ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
বাংলার নীল চাষিরা যখন নীল চাষের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে, তখন ব্রিটিশ সরকার নীল চাষকে ঐচ্ছিক ঘোষণা করার প্রেক্ষাপটে যে কমিশন গঠন করেন, তাই ইন্ডিগো কমিশন। ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো বা নীল কমিশন গঠন করেন। এই কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছাধীন বলে ঘোষণা করা হয় এবং ইন্ডিগো কন্ট্রাক্ট বাতিল করা হয়। ফলে এর পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়।
উদ্দীপকের কমল ব্যানার্জির কর্মকাণ্ড ইতিহাসের মহান সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
মধ্যযুগের ভারতবর্ষের ইতিহাসে, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায় এক অনন্য নাম। তিনি কুসংস্কারে আচ্ছাদিত ভারতবর্ষের উত্তরণে অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছেন। এজন্য তাকে ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ বলা হয়। রাজা রামমোহন রায় ভারতের উন্নয়নে তথা প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সমসময়ই সোচ্চার ছিলেন। একারণে তিনি ভারতে প্রচলিত নিষ্ঠুর সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। সতীদাহ প্রথা ছিল এমন একটি প্রথা, যেখানে মৃত স্বামীর সঙ্গে জীবিত বিধবা স্ত্রীকেও সহমরণে যেতে হত। রামমোহন রায় উপলব্ধি করেছিলেন এটি একটি অমানবিক ও চরম ঘৃণ্য প্রথা।
তাই তিনি এ প্রথা রহিতকরণে জোর প্রচেষ্টা চালান এবং তারই প্রচেষ্টার কারণে ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক কর্তৃক সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করা হয়।
উদ্দীপকের নাটকে দেখা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর জীবন্ত স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় পোড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে বাধ সাধেন এলাকার ব্রাহ্মণ পণ্ডিত কমল ব্যানার্জি। কমল ব্যানার্জির সাথে পূর্বে আলোচিত রাজা রামমোহন রায়ের মিল রয়েছে, যিনি সতীদাহ প্রথা বিলোপসাধনে ভূমিকা পালন করেছেন। তাই বলা যায়, কমল ব্যানার্জির কর্মকান্ড রাজা রামমোহন রায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে জগদীশ চৌধুরী দ্বারা ইতিহাসের মহান ব্যক্তি ও সফল সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নির্দেশ করা হয়েছে। আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে এ মহান ব্যক্তির ভূমিকা অপরিসীম।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সফল সমাজ সংস্কারক ছিলেন। এ দেশে প্রচলিত নানা ধরনের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়ান। তিনি কন্যা শিশু হত্যা, বাল্যবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। বিধবা বিবাহ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি নিজ ছেলেকে বিধবা মহিলার সঙ্গে বিবাহ দেন। যেমনটি উদ্দীপকে জগদীশ চৌধুরীর ক্ষেত্রেও দেখা যায়। সর্বোপরি তার নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ সালে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারের অংশ হিসেবে শিক্ষা বিস্তারেও অসাধারণ কৃতিত্ব রেখেছেন। সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তিস্থাপন এবং নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে তিনি গ্রামে-গঞ্জে ২০টি মডেল স্কুল ও ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি বাংলা গদ্যসাহিত্যকে নবজীবন দান করেছেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহান ব্যক্তিদের নিরলস শ্রম ও প্রচেষ্টার কারণেই আধুনিক সমাজ বিনির্মিত হয়েছে।
Related Question
View Allরাজা রামমোহন রায়কে ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ বলা হয়।
ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতি থেকে মুক্ত করাই ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
মূলত মক্কা থেকে দেশে ফিরে হাজী শরীয়তউল্লাহ বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানেরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। মুসলমানদের মধ্যে অনৈসলামিক আচার-আচরণ, অনুষ্ঠান, অনাচার প্রবেশ করেছে। ইসলাম ধর্মকে এসব অনাচারমুক্ত করাই ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো আমার পাঠ্যপুস্তকের 'নীল বিদ্রোহের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ব্রিটেনের নীলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলার ইংরেজ বণিকগণ এদেশের কৃষকদের নীলচাষে বাধ্য করে। তারা কৃষকদের নীলচাষের জন্য অগ্রীম অর্থ গ্রহণে (দাদন) বাধ্য করত। আর একবার এ দাদন গ্রহণ করলে সুদ- আসলে কৃষকরা যতই ঋণ পরিশোধ করুক না কেন, বংশ পরম্পরায় কোনো দিনই ঋণ শেষ হতো না। নীলকরদের কাছ থেকে নীলচাষিদের প্রাপ্ত মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। অবশেষে নীলচাষিরা নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। যশোরে এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব। তাছাড়াও হুগলী এবং নদিয়ার নীলচাষিরাও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে আমরা দেখি যে, কৃষকদের প্রাপ্ত মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তামাক চাষিরা কোম্পানির রাহুগ্রাস থেকে বের হতে না পেরে করিম ও জলিলের নেতৃত্বে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এ বিষয়গুলোর সাথে বাংলার নীল বিদ্রোহের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি অর্থাৎ নীল বিদ্রোহ কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ছিল বলে আমি মনে করি।
ব্রিটিশ কোম্পানির লোকজন এদেশের কৃষকদের নীলচাষে বাধ্য করত এবং নানা ধরনের নির্যাতন, শোষণ ও অত্যাচার করত। শেষ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া চাষিরা ১৮৫৯ সালে প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়ে। যশোর হুগলী, নদীয়াতে বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে ওঠে। কৃষকরা নীলচাষ না করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। অবশেষে বাংলার সংগ্রামী কৃষকদের জয় হয়।
১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন গঠন করে। এ কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে নীলচাষকে কৃষকদের 'ইচ্ছাধীন' বলে ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া নীলকর কর্তৃক আরোপিত 'ইন্ডিগো কন্ট্রাক্ট' বাতিল করা হয়। এর ফলে কৃষকরা তাদের স্বাধীনতা ফিরে পায়। তারা তাদের জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পায়। ফলে তারা জমিতে লাভজনক ফসল উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়।
উদ্দীপকের রূপপুর অঞ্চলের জনগণ তামাক চাষের কারণে কোম্পানির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারে না। এ অবস্থায় তারা আন্দোলন গড়ে তোলে। আর এ আন্দোলনে নীল বিদ্রোহের প্রতিফলন দেখা যায়। বস্তুত ব্রিটিশদের কঠোর শাসনের যাতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বাঙালি চাষিদের যখন নাভিশ্বাস বইছে তখন তারা তাদের স্বার্থ রক্ষায় নীল বিদ্রোহ করে। এ বিদ্রোহ ছিল তৎকালীন কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ও শতভাগ যুক্তিযুক্ত।
তাই বলা যায়, নীল বিদ্রোহের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের স্বার্থরক্ষা হয়েছিল।
'The Spirit of Islam' বইটির লেখক হচ্ছেন সৈয়দ আমির আলি।
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' গঠনের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষা।
সৈয়দ আমির আলি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের দাবি দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কলকাতায় 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!