প্রতিদিনের কাজকেই বলা হয় নিত্যকর্ম। যেমন- প্রতিদিন প্রভাতে সূর্য প্রণাম একটি নিত্যকর্ম। নিত্যকর্ম মেনে চললে একদিকে নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায় অপরদিকে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা যায়। ঈশ্বর আরাধনার একটি পদ্ধতি হচ্ছে যোগ। যোগ বলতে বোঝায় ভগবান ও তাঁর সত্যচেতনার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন। আসন হচ্ছে যোগের একটি অঙ্গ। স্থির ও সুখাবহ অবস্থিতির নামই আসন। যোগাসন অনুশীলনে কতগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হয়। তবেই এর সুফল পাওয়া যায়। নিয়মিত যোগাসন অনুশীলনে দেহকে বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে রাখা যায়।

ফলে শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ, সবল ও সুন্দর হয়ে ওঠে এবং মনও হয়ে ওঠে আনন্দ ও শান্তিময়। সুতরাং দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে আসনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই অধ্যায়ে নিত্যকর্ম ও যোগাসন সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- নিত্যকর্ম ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পারব;
- নিত্যকর্মের একটি মন্ত্র বা শ্লোক সরলার্থসহ বলতে এবং ব্যাখ্যা করতে পারব;
- জীবনাচরণে নিত্যকর্মের গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- যোগাসনের ধারণা, সাধারণ নিয়ম ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- শবাসন ও সিদ্ধাসনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে এবং অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
- শরীর-মন গঠনে শবাসন ও সিদ্ধাসনের গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- নিত্যকর্ম ও শবাসন অনুশীলন করতে উদ্বুদ্ধ হব;
- নিত্যকর্ম ও শবাসন অনুশীলন করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অর্ক কতকগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে নিয়মিত যোগাসন অনুশীলন করে। আসন অভ্যাসকালে সে বিশেষ পদ্ধতিতে শাস-প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করে।
এই পৃথিবী বিরাট কর্মক্ষেত্র। এখানে সকলকেই কিছু না কিছু কর্ম করতে হয়। কেননা জাগতিক কর্ম ছাড়া জীবন ধারণ করা যায় না। তাই কর্মকে জীবন এবং ধর্ম বলা যায়। আমরা প্রতিদিন যে সকল কাজ করে থাকি তাই 'নিত্যকর্ম'।
'নিত্য' অর্থ প্রত্যহ বা প্রতিদিন। 'কর্ম' মানে কাজ। সুতরাং শাব্দিক অর্থে নিত্যকর্ম বলতে বোঝায় প্রতিদিন যে কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রতিদিনের কর্মসূচি ঠিক করে নিয়মিতভাবে তা পালন করতে হয়। মোটকথা প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠে সারাদিন ধরে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে কাজ নিষ্ঠার সাথে পালন করা হয় সেগুলোকে নিত্যকর্ম বলে ।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঈশ্বর ও গুরুর নাম স্মরণ করা, পিতামাকে প্রণাম করা, হাত মুখ ধুয়ে স্নান করে পূজা ও উপাসনা করা, লেখাপড়া, খেলাধুলা ও ব্যায়াম করা ইত্যাদি।
নিত্যকর্মের মন্ত্র:
প্রতিদিন প্রভাতে সূর্যপ্রণাম একটি নিত্যকর্ম। সূর্যকে নিম্নলিখিত মন্ত্রে প্রণাম জানাতে হয় : ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্ ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।
সরলার্থ: কশ্যপের পুত্র, জবা ফুলের মতো রক্তবর্ণ, মহাদ্যুতিময়, অন্ধকার দূরকারী, সর্বপাপ বিনাশকারী সূর্যকে আমি প্রণাম জানাই।

দলীয় কাজ:
|
নতুন শব্দ: জাগতিক, স্মরণ, সঙ্কাশং, কাশ্যপেয়ং, মহাদ্যুতিম্, ধ্বান্তারিং, সর্বপাপঘ্নং, প্রণতোহস্মি ।
নিত্যকর্ম করলে নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায়। সময়ের কাজ সময়ে শেষ হয়; কোনো কাজই একেবারে অসমাপ্ত পড়ে থাকে না। কাজে নিষ্ঠাবান হওয়া যায় এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম, খেলাধুলা এবং আহার গ্রহণে শরীর ভালো থাকে। শরীর সুস্থ থাকলে মন ভালো থাকে। মন ভালো থাকলে পরিবেশকে ভালো লাগে এবং সকল কাজে ধৈর্যের সাথে মনোনিবেশ করা যায়। নিয়মিত পিতা-মাতাকে প্রণাম করলে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি সুগভীর হয়। মানুষের প্রতি প্রীতি জন্মে। নিয়মিত অধ্যয়ন করলে ভালো ফলাফল করা যায়। জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং জীবনে সফলতা আসে। নিয়মিত পূজা ও উপাসনা দ্বারা ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তিকে সন্তুষ্ট করা হয়। তাই আমরা গৃহে দেবতার বিগ্রহ বা প্রতিমা স্থাপন করে প্রতিদিন পূজা করি।
আবার বিশেষ বিশেষ সময়ে বিশেষ বিশেষ দেবতার পূজা করি। এভাবে নিয়মিত পূজা ও উপাসনার ফলে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি সুগভীর হয় এবং ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা যায়।
আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত একটি সুন্দর জীবন যাপনের পথ অনুসন্ধান করা। সুতরাং আমরা নিত্যকর্মের নিয়মাবলি মেনে চলব এবং নিজের কাজে নিষ্ঠাবান থাকব। আমাদের হৃদয়ে থাকবে সুগভীর ঈশ্বরভক্তি।
দলীয় কাজ:
|
নতুন শব্দ: নিষ্ঠাবান, সমৃদ্ধ, সান্নিধ্য, ধৈর্য, প্রীতি, অধ্যয়ন, অনুসরণ।
ঈশ্বর আরাধনার একটি পদ্ধতি হচ্ছে 'যোগ'। সাধারণভাবে 'যোগ' শব্দের অর্থ হচ্ছে কোনো কিছুর সঙ্গে অন্য কিছু যুক্ত করা। ধর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে এর অর্থ হচ্ছে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার বা ঈশ্বরের যোগসাধন করা। 'যোগ' শব্দটি সংস্কৃত 'যজ্' ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর প্রধান অর্থ হলো মিল। যোগক্রিয়া জীবাত্মা পরমাত্মার মিলন ঘটায়। আবার চিত্ত নিবৃত্তির এক নাম হলো যোগ। যোগ দর্শনের প্রণেতা মহর্ষি পতঞ্জলি 'যোগ' শব্দের অর্থ করেছেন চিত্তবৃত্তি নিরোধ। সুতরাং যোগ বলতে বোঝায়, চিত্তবৃত্তি নিরোধ করে নিষ্কামভাবে ভগবানের সঙ্গে ও তাঁর সত্য চেতনার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।
যোগের আটটি অঙ্গ। যথা-
১। যম যম মানে সংযমী হওয়া।
২। নিয়ম - শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়া। নিয়মিত ও পরিমিত স্নান, আহার ও বিশ্রাম করা।
৩। আসন বিশেষ ভঙ্গিতে বসাকে আসন বলে।
৪। প্রাণায়াম শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিকে প্রাণায়াম বলে।
৫। প্রত্যাহার - মনকে বহির্মুখী হতে না দিয়ে অন্তর্মুখী করাকে প্রত্যাহার বলে।
৬। ধারণা কোনো এক বিষয়ে মনকে একাগ্র করা।
৭। ধ্যান কোনো এক বিষয়ে মনের অবিচ্ছিন্ন চিন্তা।
৮। সমাধি ধ্যানস্থ অবস্থায় মন যখন ইষ্টচিন্তায় সম্পূর্ণভাবে নিমগ্ন থাকে তখন সে অবস্থাকে বলা হয় সমাধি।
| একক কাজ যোগের অঙ্গগুলো ধারাবাহিকভাবে লেখ। |
আসন যোগের তৃতীয় অঙ্গ। স্থিরসুখমাসনম্ স্থির ও সুখাবহ অবস্থিতির নামই আসন। সুতরাং যোগ অভ্যাস করার জন্য যেভাবে শরীরকে রাখলে শরীর স্থির থাকে অথচ কোনো কষ্টের কারণ ঘটে না, তাকে যোগাসন বলে। ঈশ্বর আরাধনার ক্ষেত্রে দেহ এবং মন উভয়েরই গুরুত্ব রয়েছে। দেহকে আশ্রয় করে ধর্ম সাধনা অগ্রসর হয়। তাই দেহকে সুস্থ রাখা সাধনার পূর্বশর্ত। আর যোগাসন হচ্ছে দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার একটি প্রক্রিয়া। সেজন্য প্রাচীনকালে মুনি-ঋষিগণ শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার উপায় হিসেবে যোগাসন অনুশীলনের বিধান দিয়ে গেছেন। যোগাসনের সংখ্যা অনেক, যেমন- শবাসন, সিদ্ধাসন, গোমুখাসন, সর্বাঙ্গাসন ইত্যাদি।
| একক কাজ: দেহ ও মনের সাথে যোগাসনের সম্পর্ক চিহ্নিত কর। |
নতুন শব্দ : জীবাত্মা, পরমাত্মা, যোগক্রিয়া, চিত্ত নিবৃত্তি, মহর্ষি, চেতনা, সংযমী, প্রাণায়াম, একাগ্র, অবিচ্ছিন্ন, আরাধনা, বিধান, প্রক্রিয়া, শবাসন, সিদ্ধাসন।
যোগাসনের সাধারণ নিয়ম:
যোগাসন অনুশীলন করতে হলে অবশ্যই কতগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন-
১। নিদিষ্ট সময় থাকা দরকার। সকাল ও সন্ধ্যায় যোগাসন অনুশীলন করা ভালো।
২। ভরা পেটে অথবা একেবারে খালি পেটে আসন অভ্যাস করা ঠিক নয়। সামান্য কিছু হালকা খাবার খেয়ে কিছুটা সময় পরে যোগাসন অভ্যাস করতে হবে।
৩। নরম বিছানার ওপর আসন অভ্যাস করা যাবে না। মেঝের উপর কম্বল, শতরঞ্জি বা ঐ জাতীয় কিছু বিছিয়ে আসন অনুশীলন করতে হবে।
৪। যোগাসন কোনো নির্জন স্থানে বা নিভৃত কক্ষে আলো বাতাস যুক্ত স্থানে করা দরকার, যেন কোনো বাধা বিপত্তি না আসে।
৫। আসন করার সময় আঁটসাঁট ভারি পোশাক না পরে ঢিলেঢালা হালকা পোশাক পরা উচিত।
৬। আসন অভ্যাস করার সময় মনকে ধীর, স্থির, শান্ত ও প্রফুল্ল রাখতে হয়।
৭। আসন অভ্যাসকালে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
৮। আসন অবস্থায় মুখে যেন কোনো বিকৃতি না আসে।
৯। আসন অভ্যাসকালে জোর করে বা ঝাঁকুনি দিয়ে কোনো ভঙ্গিমা বা প্রক্রিয়া করা ঠিক নয়।
১০। নিয়মানুযায়ী প্রত্যেকটি আসন করার পর শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।
| দলীয় কাজ: যোগাসনের নিয়মাবলির একটি তালিকা তৈরি কর। |
যোগাসনের গুরুত্ব:
নিয়মিত যোগাসনে দেহে স্থিরতা আসে, দেহ সুস্থ থাকে এবং দেহ লঘুভার হয়। আসন কোনো জিমন্যাস্টিক ব্যায়াম নয়, শুধুই দেহভঙ্গি। এ দেহভঙ্গিতে দেহের প্রতিটি পেশি, স্নায়ু ও গ্রন্থির ব্যায়াম হয়। তাতে দেহ ও মনের কর্মতৎপরতা, সুস্থিতি, সহিষ্ণুতা ও জীবনী শক্তি বৃদ্ধি পায়। আসনে দেহের গঠন সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়, দেহ বলশালী ও নমনীয় হয় এবং দেহ রোগমুক্ত থাকে। দেহের রক্ত প্রবাহ বিশুদ্ধ হয়। দেহের মেদ কমাতে, শীর্ণতা দূর করতে যোগাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করে। যোগাসন দেহের অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে। যোগাসনে আত্মা ও মন একই কেন্দ্রবিন্দুতে নিবদ্ধ হওয়ার ফলে চিত্তচাঞ্চল্য কমে। আসনের প্রকৃত গুরুত্ব এই যে, আসন মনকে বশে এনে ঊর্ধ্বলোকে নিয়ে যায়। যোগসাধক প্রথমে আসনের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য লাভ করেন তারপর তিনি অধ্যাত্মসাধনায় নিয়োজিত হন। তিনি তাঁর সমস্ত কর্ম ও ফল বিশ্বসেবায় ঈশ্বরে সমর্পণ করেন।
| দলীয় কাজ: যোগাসন অনুশীলনের প্রভাব লিখে একটি পোস্টার তৈরি কর। |
নতুন শব্দ: শতরঞ্জি, বিধেয়, প্রফুল্ল, বিকৃতি, লঘুভার, পেশি, স্নায়ু, গ্রন্থি, কর্মতৎপরতা, সুস্থিতি, সহিষ্ণুতা, নমনীয়, শীর্ণতা, অবসাদ, চিত্তচাঞ্চল্য, অধ্যাত্ম, সমর্পণ।
'শব' শব্দের অর্থ মৃতদেহ। মৃতব্যক্তির মতো নিষ্পন্দ ভাবে শুয়ে যে আসন করা হয় তার নাম শবাসন। মৃতব্যক্তির যেমন তার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর কোনো কর্তৃত্ব থাকে না, তেমনি শবাসন অবস্থায় আসনকারীর দেহের কোন অংশে তার কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। শবাসনের লক্ষ্য মৃতদেহের মতো নিশ্চল নিঃসাড় হয়ে শুয়ে থাকা, কিন্তু চেতনা হারানো নয়।

অনুশীলন পদ্ধতি :
মাটিতে চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি লম্বা করে দিতে হবে। পা দুটোর মধ্যে প্রায় এক ফুটের মতো ফাঁকা থাকবে এবং হাত দুটোকেও লম্বালম্বিভাবে শরীরের দু-পাশে উরু থেকে একটু দূরে রাখতে হবে। হাতের পাতা উপরের দিকে খোলা থাকবে। চোখ বন্ধ, ঘাড় সোজা, গোটা শরীর শিথিল অবস্থায় থাকবে। এবার ধীরে ধীরে চার পাঁচ বার লম্বা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করতে হবে। দৈনিক যোগাভ্যাসে কঠিন আসন করার পর বিশ্রামের জন্য এই আসন ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত করা উচিত। এছাড়া আলাদাভাবে অন্তত ১৫ মিনিট শবাসন করা প্রয়োজন।
| একক কাজ: শবাসন অনুশীলন করে দেখাও। |
শরীর শিথিলকরণ বা বিশ্রামের জন্য শবাসন যোগসাধনার একটি উপযুক্ত আসন। এতে সম্পূর্ণ শরীরে সুস্থবোধ হয়, স্নায়ুমণ্ডলী ও শিরা উপশিরাগুলো সম্পূর্ণ বিশ্রাম পায়, শরীর ও মনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ফলে শরীর, মন, মস্তিষ্ক এবং আত্মা পূর্ণ বিশ্রাম, শক্তি, উৎসাহ ও আনন্দ লাভ করে।
মানসিক টেনশন, বেশি বা কম রক্তচাপ, হৃদরোগ, পেটে গ্যাস, ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগ উপশমের ক্ষেত্রে শবাসন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার পীড়নে মানুষের স্নায়ুর উপর প্রচন্ড চাপ পড়ে, সেই চাপের সর্বোত্তম প্রতিষেধক শবাসন। অনিদ্রার জন্য এই আসন সর্বোত্তম। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ৫-৭ মিনিট বা তার বেশি এই আসন করে আস্তে আস্তে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম আসে। শরীর শিথিল করে দিয়ে বিশ্রাম করার এই কৌশল আয়ত্ত করলে ঘুমকেও জয় করা যায়। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার সময় আসনটি মানসিক চাপ কমাতে খুবই সহায়তা করে। অত্যধিক পড়াশুনার পর এই আসনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে অবসাদ, ক্লান্তি দূর হয়, নতুন উদ্যম ফিরে আসে, স্মৃতি শক্তিও বৃদ্ধি পায়। সাধকেরা এই আসনের সাহায্যে যোগনিদ্রা আয়ত্ত করে উচ্চস্তরের অনুভূতির রাজ্যে প্রবেশ করতে পারেন। এই আসনে ধ্যানের স্থিতির বিকাশ হয়। যে কোনো আসন অনুশীলনের পর শবাসনে বিশ্রাম নিতে হয়। আমরা যতক্ষণ একটি আসনের ভঙ্গিমায় থাকি তখন যতটা উক্ত আসনের উপকারিতা লাভ করি তার চেয়ে অনেক বেশি উপকৃত হই আসন অভ্যাসের পর শবাসন করে।
| দলীয় কাজ: শবাসনের উপকারিতা লিখে একটি পোস্টার তৈরি কর। |
নতুন শব্দ: নিশ্চল, নিঃসাড়, শিথিল, উপশম, পীড়ন, প্রতিষেধক, উদ্যম, যোগনিদ্রা।
সাধনায় সিদ্ধ যোগীদের মধ্যে বিশেষভাবে অনুসৃত হওয়ার ফলে এই আসনের নাম সিদ্ধাসন হয়েছে। এই আসনটি সিদ্ধ যোগীগণ প্রায়ই করতেন বা করেন। এটি দেখতে সাধুদের ধ্যানের মতো। সেজন্য এই আসনকে সিদ্ধাসন বলা হয়।
অনুশীলন পদ্ধতি:
সামনের দিকে পা ছড়িয়ে শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড সোজা করে বসতে হবে। এবার ডান পা হাঁটু থেকে গোড়ালি দু-পায়ের সংযোগ স্থলে স্পর্শ করে রাখতে হবে। তারপর বাঁ পা হাঁটু ভেঙ্গে ডান পায়ের উপর রাখতে হবে। দু-পায়ের গোড়ালি তলপেটের নিচে লেগে থাকবে। এবার হাত দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। হাতের তালু উপর দিকে করে ডান হাতের কব্জি ডান হাঁটুর উপর আর বাঁ হাতের কব্জি বাঁ হাটুর উপর রাখতে হবে। দু-হাতের বুড়ো আঙুল আর তর্জনী ছোঁয়াতে হবে। অন্য আঙুলগুলো সোজা থাকবে। তারপর পিঠ, ঘাড় আর মাথা সোজা রেখে চোখ বন্ধ করে দুই-ভুয়ের মাঝে মনকে একাগ্র করার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। পা বদল করে আসনটি পাঁচ মিনিট অনুশীলন করতে হবে। শেষে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।
| একক কাজ: সিদ্ধাসন অনুশীলন পদ্ধতি ধারাবাহিকভাবে বল এবং বোর্ডে লেখ। |
সিদ্ধাসনে শরীরের বিশ্রাম হয়। এই আসনে বসে থাকার ফলে শরীর যেমন বিশ্রাম পায়, তেমনি দুই পা আড়াআড়ি আর পিঠ সোজা থাকার ফলে মন স্থির ও তৎপর থাকে। হাঁটু আর গোড়ালির গাঁট শক্ত হয়ে গেলে এই আসনে উপকার পাওয়া যায়। এই আসনে কটিদেশে আর উদরাঞ্চলে ভালো রক্তসঞ্চালন হয় এবং এর ফলে মেরুদণ্ডের নিম্নভাগ আর পেটের ভেতরকার প্রত্যঙ্গগুলো সতেজ ও সবল হয়। কোমর ও হাঁটুর সন্ধিস্থল সবল হয়। এই আসন অভ্যাসে উদরাময়, হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি প্রভৃতি রোগ দূর হয়। অর্শ রোগে এই আসন অত্যন্ত ফলপ্রদ। সিদ্ধাসনে বসে জপ, প্রাণায়াম ও ধ্যানধারণাদি অভ্যাস করলে সহজে ও অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধিলাভ করা যায়।
| দলীয় কাজ: সিদ্ধাসন অনুশীলনের উপকারিতা লিখে একটি পোস্টার তৈরি কর। |
নতুন শব্দ : অনুসৃত, সংযোগ, তর্জনী, গাঁট, কটিদেশ, উদরাঞ্চল, সতেজ, সন্ধিস্থল, উদরাময়, অর্শরোগ, ফলপ্রদ, সিদ্ধিলাভ।
Read more