এবার ধীরে ধীরে চার পাঁচ বার লম্বা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করতে হবে। দৈনিক যোগাভ্যাসে কঠিন আসন করার পর বিশ্রামের জন্য এ আসন ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত করা উচিত। এছাড়া আলাদাভাবে অন্তত ১৫ মিনিট শবাসন করা প্রয়োজন।
Related Question
View Allযোগ শব্দটি 'যজ্' ধাতু থেকে এসেছে।
স্থির বা সুখাবহ অবস্থিতির নামই হচ্ছে আসন। যোগ অভ্যাস করার জন্য যেভাবে শরীরকে রাখলে শরীর স্থির থাকে অথচ কোনো কষ্টের কারণ ঘটে না, তাকে যোগাসন বলে।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের জয়িতা শবাসন অনুশীলনের মাধ্যমে বেশি উপকৃত হবে। কারণ শরীর শিথিলকরণ বা বিশ্রামের জন্য শবাসন যোগসাধনার একটি উপযুক্ত আসন। এতে জয়িতার সম্পূর্ণ শরীর সুস্থবোধ হবে, স্নায়ুমণ্ডলী ও শিরা উপশিরাগুলো সম্পূর্ণ বিশ্রাম পাবে, শরীর ও মনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হবে। ফলে শরীর, মন-মস্তিষ্ক। এবং আত্মা পূর্ণ বিশ্রাম, শক্তি, উৎসাহ ও আনন্দ লাভ হবে।
মানসিক টেনশন, বেশি বা কম রক্ত চাপ, হৃদরোগ, পেটে গ্যাস, ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগ উপশম হবে। আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার পীড়নে জয়িতার যদি স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে থাকে তাহলে উক্ত আসন প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। আর রাত জেগে পড়াশুনা মানে অনিদ্রার ক্ষেত্রে উক্ত আসন মন্ত্রের ন্যায় কাজ করবে। তাতে জয়িতার অনিদ্রা দূর হবে এবং পড়াশুনায় মনোযোগ আসবে।
যোগাসন হচ্ছে দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার একটি উৎকৃষ্ট প্রক্রিয়া।
প্রাচীনকালের ঋষিগণ উপলব্ধি করেছিলেন সাধনায় সিদ্ধি লাভকরতে হলে দেহ ও মনকে অবশ্যই সুস্থ রাখতে হবে। তাই তাঁরা দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার প্রক্রিয়া হিসেবে যোগাসন অনুশীলন করতেন।
দেহ ও মন হচ্ছে সাধনার উল্লেখযোগ্য উপকরণ। সুতরাং এ দুটো যাতে সুস্থ থাকে সেদিকে অবশ্যই যত্নবান হতে হবে। কেননা দেহ সুস্থ না থাকলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করা যায় না। আবার মনও যদি অস্থির, চঞ্চল থাকে সে অবস্থায় কোনো কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। এ সত্যটি প্রাচীনকালের ঋষিগণ গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তারা বলে গেছেন জাগতিক ও পারমার্থিক মঙ্গল লাভেব জন্য দেহ ও মনকে অবশ্যই সুস্থ রাখতে হবে। আর এজন্য যোগাসন অনুশীলন করা একান্ত প্রয়োজন। যোগাসন অনুশীলনে অঙ্গনের দেহ হবে নীরোগ আর মন হবে শান্ত। তখন নীরোগ দেহ ও শান্ত মন নিয়ে সাধনা করলে অবশ্যই অঙ্গন সাধনায় সিদ্ধিলাভ করতে পারবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
